Simple Neon Stand Up Comedy Show Youtube Thumbnail

পেশাগত সফলতার চাবিকাঠি সফট স্কিলস

আজকের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু টেকনিক্যাল স্কিল থাকলেই হবে না, দরকার সফট স্কিলস! একজন পেশাদার হিসেবে আপনার যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, নেতৃত্বদানের দক্ষতা, এবং পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকলে, আপনি সহজেই অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে পারবেন।

🚀 আপনি কি জানেন?

✅ ৮৫% ক্যারিয়ার সফলতা নির্ভর করে সফট স্কিলসের উপর, আর মাত্র ১৫% নির্ভর করে টেকনিক্যাল স্কিলের উপর। (Harvard University Study)

✅ শীর্ষ নিয়োগকারীরা প্রার্থী বাছাই করার সময় যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান এবং নেতৃত্বের দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। (LinkedIn Workplace Learning Report)

✅ দীর্ঘমেয়াদে ৭৫% চাকরির সফলতা নির্ভর করে সফট স্কিলসের উপর, একাডেমিক জ্ঞানের উপর নয়। (Stanford Research Institute)

তাই যদি আপনি আপনার ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে চান, প্রমোশন পেতে চান, এবং একজন সফল লিডার হতে চান, তাহলে সফট স্কিলস দক্ষতা বাড়ানোই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত।


কেন সফট স্কিলস এত গুরুত্বপূর্ণ?

🔹যোগাযোগ দক্ষতা: পেশাদার উন্নতির মূল ভিত্তি একটি দারুণ আইডিয়া থাকলেই হবে না, সেটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীর (salesperson) ৩টি গুণ দ্রুত ক্লায়েন্টদের রাজি করাতে পারেন, যদি তার যোগাযোগ দক্ষতা ভালো হয়।

🔹সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধান: কোনো কোম্পানি এমন কর্মী চায়, যারা সমস্যা বুঝতে পারে, বিশ্লেষণ করতে পারে এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে পারে।গুগল কর্মী নিয়োগের সময় দেখে না তারা কী জানে না, বরং কীভাবে চিন্তা করে সেটাই বেশি গুরুত্ব দেয়।

🔹ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (EQ): সফল লিডারের গোপন অস্ত্র মানুষ কোম্পানি ছাড়ে না, খারাপ বসদের জন্য কোম্পানি ছাড়ে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (EQ) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা অনুযায়ী যেসব লিডারের EQ বেশি, তারা ৫৮% বেশি সফল ম্যানেজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

🔹পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা (Adaptability & Resilience): টিকে থাকার কৌশল নিয়েই বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি, নতুন ট্রেন্ড—সবকিছুই প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। যারা দ্রুত নতুন পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে, তারাই ভবিষ্যতের বিজয়ী। বর্তমানে প্রচলিত ৪০% চাকরি আগামী ১০ বছরে বিলুপ্ত হতে পারে। তাই টিকে থাকতে হলে, নতুন দক্ষতা শিখতেই হবে!

🔹উপস্থাপনা ও পাবলিক স্পিকিং: আত্মবিশ্বাসের চাবিকাঠি আপনার আইডিয়াগুলো যদি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারেন, তাহলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। ভালো প্রেজেন্টেশন স্কিল থাকলে প্রমোশন, নেতৃত্বের সুযোগ, এবং ক্লায়েন্টদের আস্থা অর্জন করা সহজ হয়। স্টিভ জবস প্রতিটি প্রেজেন্টেশনের জন্য ২০+ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করতেন! প্রস্তুতির গুরুত্ব এখান থেকেই বোঝা যায়।


BSDI-এর “Diploma in In-Demand Professional Soft Skills” কোর্স

আপনার ক্যারিয়ারে সফট স্কিলসকে মাস্টারি করতে Bangladesh Skill Development Institute (BSDI) নিয়ে এসেছে Diploma in In-Demand Professional Soft Skills।

📌 কোর্সের বিবরণ:

✅ সময়কাল: ৮ সপ্তাহ | ১৬ সেশন | প্রতি সেশন ৪ ঘণ্টা

✅ শেখার পদ্ধতি: কেস স্টাডি, গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি এবং বাস্তবিক প্রয়োগ

🔹আপনি যা শিখবেন: ✔️ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট – অফিসের চ্যালেঞ্জ সহজে সামলানোর কৌশল ✔️ যোগাযোগ ও পাবলিক স্পিকিং – আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলা ও উপস্থাপনা ✔️ সমস্যা সমাধান ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা – কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশল ✔️ টাইম ম্যানেজমেন্ট ও প্রোডাক্টিভিটি হ্যাকস – সময়কে স্মার্টভাবে ব্যবহার করা ✔️ দলবদ্ধ কাজ ও নেতৃত্ব – কার্যকর টিমওয়ার্ক এবং লিডারশিপ স্কিল ✔️ নেগোশিয়েশন ও কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট – অফিসের বিতর্ক ও সমস্যা সমাধানের কৌশল ✔️ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো – ক্যারিয়ারের জন্য নতুন পরিবর্তনকে সহজ করা


কে এই কোর্স করতে পারবেন?

🎯 সেলস ও মার্কেটিং পেশাজীবী – নেগোশিয়েশন ও কমিউনিকেশন স্কিল উন্নত করতে 🎯 শিক্ষক ও প্রশিক্ষকগণ – ছাত্রদের সাথে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে 🎯 ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট ও নতুন এক্সিকিউটিভরা – চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত হতে 🎯 মিড-লেভেল এক্সিকিউটিভ ও ম্যানেজাররা – নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা উন্নত করতে

💡 বোনাস: সফলভাবে কোর্স শেষ করলে BSDI ও HRDI, Daffodil International University-এর সার্টিফিকেট পাবেন, যা আপনার ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখবে।


আপনার প্রশিক্ষক: কে এম হাসান রিপন

কে এম হাসান রিপন একজন সফট স্কিলস প্র্যাকটিশনার, এমপ্লয়েবিলিটি এক্সপার্ট, এবং কর্পোরেট ট্রেইনার। ২৫+ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি বহু আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, হাজারো পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, এবং সফট স্কিলস উন্নত করার মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে সাহায্য করেছেন।


🎤 শিল্প বিশেষজ্ঞ ও আমন্ত্রিত বক্তারা

এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীরা শিল্প বিশেষজ্ঞ, HR লিডার ও কর্পোরেট প্রশিক্ষকদের সাথে সরাসরি শেখার সুযোগ পাবেন।

আমাদের নিশ্চিত এবং সম্ভাব্য অতিথি বক্তাদের মধ্যে থাকবেন:

🔹 HR ও ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞরা – বহুজাতিক কোম্পানি ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা, যারা কর্মী উন্নয়ন ও নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করেন।

🔹 খ্যাতনামা কর্পোরেট প্রশিক্ষক ও নেগোশিয়েশন বিশেষজ্ঞরা – অফিসে যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং কৌশলী আলোচনা (negotiation) শেখানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা।

🔹 সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক নেতারা – যারা ব্যবসায় টিকে থাকা ও সফল হওয়ার কৌশল, মার্কেট পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর উপায় এবং কাস্টমারকে প্রভাবিত করার কৌশল শেয়ার করবেন।

🔹 সেলস ও মার্কেটিং ডিরেক্টররা – বিক্রয় কৌশল, মার্কেটিং স্ট্রাটেজি, নেটওয়ার্কিং ও সফল নেগোশিয়েশন নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন।

🔹 টেকনোলজি ও ইনোভেশন বিশেষজ্ঞরা – সফট স্কিলস কিভাবে ক্যারিয়ার গঠনে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে কীভাবে টিকে থাকতে হয়, তা নিয়ে আলোচনা করবেন।


কেন এই কোর্স আপনার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

🚀 আপনার আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করুন – পাবলিক স্পিকিং ও উপস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করুন 🚀 সমস্যা সমাধানের বিশেষজ্ঞ হন – সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও লজিক্যাল চিন্তা করতে শিখুন 🚀 লিডারশিপ ও টিমওয়ার্ক শিখুন – দলে কাজ করার ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করুন 🚀 ক্যারিয়ারে এগিয়ে যান – প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নিজেকে প্রস্তুত করুন 🚀 সাক্ষাৎকার ও প্রমোশনে সফলতা অর্জন করুন – সফট স্কিলস আপনাকে এগিয়ে রাখবে


আপনার ক্যারিয়ার উন্নত করতে চান? আজই ভর্তি হন!

📌 কোর্স রেজিস্ট্রেশন: ✅ ইমেইল: [email protected] ✅ ওয়েবসাইট: http://pdc.bsdi-bd.org ✅ফোন: +88 01713-493-206 ✅ আসন সংখ্যা সীমিত – আজই বুক করুন!

📢 সফট স্কিলসই ভবিষ্যৎ! আজই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন! 🚀

Orange White Modern Daily Podcast YouTube Thumbnail (2)

সফট স্কিলস কি আমাদের রোবট বা AI-এর হাত থেকে বাঁচাতে পারবে?

বর্তমান দুনিয়া দ্রুত বদলাচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ও রোবট আমাদের জীবনের অনেক কাজ সহজ করে দিচ্ছে। অনেক চাকরির ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি আস্তে আস্তে মানুষের কাজ দখল করছে। তাহলে কি আমরা সবাই একদিন রোবটের কারণে চাকরি হারাবো?

উত্তর সহজ—না, যদি আমরা সফট স্কিলস বা মানবিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিই।

সফট স্কিলস বলতে এমন দক্ষতাগুলোকে বোঝায়, যা কেবল মানুষের মধ্যেই থাকে এবং যা কোনো রোবট বা AI এখনো পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারে না। যেমন—যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান, এবং সহানুভূতি

আপনি যদি পেশাগত জীবনে এগিয়ে থাকতে চান, তাহলে এই সফট স্কিলস গুলো রপ্ত করা খুবই জরুরি। আসুন, এই দক্ষতাগুলোর গুরুত্ব এবং বাস্তব জীবনে এদের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করি।


১. যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skills) – মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি

আপনার যদি ভালো যোগাযোগ দক্ষতা না থাকে, তাহলে আপনি যত দক্ষই হোন না কেন, আপনার প্রতিভা অন্যদের বোঝাতে পারবেন না।

ধরুন, আপনি একটি দারুণ আইডিয়া বের করলেন যা কোম্পানির বিক্রয় দ্বিগুণ করতে পারে। কিন্তু যদি আপনি সেই আইডিয়াটি স্পষ্টভাবে বোঝাতে না পারেন, তাহলে সেটি কাজে আসবে না। এখন প্রশ্ন হলো এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকলে আপনি সহকর্মীদের সাথে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।

  • গ্রাহকদের সঙ্গে সহজেই সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব হবে।

  • আপনার কথা মানুষ মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং আপনার নেতৃত্ব মেনে চলবে।

কীভাবে উন্নতি করবেন?

  • আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার অনুশীলন করুন।

  • পরিষ্কার ও স্পষ্টভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

  • ভালো বক্তাদের বক্তব্য শুনুন এবং শিখুন।


২. সৃজনশীলতা (Creativity) – রোবট যা পারে না!

রোবট অনেক কাজ দ্রুত করতে পারে, কিন্তু তাদের কোনো নতুন ধারণা তৈরি করার ক্ষমতা নেই। মানুষের সৃজনশীলতা বা ক্রিয়েটিভিটি এমন একটি গুণ, যা কখনোই পুরোপুরি AI দ্বারা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

একজন গ্রাফিক ডিজাইনার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর যদি সৃজনশীল না হন, তাহলে তার কাজ অন্যদের থেকে আলাদা হবে না। কিন্তু একজন সৃজনশীল ব্যক্তি তার চিন্তার মাধ্যমে এমন কিছু তৈরি করতে পারেন যা মানুষকে আকর্ষণ করবে। এখন প্রশ্ন হলো এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • নতুন সমস্যার নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।

  • যেকোনো কাজকে আকর্ষণীয় ও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়।

  • ব্যবসা বা চাকরিতে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে।

কীভাবে উন্নতি করবেন?

  • প্রতিদিন কিছু নতুন চিন্তা করুন বা লিখে রাখুন।

  • নতুন বই পড়ুন, ভ্রমণ করুন, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করুন।

  • সমস্যা দেখলেই সমাধানের নতুন উপায় ভাবার চেষ্টা করুন।


৩. সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking) – সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা

AI দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু এটি অবস্থার গভীরতা ও নৈতিক দিক বুঝতে পারে না। মানুষের সমালোচনামূলক চিন্তা করার ক্ষমতা আছে, যা সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।

ধরুন, আপনি একজন ম্যানেজার। কোম্পানির বিক্রয় কমে গেছে, এবং আপনাকে কারণ বের করতে হবে। আপনি যদি সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ব্যবহার করেন, তাহলে বিশ্লেষণ করে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে পারবেন এবং উপযুক্ত সমাধান দিতে পারবেন। এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

  • বিভিন্ন সমস্যা বিশ্লেষণ করে সঠিক সমাধান খুঁজতে সাহায্য করে।

  • কল্পনাশক্তি ও লজিক্যাল চিন্তাভাবনার উন্নতি ঘটায়।

কীভাবে উন্নতি করবেন?

  • যেকোনো সমস্যাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অভ্যাস করুন।

  • নতুন নতুন বিষয়ে জানতে ও চিন্তা করতে ভালোবাসুন।

  • যুক্তিসঙ্গত ও তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করুন।


৪. সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving) – প্রতিদিনের অস্ত্র

AI শুধু নির্দিষ্ট ডেটা ব্যবহার করে কাজ করে, কিন্তু নতুন সমস্যার সমাধান বের করা মানুষের সহজাত দক্ষতা।

ধরুন, আপনি একজন কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ। একজন গ্রাহক অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়েছে। AI হয়তো পুরনো ডেটা অনুযায়ী উত্তর দেবে, কিন্তু আপনি পরিস্থিতি বুঝে নতুন সমাধান দিতে পারবেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • কাজের জটিলতা সহজ করতে সাহায্য করে।

  • যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

  • কর্মজীবনে সমস্যার সমাধান করে সফলতা এনে দেয়।

কীভাবে উন্নতি করবেন?

  • যেকোনো সমস্যা নিয়ে ভাবুন এবং তার সম্ভাব্য সমাধান লিখে রাখুন।

  • বিভিন্ন ধরনের সমস্যার উদাহরণ বিশ্লেষণ করুন।

  • বাস্তব জীবনে সমস্যার সমাধান খোঁজার অভ্যাস গড়ে তুলুন।


৫. সহানুভূতি (Empathy) – মানুষ যা রোবট নয়!

মানুষের মধ্যে সহানুভূতি বা অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা আছে, যা কোনো রোবটের নেই।

ধরুন, একজন কর্মচারী অফিসে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মনমরা হয়ে আছে। একজন ভালো লিডার তার অবস্থাটা বুঝতে পারবেন এবং তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবেন। কিন্তু রোবট এটি বুঝতে পারবে না। কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • ভালো সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে।

  • কর্মস্থলে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।

  • মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে।

কীভাবে উন্নতি করবেন?

  • অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

  • মানুষের অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল হোন।

  • অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা গড়ে তুলুন।


সবশেষে বলবো সফট স্কিলসই ভবিষ্যৎ

AI ও রোবট হয়তো আমাদের জীবনের অনেক কাজ সহজ করে দিচ্ছে, কিন্তু সফট স্কিলস ছাড়া ভবিষ্যতের কর্মজগতে টিকে থাকা কঠিন হবে।

আপনার সফট স্কিলস উন্নত করুন, কারণ একমাত্র মানুষই পারে মানুষের মতো চিন্তা করতে, অনুভব করতে, এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করতে।

আপনার মতামত জানান, আপনার কোন সফট স্কিলস সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে?

📧 ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও সফট স্কিল প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করুন: ✉️ Email: [email protected] 🌐 Visit: kmhasanripon.info 🚀

Orange White Modern Daily Podcast YouTube Thumbnail (1)

7 Proven Tips to Kickstart 2025 for Guaranteed Professional Growth

Are you ready to transform your career and make 2025 your most successful year yet? Taking on a 90-day smart challenge can help you enhance your reach, build a solid professional reputation, and improve your income and savings. These first three months are pivotal in setting the momentum for the rest of the year, and with a clear plan, you can achieve noticeable results.

Here’s a step-by-step guide with 7 actionable ideas to help you get started:


1. Set Clear Goals (Start on Day 1)

Success begins with setting specific, achievable goals. Spend some time outlining what you want to accomplish in 2025.

  • Write Down Your Goals: Examples could include growing your LinkedIn network by 500 connections, saving 10% of your income, or starting a side hustle.
  • Break It Down: Divide your yearly goals into smaller, actionable steps for each month to track progress.

“When you know where you’re heading, every step becomes more meaningful.”


2. Polish Your Personal Brand

Your personal brand is your professional identity. It’s how people perceive you in your field, so make sure it aligns with your career ambitions.

  • Update Your LinkedIn Profile: Add your latest achievements, certifications, and skills.
  • Share Your Expertise: Post weekly insights or articles to showcase your knowledge.
  • Network Actively: Join relevant industry groups or attend virtual and in-person events.

“Your reputation is your career currency—invest in it wisely.”


3. Learn a High-Demand Skill

Adding an in-demand skill to your toolkit can significantly boost your value in the job market.

  • Identify the Right Skill: Choose one relevant to your field, like data analysis, public speaking, or advanced Excel.
  • Take Online Courses: Platforms like Coursera, Udemy, or LinkedIn Learning offer excellent training options.
  • Apply It Immediately: Use the skill in your current role or side projects to gain confidence.

“The more skills you have, the more valuable you become.”


4. Build Multiple Streams of Income

Diversifying your income is a smart way to increase financial security and build wealth.

  • Freelance Your Skills: Offer services on platforms like Fiverr or Upwork.
  • Monetize Your Expertise: Start consulting or teaching in your area of expertise.
  • Invest Wisely: Look into mutual funds, stocks, or other options that align with your financial goals.

“Income diversification isn’t just smart—it’s necessary for financial security.”


5. Track Your Spending and Start Saving

Managing your finances is key to long-term growth. Take control of your money in the first quarter of 2025.

  • Create a Budget: List your monthly income and expenses to find areas where you can save.
  • Reduce Unnecessary Costs: Cut back on spending that doesn’t add value to your life or career.
  • Save Automatically: Set up an automatic system to transfer a portion of your income to savings.

“It’s not about how much you earn, but how much you keep.”


6. Find a Mentor or Accountability Partner

Guidance and accountability can fast-track your growth.

  • Identify a Mentor: Reach out to someone experienced in your field for advice.
  • Stay Accountable: Partner with a colleague or friend to track progress and stay motivated.
  • Join a Community: Participate in groups or forums where people share similar goals.

“Success is easier when someone is guiding or cheering you on.”


7. Reflect and Adjust Monthly

Reflection is an essential part of growth. Take time at the end of each month to evaluate your efforts.

  • Celebrate Small Wins: Acknowledge every milestone you achieve.
  • Learn from Mistakes: Understand what didn’t work and how to improve.
  • Revise Your Plan: Adjust your goals and strategies based on your learnings.

“Reflection turns experience into wisdom.”


Let’s Start 2025 the Smart Way

The first 90 days of 2025 can set a strong foundation for your career. By focusing on clear goals, improving your personal brand, practicing financial discipline, and learning new skills, you’ll see tangible growth in your reach, reputation, and income.

Are you ready to take the challenge? Let’s make 2025 a year of growth and success!

📧 Need personalized career coaching or professional training?
Contact us at [email protected] or visit kmhasanripon.info to learn more.

🚀 Unlock your full potential—start today!

Orange White Modern Daily Podcast YouTube Thumbnail

৯০ দিনের স্মার্ট চ্যালেঞ্জঃ ৭টি টিপস মেনে চলুন ২০২৫ সালকে সাফল্যময় করতে

২০২৫ সালকে আপনার ক্যারিয়ারের সেরা বছর বানাতে আপনি কি প্রস্তুত? চলুন একটি ৯০ দিনের স্মার্ট চ্যালেঞ্জ নিই যা আপনার পেশাগত পরিধি, খ্যাতি, আয় এবং সঞ্চয় বাড়াতে সাহায্য করবে। এই তিনটি মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সঠিক পরিকল্পনা আপনার পুরো বছরের পথ নির্ধারণ করে দিতে পারে।

আমি ৭টি সহজ এবং কার্যকর পদক্ষেপ উল্লেখ করছি, যা আপনি ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে বাস্তবায়ন করতে পারেন:


১. পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারন করুন (প্রথম দিন থেকেই শুরু করুন)

কোনো কিছু করার আগে, সময় নিয়ে নিজের জন্য একটি পরিষ্কার এবং বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করুন। ২০২৫ সালে আপনি কী অর্জন করতে চান? ক্যারিয়ার, খ্যাতি এবং আর্থিক লক্ষ্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট হোন।

  • লক্ষ্য লিখুন: যেমন, আপনার লিংকডইনে ১0০০ নতুন কানেকশন তৈরি করুন, আয়ের ১০% সঞ্চয় করুন, বা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করুন।
  • লক্ষ্যকে ছোট ছোট খন্ডে ভাগ করে নিন: আপনার পুরো বছরের লক্ষ্য ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিন।

“আপনি যখন জানেন কোথায় যেতে চান, তখন প্রতিটি পদক্ষেপ অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।”


২. আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডকে উন্নত করুন

আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড মানে অন্যরা আপনাকে পেশাগতভাবে কীভাবে দেখে। এখন থেকেই আপনার ব্র্যান্ড এমনভাবে গড়ে তুলুন, যা আপনার ক্যারিয়ারের লক্ষ্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  • লিংকডইন প্রোফাইল আপডেট করুন: সাম্প্রতিক অর্জন, দক্ষতা এবং সার্টিফিকেশন যোগ করুন।
  • জ্ঞান শেয়ার করুন: সপ্তাহে একবার ব্লগ বা ভিডিও বা আর্টিকেল পোস্ট করে আপনার দক্ষতা প্রদর্শন করুন।
  • সক্রিয় নেটওয়ার্কিং করুন: ইন্ডাস্ট্রি-সম্পর্কিত গ্রুপে যোগ দিন বা ইভেন্টে অংশ নিন (ভার্চুয়াল হলেও)।

“আপনার খ্যাতি হলো আপনার ক্যারিয়ারের মুদ্রা—এটিকে যথাযথভাবে বিনিয়োগ করুন।”


৩. চাহিদাসম্পন্ন একটি দক্ষতা শিখুন

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আপনার ইন্ডাস্ট্রিতে বা যে বিষয়ে আপনার বেশী আগ্রহ, এমন একটি চাহিদাসম্পন্ন নতুন দক্ষতা যোগ করার জন্য এটিই সেরা সময়।

  • দক্ষতা নির্ধারণ করুন: এটি হতে পারে ডাটা অ্যানালাইসিস, পাবলিক স্পিকিং, বা অ্যাডভান্সড এক্সেল।
  • অনলাইন কোর্স করুন: কোর্সেরা Coursera), উদেমি (Udemy), Goedu.ac বা লিংকডইন লার্নিং-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত শিখতে পারেন।
  • প্র্যাকটিস শুরু করুন: ৯০ দিনের মধ্যে শিখে তা আপনার কাজ বা সাইড প্রজেক্টে প্রয়োগ করুন।

“আপনার যত বেশি দক্ষতা থাকবে, আপনি তত বেশি মূল্যবান হয়ে উঠবেন।”


৪. আয়ের নতুন উৎস তৈরি করুন

আপনার আয় বাড়াতে হলে চাকরির পাশাপাশি কোন আরেকটি সাইড ইনকাম বা প্যাসিভ আয়ের অপশনগুলো অনুসন্ধান করুন।

  • ফ্রিল্যান্স করুন: আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো প্ল্যাটফর্মে আপনার দক্ষতা অফার করুন।
  • দক্ষতাকে অর্থে রূপান্তর করুন: শেখানো বা কনসালটিং শুরু করুন।
  • স্মার্ট ইনভেস্ট করুন: বিনিয়োগ অপশন খুঁজুন।

“আয়ের বৈচিত্র্য শুধু স্মার্ট নয়—এটি আর্থিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।”


৫. ব্যয় ট্র্যাক করুন এবং সঞ্চয় শুরু করুন

আপনার আর্থিক উন্নয়ন নির্ভর করে আপনি কীভাবে অর্থ পরিচালনা করছেন তার উপর। এই তিন মাসে আপনার ফিনান্স ঠিক করতে কাজ শুরু করুন।

  • একটি বাজেট তৈরি করুন: আপনার মাসিক আয় এবং ব্যয়ের তালিকা করুন।
  • অপ্রয়োজনীয় খরচ কমান: এমন জিনিসে খরচ সীমিত করুন, যা খুব একটা মূল্য যোগ করে না।
  • স্বয়ংক্রিয় সঞ্চয় শুরু করুন: আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রতি মাসে সঞ্চয়ে রাখুন।

“কত উপার্জন করেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কতটুকু রাখতে পারেন তা গুরুত্বপূর্ণ।”


৬. একজন মেন্টর বা অ্যাকাউন্টেবিলিটি পার্টনার খুঁজুন

কেউ আপনাকে গাইড করলে বা আপনার কার্যক্রমের দায়িত্ব নিলে, আপনার ক্যারিয়ার দ্রুত এগিয়ে যায়।

  • মেন্টর খুঁজুন: আপনার ক্ষেত্রে যাকে আপনি অনুকরণ করেন, তার কাছে পরামর্শ চান।
  • অ্যাকাউন্টেবিলিটি তৈরি করুন: সহকর্মী বা বন্ধুর সাথে একে অপরের অগ্রগতি নিয়মিত চেক করুন।
  • একটি গ্রুপে যোগ দিন: একই লক্ষ্য থাকা একটি গ্রুপে যোগ দিন।

“যখন কেউ আপনাকে গাইড করে বা উৎসাহ দেয়, তখন সফল হওয়া সহজ হয়।”


৭. প্রতি মাসে পর্যালোচনা এবং সমন্বয় করুন

প্রতি মাসের শেষে কিছু সময় নিয়ে আপনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করুন।

  • জয় উদযাপন করুন: ছোট হলেও আপনার অর্জনগুলোকে আপনি নিজেই স্বীকৃতি দিন।
  • ভুল বিশ্লেষণ করুন: কী কাজ করেনি এবং কেন তা বুঝুন।
  • পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করুন: আপনার শিক্ষার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী মাসের পরিকল্পনা সংশোধন করুন।

“পর্যালোচনা অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানে পরিণত করে।”


২০২৫ সালকে স্মার্টভাবে শুরু করুন

২০২৫ সালের প্রথম ৯০ দিন আপনার পেশাগত উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে। পরিষ্কার লক্ষ্য, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং নতুন দক্ষতা শেখার উপর ফোকাস করলে আপনি আপনার পরিধি, খ্যাতি এবং আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।

আপনি কি এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত? আসুন, ২০২৫-কে উন্নয়ন এবং সফলতার বছর বানাই!

📧 ক্যারিয়ার কোচিং বা পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য যোগাযোগ করুন: [email protected] 🚀 আমরা একসাথে আপনার পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচন করব!

Blog Banner for Website Content (1)

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর ১০টি কৌশল

চাকরি পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হলো চাকরিটিকে দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রাখা। অনেকেই মনে করেন চাকরি পেয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হলো, চাকরি ধরে রাখতে প্রয়োজন আরও দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা, এবং সঠিক কৌশল। যে যত দ্রুত এই বিষয়টি উপলব্ধি করবে, সে তত দ্রুত কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

নিচে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরা হলো, যা চাকরি টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে:

দক্ষতা উন্নয়ন (Skill Development): এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৭% নিয়োগকর্তা মনে করেন কর্মীরা যদি নিয়মিতভাবে নতুন দক্ষতা শেখে, তাহলে তাদের চাকরি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সহজ হয়। নতুন প্রযুক্তি এবং জ্ঞান আয়ত্ত করার জন্য নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখতে হবে। উদাহরণ: এক কর্মী নিয়মিত নতুন প্রোগ্রামিং ভাষা শিখছে এবং এটি তার কোম্পানিতে নতুন প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই দক্ষতা তাকে প্রমোশন পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skills): কর্মক্ষেত্রে ৯০% সমস্যা দুর্বল যোগাযোগের কারণে হয়। স্পষ্ট, সঠিক এবং যথাযথভাবে যোগাযোগ করতে পারা কর্মস্থলে দীর্ঘস্থায়ী সফলতার চাবিকাঠি। উদাহরণ: এক কর্মী মিটিংয়ে তার আইডিয়া পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করে এবং সহকর্মীদের সঠিকভাবে নির্দেশনা দেয়, যার ফলে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা (Time Management): ৮৯% কর্মচারী সময় ব্যবস্থাপনার অভাবে চাকরির ঝুঁকির মুখে পড়ে। সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা এবং সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো পেশাগত সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। উদাহরণ: এক কর্মী তার কাজের সময়সূচী অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে টাস্কগুলো সম্পন্ন করে, যা তাকে সময়মতো ডেডলাইন মেনে কাজ শেষ করতে সাহায্য করে।

সহনশীলতা (Adaptability): দ্রুত পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে পারার ক্ষমতা কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য অপরিহার্য। ৭৫% প্রতিষ্ঠান এমন কর্মীদের মূল্য দেয় যারা দ্রুত পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। উদাহরণ: কোম্পানি হঠাৎ নতুন সফটওয়্যারে রূপান্তর করল। কর্মীটি দ্রুত নতুন সফটওয়্যারটি শিখে নিয়েছে এবং নিজের কাজের দক্ষতা ধরে রেখেছে, যেখানে অন্যরা পিছিয়ে পড়েছিল।

দলগত কাজ (Teamwork): একক কাজের চেয়ে দলগত কাজ ৩০% বেশি কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। সঠিকভাবে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন দ্রুত হয়। উদাহরণ: এক কর্মী তার সহকর্মীদের সাথে মিলেমিশে কাজ করছে এবং তাদের সহায়তায় প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তার দলগত কাজের দক্ষতাকে নিয়োগকর্তা প্রশংসা করেছে।

নেতৃত্বের গুণাবলী (Leadership Qualities): নেতৃত্ব প্রদর্শনের ক্ষমতা একজন কর্মীর পদোন্নতি ৬৫% পর্যন্ত দ্রুত করে। সঠিক নেতৃত্বের গুণাবলী একজনকে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে তোলে। উদাহরণ: একটি জটিল প্রকল্পে এক কর্মী নিজে থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করে পুরো দলের মধ্যে দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং সফলভাবে প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে। এই নেতৃত্বের জন্য তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem-Solving Skills): ৭০% নিয়োগকর্তা এমন কর্মী চান যারা সমস্যা সমাধানে দক্ষ। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কর্মস্থলে অমূল্য। উদাহরণ: এক কর্মী প্রকল্পের মাঝপথে প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান করার নতুন উপায় বের করেছে, যা কোম্পানির জন্য সময় এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করেছে।

 আত্মবিশ্বাস (Confidence): আত্মবিশ্বাসী কর্মীরা প্রায় ৬০% ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী হয়। সঠিক আত্মবিশ্বাস কর্মক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক। উদাহরণ: মিটিংয়ে এক কর্মী নতুন আইডিয়া উপস্থাপন করে যা কোম্পানির জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে। তার আত্মবিশ্বাস তাকে অন্যদের সামনে বিশিষ্ট করে তুলেছে।

 ফিডব্যাক গ্রহণ (Receiving Feedback): নিয়মিত ফিডব্যাক গ্রহণ করে তা থেকে শেখার মনোভাব কর্মজীবনে উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কর্মদক্ষতা ৫০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। উদাহরণ: এক কর্মী নিয়মিত তার সুপারভাইজারের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে নিজের ভুলগুলো সংশোধন করেছে এবং পরবর্তীতে তার কাজের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে।

নেটওয়ার্কিং (Networking): নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে ৮৫% চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। ভালো নেটওয়ার্ক থাকার ফলে ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। উদাহরণ: এক কর্মী ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে, যেখানে তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে পরিচিত হন, যার মাধ্যমে তিনি একটি বড় ক্লায়েন্টের সাথে চুক্তি করতে সক্ষম হন।

উপসংহার: চাকরি টিকিয়ে রাখা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সঠিক দক্ষতা এবং পরিকল্পনা থাকলে এটি সহজ হয়ে যায়। উপরের ১০টি পয়েন্ট অনুসরণ করলে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

Blue Dark Professional Geometric Business Project Presentation

প্রবাসীদের সম্মান একটি জাতীয় দায়িত্ব


আমি যখনই মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, বা মালয়েশিয়া ভ্রমণ করি, তখন প্রায়ই সেইসব নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করার চেষ্টা করি, যারা আমাদের বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেন। তাদের কাছ থেকে যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া আমি পেয়েছি তা হলো, আমাদের বাংলাদেশি মানুষদের অত্যন্ত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা খুব দ্রুত নতুন ভাষা আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়, তা আরবি হোক, মালয় ভাষা বা ইংরেজি। নিয়োগকর্তারা আরও জানান যে, যদিও বেশিরভাগ বাংলাদেশি কর্মীরা কম বা কোনো দক্ষতা ছাড়াই বিদেশে যান, তবে তারা খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা প্রায়ই বলি, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অক্সিজেন। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছে। কিন্তু বিনিময়ে আমরা তাদের জন্য তেমন কিছুই করি না। আমি মনে করি, আমরা আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি প্রদর্শন করি না। যখনই আমি বিদেশে ভ্রমণের জন্য বিমানবন্দরে যাই, তখন প্রায়ই দেখি আমাদের প্রবাসী ভাইদের অসহায়ত্ব। তাদের প্রতি বিমানবন্দরে সামান্য মমতাও লক্ষ্য করা যায় না।

একটি ছেলে যখন প্রথমবারের জন্য বিদেশে পরিশ্রমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে, তখন থেকেই তার যন্ত্রণা শুরু হয়। বিমানবন্দরে বিশাল লাইন, আনসারদের দুর্ব্যবহার, বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় বিমানের টিকিট কাউন্টারের অসদাচরণ, ফর্ম ফিলাপের জটিলতা, ইমিগ্রেশন পুলিশের হয়রানি এবং বিমানে উঠতেই বিমানবালাদের অবজ্ঞা—এই সবই তাকে প্রথম ধাপেই হতাশ করে। কিছু যাত্রী তো এসব দেখে মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশিরা আদব কায়দা শিখলো না!” আর দালালের মিথ্যা প্রলোভনে তারা বিদেশের মাটিতে পা রাখার পরই শুরু হয় তাদের দুর্ভোগ।

২০২৩ সালে সৌদির রিয়াদ শহরে গিয়েছিলাম। সেখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই দেখি, কোনো এক জটিলতায় আমার হোটেল বুকিং ক্যানসেল হয়ে গেছে, তখন সময় ছিল ভোর ৩টা। এক পাকিস্তানি ট্যাক্সি চালককে বললাম আমাকে কোনো হোটেলে নিয়ে যেতে। হোটেলে পৌঁছানোর পর দেখি সবাই ঘুমিয়ে আছে। আমি জোরে ডাকলাম, তখন একজন বাংলাদেশি ভাই বেরিয়ে এলেন। আমি তাকে দেখেই বুঝতে পারলাম তিনি বাংলাদেশি, কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন না যে আমি বাংলাদেশি। তিনি হিন্দিতে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী সমস্যা?” আমি তাকে বললাম, “ভাই, আপনি কি বাংলাদেশি?” তিনি বললেন, “জি, কুমিল্লার লোক। ১০ বছর ধরে রিয়াদে আছি।” এরপর তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে আমাকে অনেক সহায়তা করলেন এবং আমি যতদিন রিয়াদে ছিলাম, প্রতিদিনই আমার খোঁজ নিলেন এবং সাহায্য করলেন। তিনি বললেন, বাংলাদেশিরা অনেকভাবে প্রতারিত হয়। এমন অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর আছেন, কিন্তু বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি ভাবলাম, পৃথিবীর যেসব দেশ রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল, তারা তাদের প্রবাসীদের জন্য কী ধরনের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে? কয়েকটি দেশের উদ্দ্যোগের চিত্রঃ

১. ফিলিপাইন:

ফিলিপাইন সরকার তাদের প্রবাসী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন সুরক্ষা এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে। প্রবাসী ফিলিপিনো কর্মীদের (Overseas Filipino Workers) জন্য তারা “ওভারসিজ ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন” (OWWA) গঠন করেছে। এই সংস্থা প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, বীমা, শিক্ষা, এবং পুনর্বাসন সেবা প্রদান করে। এছাড়াও, প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান সেবা প্রদান করা হয়।

 ২. ভারত:

ভারত সরকার প্রবাসীদের উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। “প্রবासी ভারতীয় দিবস” (Pravasi Bharatiya Divas) উদযাপনের মাধ্যমে প্রবাসীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া, ভারতীয় প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করার জন্য “ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট ফান্ড” গঠন করা হয়েছে। প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে কাজ করার সুযোগ প্রদান করা হয়।

৩. মেক্সিকো:

মেক্সিকো সরকার তাদের প্রবাসী নাগরিকদের কল্যাণের জন্য “ইন্সটিটিউট অব মেক্সিকানস অ্যাব্রড” (IME) গঠন করেছে। এই সংস্থা প্রবাসী মেক্সিকানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং আইনগত সহায়তা প্রদান করে। এছাড়াও, প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

৪. সিঙ্গাপুর:

সিঙ্গাপুর সরকার তাদের প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সিঙ্গাপুরের প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বীমা এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা রয়েছে। এছাড়া, “ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড” (EDB) প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ এবং নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে।

৫. চীন:

চীন সরকার তাদের প্রবাসী নাগরিকদের উন্নয়নে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। “ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাফেয়ার্স অফিস” (OCAO) প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে। এছাড়াও, প্রবাসীদের দেশে ফিরে আসার জন্য বিনিয়োগের সুযোগ এবং ট্যাক্স সুবিধা প্রদান করা হয়।

 

প্রবাসী ভাইদের উন্নয়নে আমার কিছু প্রস্তাবনা:

  •  প্রবাসী কল্যাণ ফান্ডের সম্প্রসারণ ও সেবা বৃদ্ধি: প্রবাসীদের কল্যাণে এবং জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ফান্ডের আকার ও সেবার পরিধি বাড়ানো।
  • নতুন উদ্যোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি: প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান।
  • বীমা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা: প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা সহ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে বিদেশে অবস্থানকালে তারা নিরাপদ বোধ করে।
  • প্রবাসী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক গঠন: প্রবাসী উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এবং যৌথভাবে কাজ করার জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
  • গ্লোবাল বাংলাদেশি বিজনেস নেটওয়ার্ক তৈরি করা: বিশ্বজুড়ে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা ব্যবসায়িক সুযোগ ও বিনিয়োগকে প্রসারিত করবে।
  • প্রবাসীদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানো: প্রবাসীদের অর্জিত দক্ষতা ও জ্ঞানকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষ প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করা।
  • বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ: প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করতে ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্স সেবার উন্নতি করা।
  • রেমিট্যান্সের জন্য বিশেষ ইনসেন্টিভ প্রদান: প্রবাসীদের আরও রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে বিশেষ বোনাস বা কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা।
  • প্রবাসীদের দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত করা: প্রবাসীদের দেশে ফিরে আসার জন্য এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত করা।
  • ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠন: দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের জন্য একটি বিশেষ ফান্ড তৈরি করা।
  • চিপ লেবার শব্দটির ব্যবহার বন্ধ করা: প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাদেরকে “চিপ লেবার” হিসেবে অভিহিত করা বন্ধ করা এবং তাদের মর্যাদা বাড়ানো।
  • হাই ইনকাম নিশ্চিত করার জন্য কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করা: প্রবাসী শ্রমিকদের উচ্চ আয়ের কাজে নিয়োগের জন্য কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা।
  • আরপিএল এবং আরসিসি এর সহজীকরণ ও প্রচার করা: প্রবাসীদের দক্ষতা স্বীকৃতি ও উন্নয়নে আরপিএল (Recognition of Prior Learning) এবং আরসিসি (Recognition of Current Competency) প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রচার করা।
  • এয়ারপোর্টে আলাদা সেবা নিশ্চিত করা: প্রবাসীদের বিমানবন্দরে সুষ্ঠু ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করার জন্য আলাদা কাউন্টার ও দ্রুত সেবা ব্যবস্থা চালু করা।
  • প্রবাসী কার্ড প্রদান: প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ কার্ড প্রদান করা, যার মাধ্যমে তারা ভিআইপি/সিআইপি সুবিধা ও মর্যাদা পেতে পারেন।

 

উপসংহার:

প্রবাসীরা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে যে বিশাল অবদান রাখছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমাদের উচিত তাদের উন্নয়নে আরও উদ্যোগী হওয়া। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আমরা তাদের জীবনকে আরও সহজ এবং মর্যাদাপূর্ণ করতে পারি।

Red Marketing YouTube Thumbnail

দেশের স্বার্থ সবার আগেঃ বাংলাদেশ-সমর্থক নীতি

আমরা সবাই জাপানের উন্নয়নের গল্প মাঠে, ঘাটে, ক্লাসে আলাপ করতে পছন্দ করি। তাহলে আজকের লেখাটি ঐদেশের একটি গল্প দিয়ে শুরু করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, জাপান পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। তবে জাতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ও নিজস্ব স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার মানসিকতা থেকেই তারা দ্রুত পুনর্গঠনের পথে হাঁটে। দেশীয় প্রযুক্তি, শিল্প, এবং সংস্কৃতিকে বিকশিত করে জাপান নিজেদের বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী করে তোলে। জাপানের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, যখন একটি জাতি নিজস্ব স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় এবং একতাবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যায়, তখন তারা যেকোনো বিপর্যয় থেকে পুনর্জন্ম নিতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের জন্যও জাপানের এই প্রো-জাপানীজ নীতিই পথ নির্দেশক হতে পারে, যা আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে।

 আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে একটি জাতির অগ্রগতির মূল শক্তি হলো তার নিজস্ব স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধতা। আমি পৃথিবীর যত উন্নত দেশে গিয়েছি সেখানে দেখেছি কিভাবে তারা সবাই দেশের স্বার্থ সবার আগে” রেখে উন্নয়নের যাত্রা নির্ধারণ করে। “দেশের স্বার্থ সবার আগে” এই মূলমন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে আমরাও একটি প্রো-বাংলাদেশ (Pro-Bangladesh) নীতি গ্রহণ করতে পারি, যা আমাদেরকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। রাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক, এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারি।

আমি অনেক বছর ধরেই ”প্রো-বাংলাদেশ” নিয়ে ব্যক্তিগত গবেষণা করছি। বিশদভাবে বর্ননার আগে চলুন একটু বোঝার চেষ্টা করি প্রো-বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য কি? ”প্রো-বাংলাদেশ” হলো জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখা এবং বিদেশী শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা। আমরা জানি যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে যেমন আমেরিকা, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম এমনকি ভারত। আমাদেরকেও ঠিক একইভাবে নিজেদের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

প্রো-বাংলাদেশ নীতি বা “দেশের স্বার্থ সবার আগে” নিয়ে আলোচনা করলে উদাহরণ হিসেবে ভিয়েতনামের নাম চলে আসবেই। ভিয়েতনাম তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ নীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ভিয়েতনাম স্বাধীন ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে, যেখানে অন্যান্য দেশের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করে এবং সবসময় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা স্থানীয় শিল্প এবং স্বনির্ভরতাকে গুরুত্ব দেয়, যদিও বিদেশি বিনিয়োগকেও স্বাগত জানায়। এছাড়াও, জাতীয় ঐক্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় তারা জাতীয়তাবাদী নীতি প্রয়োগ করে। সার্বিকভাবে, প্রো-ভিয়েতনাম নীতির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং সংস্কৃতির সুরক্ষায় কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

আমি মনে করি বাংলাদেশের ” প্রো-বাংলাদেশ” নীতিকে ঢেলে সাজাবার এখন সময় এসেছে যেখানে আমরা ৬টি বিষয়কে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দিতে পারি। যেমনঃ

১. অর্থনৈতিক দিক থেকে আত্মনির্ভরশীল হওয়া প্রো-বাংলাদেশ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, একটি লোভনীয় ভৌগলিক অবস্থান আছে, কর্মক্ষম মানবসম্পদ আছে। আমরা আমাদের উৎপাদনশীলতার ওপর যদি একটু জোর দেই এবং “দেশের স্বার্থ সবার আগে” এই স্লোগানটিকে যদি মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করি তাহলে আমার বিশ্বাস একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি আমরা গড়ে তুলতে পারবো। কয়েকটি জায়গায় আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে যেমনঃ

  • তরুণের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে আমাদের। এতে করে আমরা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারব। কোন একটি সভায় একজন গবেষক বলেছিলেন বিদেশ থেকে তৈরি পন্য শুধু আমদানী করা হয় না বরং সাথে বেকারত্ত্বকেও আমদানী করা হয়।
  • দুর্ভাগ্যবশত আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি দেশী পন্য কিনে হন ধন্য্। এটি সম্ভবত বিজ্ঞাপনের প্রচার বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমাদের দেশীয় পণ্য ও সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে “মেইড ইন বাংলাদেশ” ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ দেশীয় পণ্য কেনার প্রতি উৎসাহিত হয়।
  • আমাদের উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়।

২. আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, এবং সামাজিক মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের মনোভাব প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে, যা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শক্তি যোগাবে। স্বাধীনতা অর্জনের ৫২ বছর পর, এখন সময় এসেছে স্বাধীনতায় প্রত্যেকের অবদানের সঠিক উপস্থাপন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দেশপ্রেম ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করার। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে আমরা বিশ্বে আমাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারি।

৩. আমাদের দেশের রাজনীতিতে প্রো-বাংলাদেশের চর্চা করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে দেশে মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার অভাব রয়েছে, এবং তরুণরা রাজনীতিকে শুধুমাত্র দলভিত্তিক কার্যক্রম, সভা, সেমিনার, মিছিল, হরতাল হিসেবে দেখে। এ কারণে তারা রাজনীতিকে ঝামেলা মনে করে এবং বলে, “আমি রাজনীতি পছন্দ করি না।” কিন্তু সত্যিকার অর্থে রাজনীতি মানে দেশের উন্নয়নের প্রতি সচেতন থাকা, যা বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা উপলব্ধি করে থাকেন কিন্তু সেভাবে তরুনদের রাজনীতিতে অবদান রাখার ব্যপারে অনুপ্রেরণা দেন না। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হতে হবে বিদেশি কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করা, বরং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। আমাদের সব সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে হতে হবে, কোনো বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে নয়। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুশাসন ও জবাবদিহিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনগণের আস্থা বাড়ে এবং দেশপ্রেমের ভিত্তি মজবুত হয়।

৪. জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারকদের উচিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রতিরক্ষা খাতে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে আমাদের স্বার্থ রক্ষার কৌশল গ্রহণ করা।

৫. আমাদের দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা সবই আছে কিন্তু দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, কর্মক্ষমতা এবং ইচ্ছাশক্তি নির্ভর কোনো কর্মদক্ষতার মডেল নেই। তাই প্রতিবছর ২০ লক্ষ ছেলেমেয়ে চাকরিবাজারে প্রবেশ করছে কিন্তু চাকরি পাচ্ছে না। অনেকে মজার ছলে বলেন ”বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বেকার তৈরি কারখানায় পরিনত হচ্ছে।” বাংলাদেশীরা মেধাবী শুধুমাত্র চাকরি বা উদ্যোক্তা উন্নয়নের ইকোসিস্টেমের সার্পোটের অভাবে তারা কাঙ্খিত সাফল্য পাচ্ছেন না। উদাহরণস্বরুপ সিঙ্গাপুরের কথা বলা যায়। সিঙ্গাপুর চাকরি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের ইকোসিস্টেমের সাপোর্ট অত্যন্ত শক্তিশালী। সিঙ্গাপুরের সরকার উদ্যোক্তা এবং নতুন ব্যবসার উন্নয়নে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে, যা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম প্রধান স্টার্টআপ হাব হিসেবে গড়ে তুলেছে। সরকার “স্টার্টআপ এসজি” এবং “এসইএস ফিউচার” এর মতো প্রোগ্রাম চালু করেছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, পরামর্শ এবং নেটওয়ার্কিং সুযোগ প্রদান করে। এছাড়াও, সিঙ্গাপুরের উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা উদ্যোক্তাদের সফলতার জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশটির বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করে। এই শক্তিশালী ইকোসিস্টেমের ফলে সিঙ্গাপুর শুধু এশিয়ার নয়, বরং বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের জন্য একটি মডেল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আমাদের ভবিষ্যতের মূল চালিকা শক্তি। তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করা দেশের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারকদের উচিত শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে আধুনিকীকরণ, এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সহায়ক হবে।

৬. দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা আবশ্যক। নীতিনির্ধারকদের উচিত এমন নীতি তৈরি করা যা দেশের সব শ্রেণীর মানুষকে উন্নয়নের অংশীদার করে তোলে। গ্রামীণ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

৭. বাংলাদেশের অর্থনীতির অক্সিজেন বলা হয় প্রবাসী ভাইবোনদের। প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের অর্থনীতিতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার অবদান আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। “দেশের স্বার্থ সবার আগে” প্রো-বাংলাদেশ নীতির আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং দেশের উন্নয়নে তাদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় যেমনঃ প্রবাসী কল্যাণ ফান্ডের সম্প্রসারণ ও সেবা বৃদ্ধি, প্রবাসী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক গঠন, প্রবাসী দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানো, বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ সহজীকরণ, প্রবাসীদের দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত করা, ইত্যাদি। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য আরপিএল (Recognition of Prior Learning) এবং আরসিসি (Recognition of Current Competency)’র মতো আন্তর্জাতিক মডেলগুলোর দিয়ে প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা যাতে তারা স্বল্প আয় থেকে উচ্চ আয়ে স্থানান্তরিত হতে পারে।

উপসংহার

পরিশেষে বলবো, প্রো-বাংলাদেশ নীতি আমাদেরকে শুধু অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে না, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গর্বিত এবং ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করবে। বিদেশি প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে শিখব, যা একটি স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল জাতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বিশ্বে আমাদের স্থান সুসংহত করতে হলে “দেশের স্বার্থ সবার আগে”—এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সঠিক এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই নীতি আমাদেরকে একটি শক্তিশালী, স্বনির্ভর, এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি নীতি, এবং প্রতিটি পদক্ষেপে জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখা হলে আমরা আমাদের জাতির ভবিষ্যতকে আরও উজ্জ্বল করতে পারব। নীতিনির্ধারকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা সময়ের দাবি, এবং এর সফল বাস্তবায়নই আমাদের জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

 

লেখক:

কে এম হাসান রিপন

নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

ইমেইলঃ [email protected]

Blue Modern Stock Market Investment Advice Youtube Thumbnail (4)

জেনারেশন জেড: নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত কিন্তু ফোকাসের চ্যালেঞ্জ

অনেকে মনে করেন জেনারেশন জেড গ্রুপের বয়স কম তাই তারা লীডারশীপ রোল সহজে মানিয়ে নিতে পারবে না! এটা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে কারা এই GEN Z? GEN Z বা Generation Z মূলত তারা যাদের জন্ম ৯০ দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিক এবং ২০১০-এর প্রথম দিকে। আসুন দেখে নেই তাদের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যঃ

  • তারা ইন্টারনেট, স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে বড় হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তারা প্রযুক্তি ব্যবহারে অত্যন্ত পারদর্শী এবং ক্রিয়েটিভ আইডিয়া খুব দ্রুত বের করতে পারে।
  • Gen Z হলো সবচেয়ে জাতিগত এবং সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় প্রজন্মের মধ্যে একটি। তারা অন্তর্ভুক্তি (Inclusive) এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য দেয়। খেয়াল করে দেখবেন যেকোন সংকটে সবার আগে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে এই GEN Z.
  • তারা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং প্রায়শই ক্যারিয়ার সচেতনতা, স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেয়।
  • Gen Z সামাজিক এবং পরিবেশগতভাবে সচেতন এবং সবসময় সক্রিয়ভাবে টেকসই (Sustainability) অর্জনের জন্য অনুশীলন করে।
  • এই প্রজন্মের অনেকেই উদ্যোক্তা বা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। সেজন্য Gen Z এর ভেতর ব্যবসায়ী হয়ে উঠার প্রবনতা বেশী লক্ষণীয়।
  • তারা প্রকৃত এবং স্বচ্ছ যোগাযোগ পছন্দ করে। ভুলভাল বুঝিয়ে GEN Z কে সন্তুষ্ট করা যাবে না। তাদের কাছে বিশ্বাস এবং বিশ্বাসযোগ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে বেড়ে ওঠার কারণে GEN Z অভিযোজনযোগ্য (Adaptive) এবং পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে পারে খুব সহজে।

যারা মনে করেন জেনারেশন জেড লীডারশীপ রোল সহজে মানিয়ে নিতে পারে না, আমি তাদের সাথে একমত নই। তবে GENZ’র একটা সমস্যা হলো ফোকাস ধরে রাখতে না পারা। GENZ’র সাথে যদি একজন GEN X (যাদের জন্ম ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ এর ভেতর) বা GEN Y (যাদের জন্ম ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ এর ভেতর) দেওয়া হয় যারা তাদের মতো করে সচ্ছতার সাথে যোগাযোগ করবে, তাহলে GEN Z এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করে দেশ ও জাতিকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

 

About Author———————————————————————

K M Hasan Ripon is a prominent figure in the field of career development and entrepreneurship in Bangladesh. Hasan Ripon is an example of expertise, serving as the Executive Director of Bangladesh Skill Development Institute (BSDI), the Managing Director of Global Entrepreneurship Network Bangladesh, and the Vice President of Start and Improve Your Business Foundation of Bangladesh.

Hasan Ripon has worked as a consultant for over 300 national and international organizations, accumulating a wide range of experiences. He has inspired over 100,000 youth and graduating students at Bangladesh’s 150+ public and private Universities, colleges and polytechnics, as well as over 20 international universities. As a skills activist and inspiring speaker, he has a social media following of over 3 million people.

Black and Green Modern Youtube Thumbnail (4)

Follow my “INSPIRE” strategy for your next negotiation.

Negotiation is an important skill that can have major impacts on both your personal and professional life. Having capable to negotiate well opens up a lot of different opportunities, whether you are closing a business deal, negotiating a salary, or solving problems. In this article, I will talk about the INSPIRE strategy, an organized approach to negotiate where each letter stands for a key skill or technique that will help you get better at negotiating.

 

I – Identify Interests

When you negotiate, it’s not enough to just say what you want. You also have to know what the other person wants and needs.

Before you start negotiating, you should take the time to find out what each party actually wants. Listen carefully and ask open-ended questions to find out what their targets, intentions, and problems are. For Example when negotiating shelf space for a new product, as a salesperson, figure out what the retailer wants most—whether it’s higher profitability, strong brand support, or consumer demand.  If the merchant is interested in rapid sale rates, show how your product’s high demand and promotional assistance can result in speedy sales.

N – Navigate Options

Being able to choose other options gives you power and keeps you from negotiating out of fear.

Before you start talking, you should always come up with alternatives, also known as a “BATNA” (Best Alternative to a Negotiated Agreement.” This gives you the freedom to back out if the terms are not good. For Example if your initial request for shelf space does not receive the desired response, have alternate proposals ready. These could include upgraded promotional materials, higher discounts for bulk purchases, or longer payment terms. Having these options can help you discover a solution that works for both sides.

S – Set Clear Goals

Setting clear, measurable, and achievable targets will help you stay focused and guide your negotiations.

Make it very clear what you want to get out of the discussion. Set specific targets, like what salary you want, the scope of the job, or the deadline, and think about the very least that is acceptable. For Example Set clear goals before the meeting, such as getting a certain quantity of shelf space or meeting a sales volume target. Aim for prime positioning for your product on an end cap, or negotiate a minimum order quantity that ensures prominent display and frequent replenishment.

P – Persuade with Evidence

Providing well-researched data supports your position and makes the point more convincing.

Use data, testimonials, case studies, and other facts to support up your proposals. This increases credibility and convinces the opponent that your terms are acceptable and justifiable. For example, present facts about your product’s market performance, such as sales growth, consumer demand, and successful case studies from other stores. Try to demonstrate how similar products have increased foot traffic and sales in other locations to persuade the retailer of the possible advantages.

I – Innovate Solutions

Negotiations can be effective when flexibility and creativity are used to develop solutions that benefit both parties.

Be open to exploring many ideas that benefit both parties. Think beyond the box and propose different solutions to suit both parties. For example, if the retailer is concerned about shelf space limitations, suggest rotating promotions or seasonal displays that highlight your product without requiring long-term shelf space. You could also propose co-branded marketing efforts or in-store events to drive product visibility and sales.

R – Respect Relationships

Maintaining a positive relationship is critical to long-term success and future negotiations.

Approach the negotiation with empathy and respect. Instead of taking an aggressive attitude, work on creating trust and finding common ground. Make sure every party is understood and respected. For example, approach the negotiations with sensitivity and expertise. Understand the retailer’s limits and demonstrate a willingness to reach a mutually beneficial solution. Thank them for their relationship and assure them that you are devoted to assisting them with their business goals through collaborative efforts.

E – Evaluate outcomes.

After the negotiations, evaluate the outcomes and consider what went well and what may be improved.

Analyze the negotiation process and outcomes to learn from your experience. This allows you to discover strengths, shortcomings, and places for improvement in future discussions. For example, after closing the deal, consider what worked well and what could be improved. Did the store respond well to your data presentation? Were your proposed solutions effective in finding a compromise? Use these insights to improve your approach to future negotiations, resulting in continuing success and stronger connections.

 

Learning the art of negotiating is vital for accomplishing your goals and expanding your career. By using the INSPIRE strategy, you may approach negotiations with confidence and strategic understanding, with positive outcomes and stronger connections. Remember that great negotiation is about more than just winning; it is about creating solutions that benefit all parties involved.

Now it’s time to put these techniques into action and negotiate your way to success!

Yellow Bright Business Idea Tutorial Youtube Thumbnail (3)

Strategic Hacks for Professional Growth

In our journey through life and career, it’s easy to fall into the trap of following others’ advice without conducting our own personal analysis and detailed work. Many professionals and scholars have shared their insights with me over the years, and they all emphasized the importance of self-assessment to understand what I know and what I still need to learn. After 24 years of professional experience, I’ve come to realize and practice several key strategies that have helped me achieve my goals. Here are those insights along with realistic examples for each point:

Art of Requesting

  • Hack: A single question can open many doors. Phrases like “Is there any chance to collaborate with you?” or “Can I utilize my skills and experience for your organization?” are powerful tools.
  • Example: Early in my career, I attended a networking event where I met a potential mentor. Instead of asking vague questions, I specifically asked if there was an opportunity to collaborate on a project related to my skills in project management. This question not only opened the door to a new role but also established a long-term professional relationship.
  • Key Takeaway: Before asking for anything, analyze your own skills and understand what value you can offer in return. This preparation ensures that your request is genuine and valuable to the person you are reaching out to.

Be Specific in Your Communication

  • Hack: When sending messages or emails, clearly state your reasons and objectives. Many people fail to provide context, which can lead to confusion and missed opportunities.
  • Example: I once sent a message to a senior professional asking for career advice. I clearly mentioned that I was seeking guidance on transitioning to a leadership role and how I could better prepare myself for such responsibilities. The specificity of my request led to a detailed and helpful response.
  • Key Takeaway: Always mention the reason for your message. It helps the recipient understand the context and respond appropriately if they find it relevant.

Be Open and Honest

  • Hack: The more transparent you are, the more people are willing to invest in you. Authenticity builds trust and encourages others to support you.
  • Example: During a project at work, I openly shared my challenges and sought input from my colleagues. This openness created a collaborative environment where we all worked together to find solutions, ultimately leading to the project’s success.
  • Key Takeaway: Help others and be honest about your intentions and capabilities. This approach builds strong, trusting relationships.

Dedicate Time for Self-Education

  • Hack: Set aside a specific day each week to educate yourself and expand your knowledge.
  • Example: Every Friday, I dedicate time to reading industry-related articles and attending online courses. This habit has kept me updated with the latest trends and technologies in my field.
  • Key Takeaway: Choose a day to focus on learning new skills or gaining new knowledge. It’s a small investment with significant returns.

Avoid Chasing Illusions

  • Hack: Don’t get caught up in the pursuit of social media fame or fleeting trends. Focus on delivering real, meaningful messages to the world.
  • Example: Instead of aiming for viral content, I focused on creating posts that provided genuine value to my readers. Over time, this authenticity built a loyal following and led to several professional opportunities.
  • Key Takeaway: Stay authentic and concentrate on making a real impact. The right people will notice and reach out to you.

Set Income Goals Based on Expenses

  • Hack: Determine your necessary expenses and set your income goals accordingly. This ensures that your financial planning is realistic and achievable.
  • Example: When I planned to build a Masjid, I calculated that I needed BDT 500,000. This clear financial goal helped me focus on finding ways to generate the necessary income.
  • Key Takeaway: Understand your expenses and use them as a guide to set realistic income targets. This approach ensures you live within your means and can fund your goals.

Practice the Art of Giving

  • Hack: Generosity not only benefits others but also enriches your own life and career.
  • Example: I regularly volunteer my time to mentor young professionals. This act of giving has not only helped others but has also expanded my network and opened new opportunities for collaboration.
  • Key Takeaway: Give back to your community and help others. The positive impact will often come back to you in unexpected ways.

Ask Questions Actively

  • Hack: Asking questions at seminars, workshops, or conferences shows engagement and helps you learn more effectively.
  • Example: At a recent industry conference, I asked a speaker about emerging trends in our field. This question led to an insightful discussion and the opportunity to participate in a related research project.
  • Key Takeaway: Be attentive and ask thoughtful questions during Q&A sessions. It demonstrates your interest and can lead to valuable connections.

Never Stop Learning

  • Hack: Always remember that there’s more to learn. Continuous learning is crucial for personal and professional growth.
  • Example: I continuously enroll in new courses and attend webinars to stay updated with the latest developments in my industry. This commitment to learning has kept my skills relevant and competitive.
  • Key Takeaway: Adopt a mindset of lifelong learning. Seek out new knowledge and skills regularly.

Know Yourself First

  • Hack: Understanding your strengths, weaknesses, and interests is the foundation of personal growth and success.
  • Example: Through regular self-assessment, I identified my passion for leadership and developed a plan to build the necessary skills. This self-awareness guided my career choices and helped me achieve my goals.
  • Key Takeaway: Take time to reflect on your abilities and interests. This self-knowledge is essential for making informed decisions and setting meaningful goals.

Integrate Technology and AI for Enhanced Efficiency

  • Hack: Incorporate technology and AI tools to boost productivity and streamline operations.
  • Example: I have successfully leveraged various AI-based project management tools to optimize workflows and significantly reduce project completion times, thereby enhancing team productivity. Tools such as ChatGPT and Gamini have been invaluable for documentation and data collection. For design tasks, I rely on Canva, while Mylens.ai aids in developing timelines and mind maps. Transcripter has streamlined the process of converting voice notes to text. These tools not only minimize the time required for project development but also free up more time for implementation, allowing me to focus on more strategic aspects of my work.
  • Key Takeaway: Embracing technology and AI tools can drastically reduce time spent on routine tasks, enabling you to manage tasks more effectively and stay competitive in today’s rapidly evolving job market.

 

 

About Author———————————————————————

K M Hasan Ripon is a prominent figure in the field of career development and entrepreneurship in Bangladesh. Hasan Ripon is an example of expertise, serving as the Executive Director of Bangladesh Skill Development Institute (BSDI), the Managing Director of Global Entrepreneurship Network Bangladesh, and the Vice President of Start and Improve Your Business Foundation of Bangladesh.

Hasan Ripon has worked as a consultant for over 300 national and international organizations, accumulating a wide range of experiences. He has inspired over 100,000 youth and graduating students at Bangladesh’s 150+ public and private Universities, colleges and polytechnics, as well as over 20 international universities. As a skills activist and inspiring speaker, he has a social media following of over 3 million people.

Hasan Ripon is well-known in Bangladesh for his strategic abilities, having founded and sustained more than 30 organizations, educational establishments, and youth-led initiatives. With travel to 64 districts in Bangladesh and visits to 40 countries as an appreciated speaker and workshop facilitator, his impact transcends borders.

His professional development programs address topics such as communication, leadership, customer service, team building, negotiation, and problem solving, digital transformation, artificial intelligence and 4IR focused skills.

Hasan Ripon’s diverse experience includes roles as a President at JCI Bangladesh, Short-Term Consultant at the World Bank, Consultant for Industry 4.0 (HTS) at a2i, ICT Division (Government agencies), and Master Trainer & Industry Assessor (CBT&A) at ILO, CEO of Jobsbd.com, Principal at Daffodil polytechnic, adjunct Associate Professor and Employability Mentor at Daffodil International University and many more.

The Peace Award 2013 by JCI Bangladesh (Dhaka Central), the Education Leadership Award by IIT, Delhi, and the 2017 Inspiration Award as a Change Maker & Motivator have all decorated his path. Hasan Ripon’s story is one of passion, impact, and an uncompromising commitment to shaping Bangladesh’s future of work and skills. Contact: [email protected]