pexels-photo-462360

আমি কি আত্ম মূল্যায়ন করতে পারি

আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করি তখন একদিন আমার এক অত্যন্ত প্রিয় শিক্ষক আমাদের ক্লাশের সবাইকে কাজ দিলেন যেন আমরা আমাদের আত্ম মূল্যায়ন করি। যেখানে আমরা ১০০% সৎ মন্তব্য করবো। আমাদের সবার হাতে একটি করে কাগজ ধরিয়ে দিলেন। যেখানে অনেকগুলো প্রশ্ন ছিল এবং সবগুলো প্রশ্নের পাশে হ্যা/না লেখা ছিল। যেহেতু আমরা অনেকে মিলে আত্ম মূল্যায়ন করছিলাম তাই আমরা একজন আরেকজনের টা মিলিয়ে ফরমটা পূরণ করছিলাম। আসলে সেটা আত্ম মূল্যায়ন কোনভাবেই হচ্ছিলনা। কারন মোটামুটি সবগুলো প্রশ্নের উত্তর হ্যা আসছিল। যাই হোক আমাদের স্যার খুব হতাশ হলেন এবং হালকা মোটিভেশন দিয়ে চলে গেলেন আর আমরা বেচে গেলাম। আমাদের সবার কাছেই মনে হচ্ছিল এই কাজটা করার কি দরকার ছিল। পরের বার কোন একটা ওয়ার্কশপে আমি অংশগ্রহন করি এবং সেখানেও এরকম একটি আত্ম মূল্যায়ন কিছু করতে দিয়েছিল এবং যথারীতি আগেরবারের মতোই কাজ হলো। তৃতীয়বার আরেকটি ওয়ার্কশপে আমাদের ফ্যাসিলিটেটর ড. রনজীৎ সিং মালহী ঐরকম একটি আত্ম মূল্যায়ন টাইপের ফরম ধরিয়ে দিয়ে বললেন সবাই বাসায় যান এবং দরজা-জানালা বন্ধ করে একদম একা বসে পূরণ করবেন। যাই হোক ততদিনে যেহেতু ক্যারিয়ার জিনিসটি বুঝতে পেসেছি তাই বাসায় এসে অনেকরাতে একা বসে নিজের কাছে ১০০% সৎ থেকে ফরমটি পূরণ করলাম। এবার দেখলাম বেশীরভাগ প্রশ্নের উত্তর ”না” আসছে। একটি বিষয় নিশ্চিত হলাম যে নিজের ক্যারিয়ারকে মজবুত করতে হলে এখনও ‍অনেক কাজ নিজের উদ্দ্যোগেই করতে হবে, সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে আশানুরূপ ফলাফলের জন্য। সেই থেকে ব্যক্তিগত এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সর্ট কোর্স, বিভিন্ন ক্লাব/এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে শুরু করলাম। আমি একটি কথা বিশ্বাস করি “God helps only people who work Hard” আমি অনেক পরিশ্রম করলাম এবং ফলাফলও পেয়ে গেলাম। এবং আমি এও বিশ্বাস করি এই পরিশ্রমের কোন নিদৃষ্ট সময়সীমা নেই, যতদিন বেচে থাকবো এটা চলতেই থাকবে।

ছাত্রজীবন থেকেই আসলে আমাদের আত্ম মূল্যায়ন করা উচিত। আত্ম-মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি আমরা কি কি জানি, কি কি জানিনা, আমাদের কি কি জানা উচিত ইত্যাদি।

নিন্মে ২০টি প্রশ্ন দেয়া হলো এবং অনুরোধ থাকবে একদম সচেতন হয়ে প্রশ্নগুলো উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবেন এবং যদি আপনার অন্তত ১৬টি প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যা হয় তাহলে আপনার ব্যক্তিগত গুনাগুণ অত্যন্ত শক্তিশালী।

সেল্ফ কুইজ হ্যানা
আমি নিজেকে ভালোবাসি  
আমার দক্ষতা সম্পর্কে অবগত  
আমি একজন Pro-Active মানুষ (আমি হুকুমের অপেক্ষায় থাকি না)  
আমি যা প্রতিজ্ঞা করি সেটা যেকোন মূল্যে রক্ষা করি  
আমি আমার পোষাকের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন  
আমি সবসময় আমার সুস্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন  
আমি সময়ের মুল্য সম্পর্কে সচেতন এবং আমি অযথা সময় অপচয় করি না।  
আমি যা বলি বুঝে বলি! আমি যা পড়ি বুঝে পড়ি! আমি যা লিখি বুঝে লিখি।  
আমার কাজ কি সেটা আমি ভলো করে জেনে নেই এবং যদি না জানি তাহলে নিজ দায়িত্বে সেটা বুঝে নেই।  
আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমার কাজ সম্পন্ন করতে পারি এবং সময়ের আগেই জমা দেই।  
আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ বাছাই করে সম্পন্ন করতে পারি।  
আমি একজন টিম প্লেয়ার।  
আমি সঠিক সময় সিদ্ধান্ত নিতে জানি।  
আমি মানুষের সাথে সম্মান বজায় রেখে কাজ করি  
আমি গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনে গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারি  
যেখানে প্রশংসার প্রয়োজন সেখানে আমি কার্পণ্য করি না  
আমি সবকিছুকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করি আগে  
”তুমিও জিতবে আর আমিও জিতবো” আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী  
আমি ব্যঙ্গাত্মকমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকি  
সবচেয়ে বড় কথা আমি হাসতে জানি  

নিচের ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ব্যপারটি আরো পরিস্কার হবে, আমি বিশ্বাস করি

https://www.youtube.com/watch?v=OYZKInRfHq4

দক্ষ হন!

pexels-photo-374016

আপনার স্বপ্নের কাজের জন্য ইন্টারভিউঃ ২০টি পয়েন্ট নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে

একটি কাজ পাওয়ার অন্যতম অংশ হচ্ছে ইন্টারভিউ। অনেকেই আছে, যারা প্রচুর মেধাবী। কিন্তু সঠিকভাবে ইন্টারভিউ না দিতে পারায় কাজ পাওয়া হয়ে ওঠে না। একটি সফল ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু প্রস্তুতি, সফ্ট স্কিলস এবং কিছু জ্ঞান। আমরা প্রায় কমবেশী ১৬/১৭ বছর পড়াশুনা করার পর কাজ পাওয়ার বা কাজ চাইবার যোগ্যতা অর্জন করি। আবার অনেকে আরো আগেই সে যোগ্যতা অর্জন করে থাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি কাজ পাওয়ার অনেক আগে থেকেই নিজের মনোভাব, দক্ষতা এবং জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে নিতে হয়। সাধারনত আমরা ইংরেজীতে যেটাকে বলি “Attitude, Skills & Knowledge (ASK) model”

আপনার পরবর্তী যেকোন ইন্টনভিউতে যাবার আগে আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন আসলে ইন্টারভিউ কতধরনের হয়ে থাকে। সাধারনত আমরা ৬ ধরনের ইন্টারভিউর দেখা পাই।

১. ট্রেডিশনাল ওয়ান টু ওয়ান ইন্টারভিউঃ আপনি যে কাজের জন্য আবেদন করেছেন তার পরিচালক যখন আপনার সাথে একান্তে আলোচনার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানান।

২. প্যানেল ইন্টনভিউঃ পতিষ্ঠানের একাধিক ব্যক্তিরা মিলে যখন আপনার সাক্ষাৎকার গ্রহন করেন। এ ধরনের একটি প্যানেল সাধারনত ঐ প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী বা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের দক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা গঠন করা হয়।

৩. বিহেভিয়র ইন্টনভিউঃ এ ক্ষেত্রে কাজদাতা কাজ প্রত্যাশীকে ঐ পদের সাথে মিলিয়ে পূর্বের কোন অভিজ্ঞতার আলোকে আচরনগত প্রশ্ন করে জানার চেষ্টা করে থাকেন যে ঐ সময়ে তার পদক্ষেপগুলো কি ছিল।

৪. গ্রুপ ইন্টনভিউঃ এ ধরনের ইন্টরভিউতে প্রতিষ্ঠান একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সকল কাজ প্রত্যাশীদের একসাথে ডেকে কাজ, প্রতিষ্ঠান এবং প্যাকেজ সম্পর্কে জানাবার পর প্রাথমিক সিলেকশন করে থাকেন।

.ফোন ইন্টারভিউঃ এখানে কাজদাতা কাজ প্রত্যাশীকে ফোনের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করেন যে তিনি কাজ এবং কাজের ধরন সম্পর্কে জানার পর তার মতামত কি। যদি সন্তোশজনক হয় তাহলে তাকে ফরমাল ইন্টারভিউতে ডাকবেন।

৬. লাঞ্চ ইন্টারভিউঃ অনেক সময় দ্বিতীয় ইন্টারভিউ হিসেবে কাজদাতা কাজ প্রত্যাশীকে ডাকেন যেখানে প্যানেলে নতুন আরো কিছু সদস্য কে যুক্ত করেন যারা প্রশ্নের মাধ্যমে দেখার টেষ্টা করেন আপনি কতটুকু দক্ষ কাজটির জন্য।

ইন্টারভিউ হচ্ছে কাজদাতা এবং কাজপ্রত্যাশীর মধ্যকার আলোচনা। একজন কাজপ্রত্যাশী চান নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান আর কাজদাতা চান একজন যোগ্য, দায়িত্ববান কর্মী। তাই দুজনেরই লক্ষ্য যেহেতু টেকসই সেহেতু টেকসই কিছু অর্জনে ইন্টারভিউ হচ্ছে আপানার প্রথম পদক্ষেপ। এ প্রথম পদক্ষেপটাই আপনাকে হয়তো বড় একটি ক্যারিয়ারের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে “Talent will get you in the Interview Door but Character will keep you in the Room”. এখানে ট্যালেন্ট বলতে বোঝানো হয়েছে যেসকল জ্ঞান এবং দক্ষতার কারনে আপনাকে একজন কাজদাতা কাজে লাগাবার উদ্দেশ্যে ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু এখানে আমাদের সকলের স্মরন রাখা প্রয়োজন যে কাজের নিশ্চয়তা আমি পাবো আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ঠের কারনে। ইন্টারভিউতে আমার আত্মবিশ্বাস, কর্মদক্ষতাকে সঠিকভাবে নিদৃষ্ট জায়গায় ব্যবহার করার ক্ষমতা, আচার-আচরন কে বিবেচয় রেখে আমাকে কাজ দেবার স্বীদ্ধান্ত নেওয়া হয়।       

ইন্টারভিউর ক্ষেত্রে প্রথম যে কাজটি করণীয় সেটি হচ্ছে ইন্টারভিউকে কখনোই সাধারণ কোনো বিষয় হিসেবে নেয়া যাবে না। কাজপ্রত্যাশীর লক্ষ্য হওয়া উচিত, ”আমি ইন্টারভিউতে অবশ্যই অংশ নেব এবং জয় করে তারপর ফিরবো’। ইন্টারভিউর আগে, ইন্টারভিউ চলাকালীন এবং ইন্টারভিউ পরবর্তী বেশ কিছু করণীয় থাকে। এখানে সে বিষয়গুলো মূলত আলোচনা করা হবে।

  1. প্রথমেই বলি ইন্টারভিউয়ের আগের প্রস্তুতির বিষয় সম্পর্কে। প্র‍থমে ভাবতে হবে, এই কাজটির সুযোগ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে এবং কেন এসেছে? এটি ভালো করে জানতে পারলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সাথে দেয়া সহজ হয়ে যায়। সাথে সাথে জানতে হবে কোন সূত্র থেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক এলো। ইন্টারভিউয়ের ডাক আসার পরে আপনার প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনি অবশ্যই ইন্টারভিউতে সময়ের অন্তত ২০ মিনিট অংশগ্রহণ করছেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইন্টারভিউতে যেতে চেয়েও অনেকের যাওয়া হয় না। সেক্ষেত্রে পরবর্তিতে ঐ প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে আর তাকে ডাকা হয় না, এককথায় কালো তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  2. ইন্টারভিউয়ের আগে আরেকটি কাজ করতে হয় আর সেটি হলো ”হোমওয়ার্ক”। ইন্টারভিউতে জানতে চাওয়া হতে পারে যে, আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যাচ্ছেন, সেটা সম্পর্কে কতটুকু জানেন বা খোঁজ নিয়েছেন। আর সেজন্যই বাড়িতে বসে সেই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় বিষয়গুলো জেনে তারপর ইন্টারভিউয়ে যাওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যেমনঃ
  3. প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট ভিজিট করে সহজেই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। অথবা এমন কোন তথ্য যেমন বিগত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন ঘেটে আপনি জানাতে পারেন আপনি কোথায় কিভাবে কাজ করে আরো উন্নত ফলাফল নিয়ে আসতে পারেন।
  4. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের এখন নিজস্ব সোস্যাল মিডিয়ায় পেজ আছে যেমন Facebook, LinkedIn, YouTube, Instagram যেখানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্নকার্যক্রম তুলে ধরা থাকে, সেখান থেকেও অনেক তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
  5. Google কে ব্যবহার করেও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
  6. কাজের বিবরণী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক সময় আমরা দেখতে পাই কাজ প্রত্যাশী বেশীরভাগ মানুষ কাজে বিবরণী না পর্যালোচনা করেই ইন্টরভিউ দিতে চলে আসেন যা কোনভাবেই কাম্য নয়। বরং কাজের বিবরণীকে পর্যালোচনা করে সে মোতাবেক তার সিভি তৈরী করে ইন্টরভিউতে অংশ নিতে হবে।
  7. পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী কাছ থেকেও যদি তথ্য সংগ্রহ করা যায় তাহলে তাই করতে হবে ইন্টারভিউর কক্ষে প্রবেশের পূর্বে।
  8. ইন্টারভিউয়ের পূর্বমুহূর্তের কিছু প্রস্তুতি অবশ্যই নিতে হবে। যেমন আপনার একাডেমিক কাগজপত্র, সনদপত্র, বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সনদ এবং অন্য কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা এবং ফোল্ডারে সাজানো আছে কিনা দেখে নিতে হবে। এখন অনেক চমৎকার ফাইল/ফোল্ডার অনেক কম দামে পাওয়া যায়। এতে দুটি সুবিধা হবেঃ একটি কাজদাতার চাহিদা অনুযায়ী তৎখনাত আপনি দিতে পারছের এবং দ্বিতীয়টি হলো আপনি যে অত্যন্ত গোছানো একজন কর্মী সেটা প্রমানীত হয়ে গেলো।  
  9. ইন্টারভিউতে একটা কমন প্রশ্ন হলো, নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন। এখানে আপনি একটি সুযোগ পেলেন নিজের ব্যক্তিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ, দক্ষতা এবং জ্ঞানকে কাজদাতার সম্মুখে প্রকাশ করার। এক্ষেত্রে প্রচুর পরিমানে অণুশীলন করতে হবে যেন ঘাবরে গিয়ে এই চমৎকার সুযোগটি নষ্ট করে না ফেলেন। মনে রাখতে হবে এই সুযোগটি হলো নিজের জন্য তৈরি করা একটি বিজ্ঞাপন চিত্রের মতো। ৬টি ভাগে আপনি আপনা উত্তরকে সাজাতে পারেন:
  10. প্রথমেই আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শক্তি (Strength) সেটা দিয়ে শুরু করুন যেমন: Commitment, Critical Thinking, Leadership Quality, Patience ইত্যাদি
  11. দ্বিতীয়ভাগে আপনি আপনার সেই শক্তি বা সামর্থ্যকে কিভাবে আপনার পূর্বের কর্মক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রয়োগ ঘটিয়ে আশানুরুপ ফলাফল এনে দিয়েছেন।
  12. তৃতীয়তো ধরুন আপনার পূর্বের কর্মক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আপনার সরাসরি উপস্থিতির কারনে ৮০% সফলতা বা এক লক্ষ টাকা অর্জিত হয়েছে, আপনি সেটা আত্মবিশ্বাস মনোভাব নিয়ে বলে ফেলুন
  13. চথুর্থতো বর্তমান সুযোগটি আপানার দক্ষতা উন্নয়নে কিভাবে কাজ করবে এবং আপনি প্রতিষ্ঠানকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
  14. সবচেয়ে বড় যে ভুল করি তা হলো মুখস্তবিদ্যার মতো সিভিটাকে পড়তে থাকি এবং যথারীতী কাজ পাবার থেকে অনেক দুরে সরে যাই।  
  15. সময়কে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। জায়গার দূরত্ব, যানজট, সব কিছু মাথায় রেখে কমপক্ষে ইন্টারভিউর ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ভালো। এতে যে সুবিধা হয় তা হলো ইন্টারভিউয়ের স্থানে গিয়ে একটু ফ্রেশ হওয়া যায়। ইন্টারভিউ কক্ষে ঢুকার সময় যেন আপনি সতেজ এবং ফ্রেশ থাকেন সেটা অবশ্যই মাথায় রাখা উচিৎ।
  16. আমার কাছে একটি প্রবাদ অত্যন্ত প্রিয় “First Impression is the Best Impression”. আমার বাবা আমাকে বলতেন জানো আমরা যেকোন আমন্ত্রনে আমার সবচেয়ে ভালো পোষাকটি কেন পরিধান করি? কারন আমি যখন আমার সবচেয়ে ভালো পোষাকটি পরে অনুষ্ঠানে গেলাম তখন যিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি উপলব্ধী করেন যে আমি তার আমন্ত্রণকে সম্মান জানালাম। এটি শোনার পর আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার সবচেয়ে ভালো পোষাকটি পরিধান করবার।  ইন্টারভিউর পোশাক অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ইন্টারভিউর জন্য পরিপাটি পরিস্কার পোশাক পরিধান করা অত্যন্ত জরুরী। সবচেয়ে ভালো হয় আলাদা করে শুধুমাত্র ইন্টারভিউর জন্য একসেট পোষাক রেখে দেয়া। পোশাক অনেক সময় ইন্টারভিউ গ্রহণকারীর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। সাধারণ রঙের পোশাক এক্ষেত্রে উত্তম। বেশি গাঢ় রঙের পোষাক না পরিধান করাই ভালো। মেয়েদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায় যে, তারা প্রচুর পরিমানে মেকাপ দিয়ে বা খুব কড়া পারফিউম দিয়ে ইন্টারভিউতে যাচ্ছেন। এটা  না করাই ভলো। ইন্টারভিউর পোষাক নিয়ে আমি আলাদা একটি ভিডিও করেছি যেখানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি কি পরিধান করা উচিৎ।
    লিংক: http://youtube.com/kmhasanripon
  17.  
  18. ইন্টারভিউ রুমে গিয়ে কিছু প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। যেমন ইন্টারভিউ রুমে গিয়ে হাসিমুখে থাকাটা শ্রেয়। ইন্টারভিউ রুমে আপনি সিওর হয়ে নিন যে, আপনার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করেছেন। অনেক সময় ইন্টারভিউর মাঝে অনেকের ফোন বেজে ওঠে। অনেকে আবার সেখানে ফোন রিসিভ করে কথা বলা শুরু করেন। এগুলো করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। এমনকি কে আপনকে ফোন করলো সেটাও না দেখে সরাসরি ফোন বন্ধ করে দিতে হবে। এতে করে কাজদাতা বুঝতে পারবেন এই ইন্টারভিউটিকে আপনি কতখানি গুরুত্ব দিচ্ছেন।  
  19. আরেকটি বিষয় হলো হাত মেলানো। অনেক সময় ইন্টারভিউ কক্ষে হাত মেলানোর জন্য যখন কাজদাতা হাত বাড়িয়ে দেন, তখন কাজপ্রত্যাশী খুব অস্বাভাবিক বা আত্মবিশ্বাসহীনভাবে হাত মেলান। হাত মেলানোর ক্ষেত্রে হাসিমাখা মুখ নিয়ে Smartly এবং Friendly হতে হবে। ইন্টারভিউ কক্ষে চেয়ারে বসা নিয়েও আমাদের অনেক ঝামেলা হয়। সবসময় যেকোন মুহুর্তে সোজা হয়ে বসা অত্যন্ত জরুরী। চেয়ারে আরামে হেলেদুলে বসে কথা বলা একটু যেন কেমন দেখায়। আবার অনেকে  ইন্টারভিউ ‍দিতে এসে টেবিলে থাকা বিভিন্ন জিনিস নিয়ে খেলতে শুরু করে দেন যেটা একদম উচিৎ নয়। অনেকে আবার গোমরা মুখে না তাকিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করেন যেটা করা একদমই যাবে না। Eye Contact একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চোখের দিকে তাকিয়ে উত্তরদিলে আত্মবিশ্বাসের লেভেল বুঝা যায়। তাই কথা বলার সময় নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে বা এক পলকে কারো দিকে তাকিয়ে থেকে কথা না বলাটা জরুরী।
  20. আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার সময় খুব উত্তেজিত হয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে গুছিয়ে বললে সঠিক উত্তরটি দেওয়া যায়। সহজভাবে উত্তর দেয়ার অনুশীলন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, প্রশ্নকর্তাকে কখনই বুঝতে দেয়া যাবে না যে, আপনি বেতনের জন্য এই কাজটা করতে চাচ্ছেন। অথবা অযৌক্তিক বেতন চাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। শেষের দিকে একটি কথা হলো, ইন্টারভিউর মাধ্যমে আপনার ব্যাক্তিত্বকে প্রকাশ করতে হবে।
  21. ইন্টারভিউ শেষ হয়ে গেলেও কিন্তু কিছু কাজ থাকে। যেটিকে বলছি After Interview। যেমন, আপনি ইন্টারভিউয়ারের ভিজিটিং কার্ডটা নিয়েছেন। বাসায় পৌছে তাকে একটা ছোট্ট মেসেজ দিন, বা থ্যাংস নোট দিন। এটা আপনার জন্য পজিটিভ ইম্প্রেশন ক্যারি করবে।


উপরে আলোচিত ইন্টারভিউর আগে, ইন্টারভিউর সময়, এবং ইন্টারভিউর পরের বিষয়গুলো যদি মেনে চলি, তাহলে ইন্টারভিউ জয় করা কঠিন কিছু হবে না। মনে রাখতে হবে একটা ইন্টারভিউর ডাক জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি আমন্ত্রণ। এটিকে যত গুরুত্বের সাথে দেখা যায় ততোই আশানুরুপ ফলাফল পাওয়া যায়। এরজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অণুশীলন। আমি সবসময় বিশ্বাস করি “Practice Makes Perfect”. নিজের ঘরের আয়নার সামনে দাড়িয়ে প্রতিদিন উত্তর দেবার অনুশীলন করুন। আর এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমরা মোটামুটি সবাই কমবেশী জানি কি কি প্রশ্ন সাধারনত করা হয়ে থাকে ইন্টারভিউতে।

মনে রাখবেন নিজেকে বড় করতে হলে আগে নিজেকে ভালোভাবে জানাটা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারপর প্রতিষ্ঠানকে জেনে নিজের সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর সাজিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে হাসিমুখে যদি ইন্টারভিউ সম্পন্ন করতে পারেন তাহলে সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর তারপরও যদি কাজ না পান তাহলে সমস্যা কি এখানে হয়নি আরেকটি ইন্টারভিউতে হবে কারন প্রতিষ্ঠানের তো অভাব নেই আমাদের দেশে। হাল ছাড়বেন নাম হতাশ হবেন না। আজ না হোক কাল হবেই।

ভিডিও লিংক যেখানে YouTube এ ইন্টারভিউ নিয়ে আমার তৈরি করা কিছু ভিডিও:

https://www.youtube.com/watch?v=tHqU_69I4nM&t=346s

 

https://www.youtube.com/watch?v=cYGEhMCa-S4
https://www.youtube.com/watch?v=0o3DELvYFVw&t=314s
getty_160689726_9706469704500126_90490

বিশ্বাস ব্যতীত টেকসই নেতৃত্ব স্থাপন সম্ভব নয়

সপ্ন মানুষকে বাচতে শেখায়, সপ্ন মানুষকে সামনে বাড়তে প্রেরনা যোগায়। আমরা সপ্ন দেখি, আমরা সপ্নকে নিজের মতো করে মাঝে মাঝে সাজাতেও পারি। এমন অনেক সময়ই হয়েছে একটি সপ্ন দেখার পর মনে হলো আরেকটু উত্তেজনাপূর্ণ হলে ভালোই হতো এবং সাথে সাথে ঘুমিয়ে ওটাকে নিজের মতো করে বানিয়ে ফেলতাম। একবার মনে আছে আমি সপ্নের ভেতর চাকরির ইন্টার্ভিউ দিচ্ছিলাম। সপ্নের ভেতরই দেখলাম যিনি আমার ইন্টার্ভিউ নিচ্ছিলেন তিনি আমাকে বললেন আমি চাকরিটার জন্য যোগ্য নই এবং সাথে সাথে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আমি আবার ঘুমিয়ে পড়লাম এবং ইন্টার্ভিউর রেজাল্ট আমার পক্ষে নিয়ে আসলাম। মজার ব্যাপার হলো এবার আর ঘুম ভাঙ্গেনি। কারন এটি আমার নিজের তৈরি করা সপ্ন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো ঠিক তার একবছর পর এরকমই একটি ইন্টার্ভিউর সম্মোখিন হলাম এবং যথারিতি যিনি আমার ইন্টার্ভিউ নিচ্ছিলেন তার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম তিনি আমাকে না বলবেন। সাথে সাথে আমার সেই সপ্নের কথা মনে পড়ে গেলো এবং আমি সপ্নে যা বলেছিলাম তাই বললাম “স্যার আমার মনে হচ্ছে আপনি আমাকে না বলবেন, না বলবার আগে আমার একটি ছোট্ট প্রস্তাব আছে। আমাকে আপনি একমাস কাজ করার সুযোগ দেবেন এবং তার বিনিময়ে আমাকে কোন পারিশ্রমিক দিতে হবে না। যদি এই একমাসে আমি আমার কর্মদক্ষতা প্রমান করতে পারি তাহলে আপনার উপর স্বীদ্ধান্তের ভার দিয়ে চলে যাবো। তিনি রাজি হলেন এবং একমাস পর আমি নিয়োগপত্র হাতে পাই। সপ্নকে নিজের মতো করে বানানো এবং যথাসময়ে তার প্রয়োগ সম্ভব হয়েছিল শুধুমাত্র নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসের কারনে। আমার ক্যারিয়ারের বয়স যখন মাত্র একবছর তখন আমার বস একদিন আমাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন প্রজেক্টের দায়িত্ব দিলেন। আমার বসের অনেক গুনাগুন ছিল তবে সবচেয়ে বড় যে গুনটি ছিল সেটা হলো তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন। আর যেহেতু তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন তাই প্রত্যেকেই তার স্বীদ্ধান্তকে নিজের বলে মেনে নিতেন।  
আজকে লিখতে বসেছি নেতৃত্ব নিয়ে, নেতৃত্বের গুনাবলী সম্মন্ধে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেক টেকসই নেতৃত্বের পেছনে রয়েছে একটিই শব্দ “বিশ্বাস” বা ”বিশ্বস্ততা”। নেতৃত্বের স্থানে থেকে আমরা সবাই সবচেয়ে বড় যে ভুলটি করি এই ভেবে যে আমার পদবী বা পদমর্যাদার করনে আমাকে সবাই বিশ্বাস করবে। বিশ্বাস বা বিশ্বস্ততা কখনই পদবী বা পদমর্যাদার সাথে আসে না। বিশ্বাস অর্জন করার ব্যাপার। ধরুন আপনি অনেক পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, কৌশলী, চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা, উদ্ভাবনী অন্তর্দৃষ্টি, আপনার আছে দক্ষ দল কিন্তু মানুষের বিশ্বাস আপনি অর্জন করতে পারেননি। আপনি কখনই আপনার আশানুরুপ ফল অর্জন করতে সক্ষম হবেন না। নেতৃত্বের স্থানে থেকে বিশ্বস্ততা তখনই অর্জন করা সম্ভব যখন আপনি আপনার সক্ষমতায় মানুষের আস্থা কায়েম করতে পারবেন। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে “Practice Makes Perfect” বা “অণুশীলনেই সক্ষমতা”। বিশ্বস্ততা বা বিশ্বাস স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অণুশীলন। খুব সহজেই আমরা নিজ অবস্থান থেকে ছোট ছোট কিছু কাজের মাধ্যমে “বিশ্বস্ত নেতৃত্ব” বা “Trustworthy Leadership” অর্জন করতে পারি। নিচে কিছু বিষয় অণুশীলনের জন্য উল্লেখ করা হলোঃ 
১. মানুষ স্পষ্টতাকে বিশ্বাস করে। অবিশ্বাস বা দ্বিধান্বিতকে অবিশ্বাস করে। আপনার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রত্যাশা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার হতে হবে। তাহলেই আপনার সাথে যারা কাজ করছেন তাদের আস্থা অর্জনে সম্ভব হবে।
২. নেতৃত্বের স্থানে থেকে কথা এবং কাজে মিল থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় একবার যদি আপনার উপর আস্থা রাখাটা কষ্টকর হয় তাহলে সেটা পুনরায় অর্জন করা কঠিন। 
৩. আমরা অনেকসময় স্বীদ্ধান্তহীনতায় ভুগী। সঠিক স্বীদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমরা হিমসীম খাই। এসময় অনেক মানুষ আশপাশ থেকে এসে বিভ্রান্ত করার চেষ্ট করে এবং আমরা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যাই। যার পরিনাম ভুল স্বীদ্ধান্ত আর পরিনতি মানুষের অনাস্থা। 
৪. নেতৃত্বের স্থানে থেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরূরী। কথা এবং কাজে যদি মিল না থাকে তাহলেই অবিশ্বাস জন্ম নেয়। কিন্তু একটা বিষয় আমাদের সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে মানুষ সবসময় কোনটি আপনার অন্তরের আর কোনটি আপনার শুধুমাত্র মুখের লোক দেখানো তা খুব সহজেই বুঝতে পারে। 
৫. আপনার সহকর্মীরা যখন বিশ্বাস করবে যে আপনি তাদের যেকোন সমস্যায় সামনে এগিয়ে আসবেন তখনই তারা আপনার সপ্নকে বাস্তবায়ন করতে নিজের সবটুকু দিয়ে এক হয়ে কাজ করবে।  
৬. Leaders become great not for their Power but because of their ability to empower others. আমাদের সামনে নেতৃত্বের অনেক উদাহরন আছে যেখানে আমরা দেখতে পাই সফল নেতৃত্বদানকারী ইচ্ছাকৃতভাবেই ক্ষমতা ছেড়ে দেন এবং সরাসরি কর্মীদের হাতে তুলে দেন। তারা এটি করেন কারন তারা তাদের দলের প্রত্যেকের কর্মদক্ষতার উপর আস্থাশীল। যার ফলে কর্মীরাও তাদের দক্ষতার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেন লক্ষ্য অর্জনের জন্য। 
৭. ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে “If you are the smartest person in the room, you are in the wrong room.” সফল নেতৃত্বস্থানীয় ব্যাক্তিরা সবসময় স্বীদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সকলের মতামত প্রদানের জন্য পরিবেশ তৈরী করেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে। 
৮. রবার্ট এ্যান্থনী অত্যন্ত চমৎকার একটি উক্তি করেছিলেন “When you blame others, you give up your power to change”। আমরা কখনই সহজে আত্মসমালোচক হতে পারি না। নিজের ভুলগুলোকে দেখতে পাই না বা কেউ দেখালে তা সহ্য করতে পারি না। এটি টেকসই নেতৃত্বের জন্য বড় প্রতিবন্ধক।  

এরকম আরো অনেক উদাহরন দেওয়া যায়। কিন্তু একটি কথাই পরিশেষে বলতে চাই বিশ্বাস এবং নেতৃত্ব একই সাথে তাল মিলিয়ে চলে অন্যভাবে বলা যায় একটি আরেকটির পরিপূরক। বিশ্বাস প্রতিটি ভাল সম্পর্কের মূল ‍হিসেবে কাজ করে সেটি ব্যাক্তি জীবনে হোক আর কর্মক্ষেত্রে। যখন মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করে এবং আস্থা রাখে যে আপনি যাই করছেন তা সততার সাথে করছেন। তখন তারা আপনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে। আজকের লেখায় আমার শেষ উক্তি “বিশ্বাস ব্যতীত টেকসই নেতৃত্ব স্থাপন সম্ভব নয়” এবং এটিই আমার আজকের শিরোনাম।