Corporate Work Blog Banner

সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করুন, অর্থ সঞ্চয় করুন। কিন্তু কিভাবে?

সঠিক সময়ে অর্থ জ্ঞান অর্জন করতে পারলে স্বপ্ন পূরণে আসতে পারে বাধা। ডাচ একটি প্রবাদ আছে “The art is not in making money, but in keeping it.” আমরা অসংখ্য উদাহরন দেখেছি যে অর্থ উপার্জিত হয়েছে পরিকল্পিতভাবে কিন্তু চলে গিয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। উপরের প্রবাদে শিল্প বলতে বোঝানো হয়েছে উপার্জনের পাশাপাশি সঞ্চয়ের পরিকল্পনাটা নিশ্চিত করা বেশী জরুরী। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের মতে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে শিশু/কিশোর বয়স থেকেই। যদিও আমি মনে করি যখনই আপনি উপলদ্ধি করবেন যে সঞ্চয় করা অত্যন্ত জরুরী আপনার জন্য, তখনই শুরু করে দেবেন।



ডেভিড ওয়েলইভার ফাউন্ডার “Money Under 30”, তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন ৫০/৩০/২০ সূত্রের কথা যেখানে তিনি মাসিক আয়ের ৫০ ভাগ মৌলিক প্রয়োজনে, ৩০ ভাগ সে সমস্ত জায়গায় যেখানে স্বীদ্ধান্ত গ্রহণে বিচক্ষনতার প্রয়োজন এবং বাকি ২০ ভাগ সঞ্চয়। বাংলার মায়েদের মুষ্টি চালের কথা শুনেছেন, প্রতিদিন রান্নার চাল থেকে এক মুষ্টি চাল সঞ্চয় করা? আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এই এক মুষ্টি চাল তুমি উঠিয়ে রাখো কেন? তিনি বলতেন বিপদের সময় কাজে লাগবে। সে বয়সে বিপদ শব্দের সাথে আমার তেমন পরিচয় হয়নি। আমার নানীকেও ঠিক এই কাজটি করতে দেখেছি।

আমার মা তার আলমিরার বিভিন্ন তাকে বিভিন্ন শাড়ির ভাজে টাকা লুকিয়ে রাখতেন। যদিও আমার মা জানতেন না যে আমি জানতাম কোন শাড়ির ভাজে কত টাকা আছে। আমার মা গোসলখানায় ঢুকলেই, আমি লুকিয়ে ১০ টাকা নিয়ে দোকানে চলে যেতাম। ছোটবেলায় বাবা কাছ থেকে মাটির ব্যাংক উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম। প্রতিদিন বিকেলবেলা বাবা অফিস থেকে ফিরলে আমি মাটির ব্যাংক নিয়ে বাবার কাছে যেতাম। তিনি ১/২/৩/৫/১০ টাকা আমার ব্যাংকে ঢুকিয়ে দিতেন।

আমি অসংখ্য ক্যারিয়ারে সফল ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করেছি। দেখেছি প্রত্যেকেই অর্থ সাশ্রয়ের কথা সবার আগে চিন্তুা করে থাকেন। ছোট ছোট খরচও অপরিকল্পিতভাবে করেন না। একভাই তো বলেই ফেললেন, নিজের কামানো টাকা অপ্রয়োজনে খরচ করতে গায়ে লাগে। তবে বুদ্ধিমানেরা অন্যের কামানো টাকা থেকেও সঞ্চয় করতে ভোলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এক ছাত্রের সাথে কথা হলো। সে প্রতিমাসে বাবার কাছ থেকে যা পায় সেখান থেকে প্রতিমাসে জমানোর চেষ্টা করে। এখন সে তৃতীয় সেমিস্টারে পড়ছে, ইতিমধ্যে তার কাছে প্রায় ৪৪ হাজার টাকার মতো জমেছে। তার কৌশল ছিলো কোনদিন সে মেসে খালি পকেটে মেসে ফিরতো না এবং ডেবিট কার্ড দিয়ে কখনো সে একবারে সব টাকা তুলে ফেলতো না। পাশাপাশি টিউশনি এবং বিভিন্ন লেখালেখী করে যা কামাতো, সব নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমিয়ে রাখতো। তার প্ল্যান সে তার মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দেবে।

এখন আমাদের সঞ্চয়ের পরিকল্পনা থাকেনা বললেই চলে। একটাই অযুহাত, মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়। সঞ্চয় করবো কখন। আসলে এই কথাটা আমি নিজেও অনেকবার বলেছি। ক্যারিয়ারে মাঝামাঝি সময়ে এসে কোন একটি বিপদে পড়ে বুঝতে পেরেছি সঞ্চয় কি জিনিস। তারপর স্বীদ্ধান্ত নিলাম সঞ্চয়ে মনোযোগী হবো। আমি বেশ কিছু স্বীদ্ধান্ত নিলামঃ

  • মৌলিক চাহিদা পূরণ প্রথম লক্ষ্য।
  • অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ।
  • ক্রেডিট কার্ড থাকবে তবে নিজের পকেটে নয়। নিজের পকেটে শুধু ডেবিট কার্ড।
  • একক ইনকামের উপর নির্ভরশীল না হওয়া। সেজন্য খুঁজে বের করলাম এমন কি দক্ষতা আছে যা আমি ব্যবহার করে উপার্যন বৃদ্ধি করতে পারি।
  • ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলে ফেললাম। তারপর মাসিক আয়ের মাত্র ২% কোন চিন্তাভাবনা না করে ব্যাংকে রাখা শুরু করলাম। ধীরে ধীরে ২% থেকে ৫% তারপর দেড় বছরের মধ্যে ২০% বৃদ্ধি করলাম।
  • এই পদ্ধতি কাজে এলো। ঐ জমানো টাকা আমার কাজে লাগলো যখন ২০১৬ সালে মা, স্ত্রী ও কন্যাকে সহ পবিত্র হজ্জ্ব পালন করতে গেলাম।

আমি নিশ্চিত, আপনারা যারা আমার এই ব্লগ পড়ছেন তারা সবাই পরিপক্ক এবং কিছুটা বুদ্ধি রাখেন। তাই আবেগ দিয়ে আমার লেখাগুলো না পড়ে, বাস্তবতা মাথায় রেখে ব্লগটি পড়ুন। নিজেকে আপনি প্রশ্ন করুন, আসলেই কি আপনার পক্ষে সঞ্চয় করা সম্ভব নয়? অথবা আগামী ছয় মাসের মধ্যে আপনি কি সঞ্চয় শুরু করতে পারবেন না? অথবা আগামী একবছরের মধ্যে?

যদি মনে করেন সম্ভব তাহলে নীচের ধাপগুলো আপনি অনুসরণ করতে পারেন।

১. অর্থ সঞ্চয় শুরু করার প্রথম পদক্ষেপে আপনি এক্ষুনি মাইক্রোসফট এক্সেল খুলে “বেসিক পারসোনাল বাজেট” টেমপ্লেটটি খুলে আপনার প্রতিমাসে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসার ফিক্সড ব্যয় বের করুন।

২. প্রতিমাসে আপনার আয়ের উৎসগুলো খুঁজে বের করুন। এবার আয় এবং ব্যয়ের মাঝে পার্থক্য বের করুন। যদি কোন উদ্বৃত্ত না থাকে তাহলে আয়ের উৎস সন্ধানে নেমে পড়ুন।

৩. খরচগুলোকে একটি তালিকার মধ্যে নিয়ে আসুন এবং একটু খুজে দেখুন কোন দিক দিয়ে খরচ কমানো যায় কিনা। অগ্রাধীকার অনুযায়ী খরচ করুন।

৪. একটি প্রবাদ আছে “আয় বুঝে ব্যয় করো” যা বর্তমানে পরিবর্তিত হয়ে বলা হয় “ব্যয় বুঝে আয় করো”। এর অর্থ হলো আপনার মাসিক খরচের সাথে সঞ্চয়ের জন্য ১০% বা ১৫% কে খরচ হিসেবে নির্ধারন করুন। এই ১০% আপনাকে হয় বর্তমান আয় থেকে খরচ হিসেবে বের করতে হবে। নয়তো ১০% আপনাকে নতুন উৎস থেকে আয় করতে হবে।

৫. লক্ষ্য ছাড়া কোন কিছু করা ঠিক নয়। তেমনি সঞ্চয়ও লক্ষ্য ছাড়া করা উচিত নয়। আপনি একটি লক্ষ্য নির্ধারন করুন। স্বল্প মেয়াদী বা দীর্ঘ মেয়াদী সঞ্চয় লক্ষ্য হতে পারে। দেশের বাইরে ঘুরতে যাবার জন্য বা বিদেশে পড়তে যাবার জন্য বা ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট জমা দেবার জন্য। আবার কোন ব্যবসায় বিনিয়োগের লক্ষ্যেও সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে পারেন। একটি লক্ষ্য নির্ধারন করে শুরু দিন।

৬. ছোটবেলায় মাটির ব্যাংকে টাকা রেখে জমিয়েছি। বড় বেলায় অবশ্যই আপনাকে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আপনার সঞ্চয় পার্টনার বানাতে হবে। অনেকে আছেন ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসেবে খুলে ফেলেন বা অনেকে কিস্তি ভিত্তিক সঞ্চয় আমানত হিসেবেও কোন একটি ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এছাড়া আরো অনেক উপায় আছে। অভিজ্ঞ কারো সাথে একটু পরামর্শ করে নিতে পারেন।

৬. আরেকটি উপায় হলো ব্যাংকের সাথে এমন একটি সিস্টেম করে নিতে হবে যেন আপনার নির্দিষ্ট পরিমান সঞ্চয়ের কিস্তি অটোমেটিক আপনার সাধারন সঞ্চয় একাউন্ট থেকে কেটে নেয়। অনেক সময় নিজের হাতে টাকা সঞ্চয় একাউন্টে রাখতে কষ্ট হয়। মনে হয় আচ্ছা আজকে এই জিনিসটা কিনে ফেলি, আগামী মাসে একসাথে দুইমাসেরটা একবারে জমা দিয়ে দেবো। সেই দুইমাস আর আসে না।

৭. কি পরিমান সঞ্চয় হচ্ছে সেটা নিরীক্ষণ করুন।

যাইহোক, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং পরিকল্পনা দুইটাই থাকা চাই। তাই বলে আমি বলছি না জীবনকে একদম তেজপাতা বানিয়ে সঞ্চয় করতে হবে। সবই চলবে কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী। ধরুন আগামী শীতে ৭ দিনের জন্য কক্সবাজারের কোন একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবকাশ যাপন করতে যাবেন। হিসেব করে দেখুন কত লাগবে। তারপর জমানো শুরু করে দিন। পরিশেষে আমার একটি পছন্দের প্রবাদ উল্লেখ করছি

“It’s not about how much money you make. It is about how you save it”

লেখকঃ

কে. এম. হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

ইমেইলঃ kmhasan.ripon@gmail.com

Yellow Rediscovering Amphibians Blog Banner

মাইন্ডসেট – পর্ব ১

আমার এক সময় একটা সমস্যা হতো। আমার কাছে কেউ আইডি কার্ড চাইলেই মেজাজ গরম হয়ে যেতো, অপমানিত বোধ করতাম। ভাব এমন হতো যে আমার মতো মানুষের কাছে আইডি কার্ড চায় কেমন করে।

প্রায় ১৫ বছর আগের একটি ঘটনা। একবার উত্তরা থেকে মিরপুর আসতে প্রায় দুই ঘন্টা লেগে গিয়েছিলো। ঘামে পুরো শরীর ভেজা। একটি অফিসের গেট দিয়ে ঢুকতেই অল্প বয়সী এক নিরাপত্তারক্ষী মোটা গলায় আমাকে বলে আপনার আইডি কার্ড কই। আমার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। বলে কি? আমি কে এম হাসান রিপন, এই অফিসে প্রতিমাসে আসি, সেখানে এই ছোকড়া আমার কাছে আইডি কার্ড চায়!

মেজাজ গরম করে দিলাম একটা ধমক। পাশ থেকে আরেকজন সিনিয়র নিরাপত্তারক্ষী এসে বলল স্যার যান, মনে কিছু কইরেন না। তারপর যুদ্ধে জয়ী সেনাপতির মতো হেঁটে ভেতরে গেলাম। তারপর শুনলাম সেই অফিসে রুল জারী হয়েছে, গেট দিয়ে যেই ঢুকবে, তাকে আইডি কার্ড দেখাতে হবে।




তার কিছু দিন পর স্কলারশীপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেলাম কম্পিটেন্সি বেইজড এডুকেশনের (Competency Based Education) উপর প্রশিক্ষণ নিতে। সাথে ছিলো আরো ১০ জন দেশী ভাই ও বোনেরা। আমাদের প্রশিক্ষক ছিলেন মি. জন আর্থার। প্রথমদিন টেইফ হান্টার ইন্সটিটিউটের (TAFE Hunter Institute) গেটের কাছে আসতেই দেখী সিকিউরিটি চেকপোস্ট। এইবার আর কোন ভুল হলো না। সবাই আইডি হাতে তালুতে নিয়ে রাখলাম। বিদেশ বলে কথা।

আমি মনে মনে ভাবছি, দেখি মি. জন আর্থার কি করে। ও আল্লাহ উনি দেখী আমাদের চেয়েও একধাপ এগিয়ে। উনি আইডি কার্ড ঝুলালেন গলায়। তারপর সিকিউরিটি দরজার কাছে আসতেই বিশাল আওয়াজ করে নিরাপত্তারক্ষী হেসে বললেন “গুড মর্নিং মি. আর্থার! মি. আর্থারও হাসি দিয়ে বললেন গুড মর্নিং! তারপর আইডি দেখালেন, সাথে থাকা ব্যাগও দেখালেন। তারপর পেছন পেছন আমরাও সবাই তাই করলাম।

তারপর চলে গেলাম তিন অথবা চার তলায়। দেখি মি. জন আর্থার নেই। দাড়িয়ে আছি, হঠাৎ দেখি স্যার আসছেন একটি ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে। ট্রলির ভেতর রাখা আছে সব লার্নিং এইড (মার্কার, সাদা কাগজ, রঙিন কাগজ, স্টিকি নোট, স্কেল, প্রিন্টার মেশিন আরো কত কি) এবং সাথে রুমের চাবি। নিজে ক্লাশের দরজা খুললেন, সব লাইট জ্বালিয়ে দিলেন এবং আমাদের বসতে বললেন। তারপর টানা ৮ ঘন্টা ক্লাশ। মাঝে তিনবার দরজা খুলে দিলেন ব্রেকফাস্ট, মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেলের চায়ের জন্য। তারপর ঘোষনা দিলেন আজকে মতো ক্লাশ শেষ।

আমরা সবাই মহাখুশি। কিন্ত সাথে সাথে আরেকটি ঘোষনা এলো। সকালে ক্লাশে ঢুকে যেরকম পেয়েছিলাম, সেরকম রেখে ক্লাশ থেকে বের হতে হবে। ব্যাস সবাই যার যার চেয়ার ঠিক করলাম, মেঝে থেকে ময়লা উঠিয়ে নির্ধারিত বিনে রেখে দিলাম। লাইট, হিটার বন্ধ করে বের হলাম। মি. জন আর্থার দেখি বের হচ্ছেনা না। উনি একটি ফরম পূরণ করছেন। ক্লাশে এসে যা যা পেয়েছিলেন, সেগুলো আবার বুঝিয়ে দেবার জন্য ফরম পূরণ করছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম দিনে আমার সঠিক আচরনের উপর একটি সার্টিফিকেট কোর্স করা হয়ে গেলো। ঢাকায় এসে অস্ট্রেলিয়ায় যা দেখেছি, যা পর্যবেক্ষন করেছি সব নিজের বাড়িতে, অফিসে, ক্লাশে প্রয়োগ করার চেষ্টা করলাম। আমার সহকর্মী শিক্ষকদেরও অনুরোধ করলাম। কেউ মানলেন, কেউ উপেক্ষা করলেন। যাইহোক তারাও হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত প্রয়োগ করবেন না বলে ভেবেছিলেন। ক্লাশে কেমন করে একজন শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয় বা তার লার্নিং নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে আরেকটি আর্টিক্যালে লিখবো।

যাইহোক আসল কথায় আসি। পরিচয় জানতে চাইলে বা সিকিউরিটি চেক পোস্টের নিয়ম মানতে বললেই আমাদের সবার আত্মসম্মানে বেধে যায়।

  • মার্কেটের আর্চ গেট দিয়ে ঢুকতে বললে, রাগ হয়ে তাকিয়ে পাশ দিয়ে ঢুকি
  • সেদিন এয়ারপোর্টে নিরাপত্তারক্ষীর সাথে বিরাট ঝগড়া হলো যাত্রীর সাথে থাকা এক আত্মীয়ের। যেভাবেই হোক তিনি ঢুকবেন। আর নিরাপত্তারক্ষী টিকিট ছাড়া ঢুকতেই দেবে না। এদিকে দুরে দাড়িয়ে থাকা মানুষরা মুখে যা আসছে তাই বলে ভিন্নভাবে দেশের প্রশংসা করে যাচ্ছেন। আমি একজনকে বললাম ভাই ঐ গেট দিয়ে ঢুকতে হলে টিকিট দেখাতে হয়, এটাই নিয়ম। তারপরও তিনি মানবেন না।
  • ব্যাংকের কর্মকর্তা একজনকে বললেন একাউন্ট খুলতে হলে, জাতীয় পরিচয় পত্র লাগবে। ভদ্রলোক তো রেগে মাতাল। পরেরটা আর নাই বলি। একজন বুঝাচ্ছেন, অন্যজনও যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিচয় পত্র এবং আত্ম অহংকার যেন এক সাথে চলে। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয় পত্র, অফিস আইডি বা বর্তমানে মুভমেন্ট পাস, মেম্বারশীপ কার্ড, এই সব কিছু উত্তোলন করে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে আত্ম অহংকারকে দিয়ে তালা মেরে দেই। এই তালা খোলার সাধ্য কারো নাই। এই আমরাই যখন বিদেশে যাই তখন আত্ম অহংকার নামক তালাটি দেশে রেখে যাই।

এক বড় ভাই আমার সাথে ঢাকায় ফিরছেন। প্লেনে তার সাথে আলাপ হচ্ছিলো। দেখলেন ভাই কি নিয়ম। সব জায়গায় কঠিন নিয়ম। কোন দুই নম্বরী নাই। প্রত্যেকটি জায়গায় কি সুন্দর পরিবেশ। আর আমাদের দেশে, কি আর বলবো। আমাদের প্লেনটি বাংলাদেশের মাটি ছুতেই তিনি পকেট থেকে মোবালইটি বের করে তার এক সহকারীকে ফোন দিয়ে বললেন সাথে এলইডি টিভি আছে, বের করার ব্যবস্থা কর। তারপর প্লেন থামার আগেই দাড়িয়ে হ্যান্ড ব্যাগ নামানো শুরু করে দিলেন। তারপর আমিও চুপ, তিনিও চুপ।

শুরুতেই যে অফিসের কথা বলেছি, পরে অবশ্য শুনেছি তারা সব নিরাপত্তরক্ষীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং পাশাপাশি সাবাসী দিয়ে সবাইকে বলা হয় ”ধন্যবাদ তোমাদের দায়িত্ববোধের জন্য। কিন্তু বাবারা সবাইকে প্রথমেই চোর ভেবো না”।

সিকিউরিটি পোস্ট এমন একটি জায়গা যেখানে নিরাপত্তরক্ষীরা নিজেরদের ছাড়া বাকি সবাইকেই অবিশ্বাসের চোখে দেখে। আর দেশের মানুষরা নিজেদের ছাড়া সব চেকপোস্টকেই আত্ম অহংকারের চোখ দিয়ে দেখে। আমার মনে হয় পরিচয় পত্র দেখতে চাওয়া এবং পরিচয় পত্র দেখাতে পারার মধ্যে সামান্য একটু ফাঁক আছে। যেটা পূরণ করতে পারলেই আর আত্ম অহংকার ঢুকবার জায়গা পাবে না। ইন শা আল্লাহ এই ফাঁকটিও আমরা বন্ধ করতে পারবো এবং ফেসবুকের ভাইরাল ভিডিও থেকেও মুক্তি পাবো।

লেখক

K M Hasan Ripon, Executive Director, BSDI

Email: kmhasan.ripon@gmail.com

Pink and Red Motivation and Inspirational Blog Banner

পরীক্ষার পূর্বরাতের প্রস্তুতি

আমি সাধারনত জটিল কোনো বিষয় নিয়ে কখনো কোন লেখা বা মন্তব্য করিনা। কিন্তু কেন যেন এবারে করোনাকালীন সময় এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় প্রত্যক্ষণ করে লিখতে ইচ্ছে হলো।

ব্যক্তিগত বা জাতিগত ভাবে আমরা কম বেশি সবাই মোটামুটিভাবে পরীক্ষার আগের রাতে প্রস্তুতি নেয়া সেই শিক্ষার্থী। আমার এখনো মনে আছে সময়ের মূল্য বা যথাসময়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যতোই উপদেশ দেয়া হতো, দিন শেষে পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতিই আমাদের কাছে সব সময় বড় হাতিয়ার ছিলো। প্রকৃতির বিচিত্র নিয়মে পাশও করে যাই কোন এক অদ্ভুত কারণে। সেই আমরা আবার যখন প্রতিনিধিত্ব করি বিভিন্ন কর্মস্থলে বা প্রশাসনে, আমাদের কর্মস্থলেও সেই পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতিই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।

হয়তো জাতি হিসেবে আমরা অনেকটা আশাবাদী জাতি। স্বপ্ন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদের আবদার অনেক। আমাদের পরীক্ষার আগের রাত্রের প্রস্তুতিমূলক অভ্যাসটা সবক্ষেত্রেই প্রয়োগ করছি। আর ভাবছি তিনি নিশ্চয়ই আমাদের সেরা ফলাফলটা দেবে। কিন্তু দায়িত্ববোধের বিষয়টি?

আমরা এমনই আবেগী জাতি আমরা সামান্য সূর্যালোক পেলেই ভুলে যাই মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কথা। করোনাকালে গতবছরের অভিজ্ঞতাকেও আমরা দিব্যি ভুলে গেছি। ব্যক্তিগত বা জাতিগতভাবে আমাদের মনে রাখা উচিৎ ছিলো আমাদের গতবছরের অভিজ্ঞতা।

আশা করি মহান আল্লাহ তায়ালা হয়তো আমাদের পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতি নেয়া শিক্ষার্থী হিসেবে এবারের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ করবেন। আমরা এই মুহুর্তে তেমন কিছু ঐশ্বরিক অলৌকিক ঘটনা আশা করছি। হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য এমন এক সকাল দিয়ে পুরষ্কৃত করবেন যখন আমরা আগামী পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের অঙ্গীকার নিয়ে যথাসময়ে প্রস্তুতি নেয়ার প্রতিজ্ঞা করে এবারের পরীক্ষায় পূর্বরাতের প্রস্তুতির জন্য ক্ষমা চেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।

লেখক

কে, এম, হাসান রিপন

Email: kmhasan.ripon@gmail.com

Black Moon Blog Banner

কিভাবে করবেন আপনার কর্মদিবস পরিকল্পনা?

১৯৭৯ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রোগ্রামের ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞেস করা হলো, তোমাদের কার কার ভবিষ্যত কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য পরিকল্পনা করেছো?

১) ৮৪% তরুনদের কোন পরিকল্পনাই ছিলোনা

2) ১৩% তরুনদের পরিকল্পনা ছিলো এবং সেটা কাগজে তোলা ছিলো মাত্র।

৩) ৩% তরুনদের পরিকল্পনা ছিল, কাগজে সুন্দর করে লেখা এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।

১০ বছর পর সেই তরুণদের সাথে আবার কথা বলা হলো। দেখা গেলো ১৩% তরুন যাদের পরিকল্পনা ছিলো এবং কাগজে তোলা ছিলো, তারা ৮৪% তরুণ যাদের কোনো পরিকল্পনাই ছিলোনা তাদের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ উপার্জন করছে। আর ৩% তরুন যাদের পরিকল্পনা ছিল, কাগজে সুন্দর করে লেখা এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল, তারা যে অর্থ উপার্জন করছে সেটা ৯৭% তরুণদের সমপরিমাণ অর্থ। অনেকে হয়তো অর্থের কথা পড়ে মনে মনে ভাবতে পারেন, তাহলে অর্থই কি সব? আসলে অর্থ এখানে একটি পরিমাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র।

যাইহোক পরিকল্পনাহীন জীবন, পাল বা ইঞ্জিনবিহীন নৌকার মতো। যেখান থেকে ঢেউ ধাক্কা মারবে, আপনি সেদিকে রওয়ানা দেবেন এবং একসময় ঝড় এলে ডুবে যাবেন। আমার একবার মাথায় প্রশ্ন এলো আমি আজ সকালে বিছানা থেকে উঠলাম কেন? আপনিও কি একবার ভেবে দেখেছেন আপনি আজ সকালে বিছানা থেকে উঠেছেন কেন? কোন কাজটি করবার তাড়নায় আজ আপনি মধুর ঘুমকে বিসর্জন দিলেন? যেদিন আমি আগামীর দিনের পরিকল্পনা ছাড়াই বিছানাতে যাই, সেদিন ঘুম থেকে জেগে উঠবার তাড়না ভেতর থেকে অনুভব করি না। একসময় আমার মস্তিষ্ক আমাকে জোড় করে উঠিয়ে দেয়। উঠে দেখি সূর্য মাথার উপরে চলে এসেছে। ধীরে ধীরে প্রাতঃরাশ শেষ করে তারপর চিন্তা করি কি করবো? হঠাৎ দেখী ফেসবুক, লিংকডইন বা ইউটিউভে নটিফিকেশন, একটু দেখবো এই ভেবে মুহুর্তে তিন ঘন্টা শেষ, আসরের আযান। জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবসের কোনও মূল্য ছাড়াই সমাপ্তি।



পরিকল্পনাহীন দিবস আপনাকে অন্তত তিনটি জায়গায় প্রতিদিন ব্যর্থ করে দেবে।

সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যর্থতা

মানুষের কাজই হলো ছুটে চলা। হয় স্বপ্ন নিয়ে নয়তো স্বপ্ন ছাড়া। মানুষ ছুটবেই। এই ছুটে চলার মাঝে রয়েছে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রবল স্প্রিহা। তখন সে খুঁজে বেড়ায় তার স্বপ্ন পূরণে কে তাকে সহযোগিতা করতে পারে। যাকে দেখে মনে হয় স্বপ্ন পূরণে তার সাহায্য পাওয়াটা দরকার, সে তার দিকেই এগিয়ে যায়। কিন্তু যদি কাছে গিয়ে দেখে স্বপ্ন আছে কিন্তু পরিকল্পনাহীন মানুষ, ধীরে ধীরে দুরে সরে আসে। এটাই বাস্তবতা। সফল মানুষ আবেগ এবং বাস্তবতার মাঝামাঝি বসবাস করার চেষ্টা করে। আর দাদার কাছে শুনেছি পরিকল্পনাহীন মানুষ আবেগ নিয়ে থাকে এবং বেলা শেষে আবেগ দিয়েই সবাইকে দোষারোপ করে। সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দরকার পূর্ণ দিবসের ব্যবহার। কিন্তু পরিকল্পনাহীন মানুষ দিবসের অর্ধেকটিই কাটিয়ে দেয় হয় ঘুমিয়ে নয়তো অযথা সময় অপচয় করে।

অর্জনে ব্যর্থতাঃ

পরিকল্পনাহীন মানুষ অযুহাতে বিশ্বাসী। তারা সবসময় শেষ তারিখ ভুলে যান। অফিসের জরুরী মিটিং, কলেজের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাশ, স্কলারশীপের আবেদন, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ফোন কল ইত্যাদি। পরিকল্পনা নাই তো দিন শেষে অর্জনও নাই। আর এটাই হলো বাস্তবতা। আমার এক শিক্ষক আমাকে একটি সূত্র শিখিয়েছিলেন “গতকাল এবং আজ” এর মধ্যে কর্মের ফলাফলের দিক থেকে পার্থক্য থাকতেই হবে। পরিকল্পনার অভাবের কারনে কোন কাজই সময় মতো শেষ করা যাবে না। আমার নিজেরই এমন হয়েছে যে একটি কাজের ধারনা আমি তৈরি করেছি কিন্তু পরিকল্পনা করিনি। ঠিকই ছয়মাস পর দেখি আমারই এক সহকর্মী সেই কাজটি করে বাহাবা নিয়ে যাচ্ছে। আমার ধারনা পৃথিবীতে একই আইডিয়া একসাথে অনেক মানুষের মস্তিষ্কে ঘুরে বেড়ায়। যেমন এমন অনেক সময় হয়েছে বন্ধুদের ওয়াটসএ্যাপ গ্রৃপে আমি একটি মেসেজ দিয়েছি। ঠিক এক বা দুই সেকেন্ড পর আমার আরেক বন্ধু আমার মতো হুবহু মেসেজ পাঠিয়েছে। এইটা হচ্ছে আইডিয়া ক্ল্যাশ। ধরে আমি একটি আইডিয়া রাত দুইটার সময় তৈরি করে ঘুমিয়ে গেলাম এবং যথারীতি দুপুর বারোটায় ঘুম থেকে উঠে ঐদিন আর আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করা হয়নি। কিন্তু পৃথিবীর আরেক প্রান্তে বসে আমারই মতো আরেকজন ঠিকই আইডিয়াটি নিয়ে পরিকল্পনা করে বাস্তবায়নের ঘোষনা দিয়ে দিয়েছে। ব্যস মুহুর্তেই আমি হারিয়ে গেলাম।

সৃজনশীলতা কাজে আসে না

আজ আপনি সৃজনশীল, অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা না থাকার কারনে আপনার সেই সৃজনশীলতা আজ হুবকির মূখে। ধরুন আপনি খুব ভালো এ্যানিমেশনের কাজ জানেন। কিন্তু আপনি অলস এবং পরিকল্পনাহীন মানুষ। এখন ব্যাপারটি কি হচ্ছে? আপনার এলাকায় আপনি একজন যিনি এ্যানিমেশনের কাজ পারেন তাই মানুষ আপনার অলসতাকে উপেক্ষা করে আপনার কাছে আসছেন এবং কাজ দিচ্ছেন। আপনিও অলসতা এবং পরিকল্পনার অভাবে ঠিক সময়ে কাজ হস্তান্তর করতে পারছেন না। মানুষ আপনার বিকল্প খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। আবার পরিকল্পনা না থাকার করনে আপনি সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারছেন না। যার ফলে আপনার সৃজনশীলতা ব্যাকডেটেড হয়ে যাচ্ছে। এরকম অসংখ্য মেধাবী আমাদের চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা ছাত্র, পেশাজীবী, শিক্ষক সবারই প্রয়োজন। দিনের সঠিক পরিকল্পনা আপনাকে একটি সফল মাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে, মাস গিয়ে হবে বছর এবং বছর শেষে হবে কাঙ্খিত প্রাপ্তি। “ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।” ছোটবেলার এই কবিতাটির কথা মনে আছে? পবিত্র কোরআন শরীফের ১৩ নম্বর সূরার ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উল্লেখ করেছেন

”মানুষের জন্য তার সামনে ও পিছনে একের পর এক প্রহরী থাকে; তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেননা যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। কোন সম্প্রদায় সম্পর্কে যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তাহলে তা রদ করার কেহ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক (ওয়ালী) নেই“ আল কোরআন, ১৩:১১

এই আয়াতটি থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি আল্লাহ আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ততক্ষন পর্যন্তু করবেন না,যতক্ষণ না আমরা নিজের মধ্যে পরিবর্তন না আনবো“। নেয়ামত সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহ ছড়িয়ে রেখেছেন আমাদের জন্য। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সেগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আর এ কাজটি আপনার জন্য আপনাকেই করতে হবে, কেউ করে দেবে না। যদি সঠিক কাজটি সঠিক সময়ে না করেন তাহলে আপসোস আপনাকেই করতে হবে, অন্য কেই করবে না।

(এই ভিডিওটি দেখুন! এই ভিডিওটি ব্লগ অনুসারে তৈরি করা হয়েছে)

 

আমি কিছু পরামর্শ এই অংশে উল্লেখ করতে চাই যা আপনার কাজে দেবে দৈনিক কাজের পরিকল্পনা করতেঃ

১. পূর্ণ দিবালোক কাজে লাগানঃ

সূর্যের সাথে তাল রেখে নিজের জীবনকে পরিচলনা করবার অনুশীলন করুন। ১০ থেকে ১২ ঘন্টা আমরা পূর্ণ দিবালোক পেয়ে থাকি। আমি একসময় ভাবতাম সৃজনশীল কাজ রাতের বেলায় ভালো করতে পারি। কিন্তু পরবর্তিতে খেয়াল করে দেখলাম যে না রাতের বেলায় কাজ করছি কিন্তু কারো সাথে পরামর্শ করতে পারছি না। কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে আমাকে অপেক্ষা করতে হতো পরের দিন সকাল পর্যন্ত। আর ততক্ষণে সেই উৎসাহে ভাটা পরে যেত। একদিন চিন্তা করলাম তারাতারি রাতে ঘুমিয়ে ফজরের আযানের সময় ঘুম থেকে উঠে কাজ করবো। করলামও তাই। বাড়ির সবাই মনে করলো আমার বোধ হয় শরীর খারাপ করেছে। আমি খুব সকালে উঠে ফজরের নামাজ পড়লাম, হালকা ব্যায়াম করলাম। খুব সাধারন নাস্তা করে কাজে বসে গেলাম। সকাল ৫:৩০টা থেকে ৭:৩০টা পর্যন্তু  আমি যে দু-ঘন্টা কাজ করলাম, সেটি সারারাত জেগে ৪/৫ ঘন্টা কাজের চেয়ে অনেক বেশী প্রোডাক্টিভ ছিলো। আমার উপলদ্ধি হলো খুব সকালে পরিকল্পনা করলে সেটি দিনের শেষভাগের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা সহজ। যা সারারাত জেগে পরের দিন করা সম্ভব হয় না।

২. কাজ ভাগ করে ফেলাঃ

এটাই স্বাভাবিক আপনার প্রতিদিন অসংখ্য রকমের কাজ থাকবে। তাই আপনাকে কাজ গুলোকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে ফেলতে হবে। আমাদের প্রত্যেকে বাড়িতে একটি করে আলমিরা আছে। ধরুন আলমিরাতে কোন ড্রয়ার নেই। সবগুলো কাপড় আপনি একসাথে জড়ো করে রাখেন। যখন বেড়াতে যাবার জন্য আলমিরার দরজা খুলবেন, তখন আপনি দিশেহারা হয়ে যাবেন। কোন কিছুই সময় মতো খুঁজে পাবেন না। সেজন্য আমরা কি করি? প্রতিটি ড্রয়ার নির্দিষ্ট কিছু কাপড়ের জন্য বরাদ্দ করে রেখে দেই। ঠিক একইভাবে কাজগুলো কে যদি আমরা ভাগ করে ফেলতে পারি তাহলে আমি দিন শেষে মূল্যায়ন করতে পারবো কোন কাজটি সম্পন্ন হয়েছে বা কোন কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারিনি।

৩. গ্রুপিংঃ

কাজের গ্রুপিং করা বা গ্রুপ অনুসারে তালিকা করা অত্যন্ত জরুরী। আমি যেহেতু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কাজ করি। তাই আমাকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়। যেমন আমাকে –

  • মার্কেটিং এবং ব্র্যান্ডিং বিভাগের সাথে কাজ করতে হয়।
  • সেলস টিমের সাথে কাজ করতে হয়।
  • প্রতিষ্ঠানের কৌশল নির্ধারন করতে হয়।
  • এ্যাডমিন টিমের সাথে কাজ করতে হয়।
  • ফাইন্যান্স এন্ড একাইন্টস টিমের সাথে পরামর্শ করতে হয়।
  • মিটিংয়ে যোগদান এবং ইমেইল বা এসএমএস এর জবাব দিতে হয়।
  • নেটওয়ার্কিং করতে হয়।
  • জ্ঞান অর্জন করতে হয়, জ্ঞান শেয়ার করতে হয়।
  • ক্লাশ করতে হয়, ক্লাশ নিতে হয়।
  • পরিবারকে সময় দিতে হয়, ইত্যাদি।

আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের প্রতিদিন এই দশ ধরনের কাজ কমবেশী করতেই হয়। আমার চেয়ে যারা আরো বড় মাপের মানুষ তাদের কাজের গ্রুপ আরো বড়। এই দশটা হলো আমার কাজের গ্রুপ, যার ভেতর আরো অনেক সাব টাস্ক থাকতে পারে। অতএব আপনার কাছে যদি নিজের কাজের গ্রুপটি পরিষ্কার থাকে তাহলে আপনি প্রতিদিন নিশ্চিত করতে পারবেন আপনার প্রোডাক্টিভিটি। প্রতিদিন রাতে নিজের কাজের তালিকাটি করে যদি ঘুমাতে পারেন, তাহলে আগামীকাল সবসময় আপনার হবে।

৪. প্রযুক্তির ব্যবহারঃ

বর্তমানে নিজের পরিকল্পনার জন্য অনেক সহজ এবং ফ্রি টুলস আপনার হাতের কাছেই আছে। আপনি সহজেই এই টুলসগুলোকে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ক্যালেন্ডারে কাজের তালিকা দিয়ে রাখতে পারেন। ইমেইলের টাস্কে নিজের টু-ডু-লিষ্ট তৈরি করতে একটা সময়সীমা দিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া অসংখ্য টাইম ম্যানেজমেন্ট টুলস আছে যা আপনাকে সবসময় আপডেট থাকতে সাহায্য করবে।

৫. অগ্রাধিকার খুঁজে বের করতে হবেঃ

সারাদিন অসংখ্য কাজের কথা মাথায় আসে। অনেক কাজ করতে ইচ্ছে করে। সারাদিনের কিছু কাজ আছে যা করতেই হবে। আবার কিছু কাজ আছে যা পরে করলেও চলবে। এখন আপনি যদি বুঝতে ভুল করেন, আর যা করতেই হবে তা না করেন তাহলে দিনশেষে ক্ষতি আপনার নিশ্চিত। তাই তিনটি শব্দ আপনাদের জন্য আমার তরফ থেকে যা আমি ফলো করি।

  • “Must (অবশ্যই করতে হবে)”,
  • “Should (করা উচিৎ)” এবং
  • “Could (শেষ করতে পারলে ভালো)”।

এই তিনটি ক্যাটাগরিতে আমি আমার কাজ প্রতিদিন ভাগ করে ফেলি। আমার লক্ষ্য থাকে তিনটি ক্যাটাগরির কাজই শেষ করা। তবে “Must” ক্যাটাগরির কাজ শেষ না করে ঘুমাবো না আবার সারারাত জাগবোও না। অতএব অগ্রাধিকার যদি বুঝতে না পারি, তাহলে কারো অগ্রাধিকারে আমিও থাকতে পারবো না।

প্রায় ১৫০০ শব্দ লিখে ফেললাম ‍দিনের পরিকল্পনা বোঝাতে গিয়ে। যারা শেষ পর্যন্ত পড়লেন তারা আশাকরি বুঝতে পেরেছেন দিনের পরিকল্পনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বেন্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে

“If you fail to plan, you are planning to fail” যার বাংলা অর্থ দাড়ায় ”আপনি যদি পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আপনি ব্যর্থ হবার পরিকল্পনা করছেন”।

আরেকটি উক্তি আমার খুব পছন্দের

“A goal without a plan is just a wish”. অর্থাৎ পরিকল্পনা ব্যতীত লক্ষ্য কেবল একটি ইচ্ছা ছাড়া আর কিছুই নয়।

অতএব পরিকল্পনা করুন, সেই অনুযায়ী কাজ করুন। কাঙ্খিত সাফল্য নিশ্চিত আপনার হবে ইন শা আল্লাহ।

 

Author: K M Hasan Ripon , Executive Director, BSDI

Email: kmhasan.ripon@gmail.com

Illustration Lion Blog Banner

লকডাউনে হতাশ না হয়ে নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করবেন?

কোভিড-১৯’র মহামারী চলছে। সবার জীবনে প্রভাব পড়েছে। সবাই কমবেশী আঘাত প্রাপ্ত। ছাত্র, পেশাজীবি বা ব্যবসায়ী সকলেই যেন এক শেষ না হওয়া দুঃশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সকলেরই একটাই প্রশ্ন কবে শেষ হবে এই মহামারী (Pandemic)? কবে ফিরে আসবে সেই পূর্বের স্বাভাবিকতা। এই নতুন স্বাভাবিক আর ভালো লাগছে না! এখানে বলে রাখি ২০২০ এর শুরুতে যখন প্রথম কোভিড ১৯ (Covid19) মহামারী বিশ্বব্যপী শুরু হয় তখন একটি নতুন শব্দের সাথে আমরা পরিচিত হই তাহলো ”নিউ নরমাল” (New Normal) বা নতুন স্বাভাবিক। যদিও ২০০৮-২০১২ সালে বৈশ্বিক মন্দার (The global recession) কালে আরেকবার নিউ নরমাল শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

যাই হোক নতুন স্বাভাবিক মানে হলো যখন পূর্বের ন্যায় আমরা জীবন পরিচালন করতে ব্যর্থ হই। একটি বিষয় আমাদের স্মরণে রাখতেই হচ্ছে যে চাহিদা আমাদের আগের মতোই আছে কিন্তু তা পূরণ করতে আমাদের নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হচ্ছে। চাহিদা কি আমাদের কমেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে না। মাধ্যম শুধু বদলেছে। মহামারীর মধ্যেও আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের গতিও থেমে নেই। শুরুতেই বলেছি চাাহদা পূরণের মাধ্যম বদলেছে। অর্থাৎ বৃহৎ অংশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। মানুষের চাহিদা পূরণে বেড়েছে কর্মীর প্রয়োজন, তবে আগের সেই স্বাভাবিক কাজের জন্য নয়।

এপ্রিলের শুরুতেই ড্যাফোডিলের বেশ কয়েকটি পদে কর্মী নিয়োগের জন্য ইন্টার্ভিউর আয়োজন করা হয়। যথারিতি কোভিড-১৯ এর কারনে সম্পূর্ণ ইন্টার্ভিউ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রহণ করা হয়। কম্পিউটারের স্ক্রিনে আমরা যারা ইন্টার্ভিউ নেবার জন্য উপস্থিত ছিলাম তারা সবাই ক্যামেরা অন করে ফরমাল ড্রেসআপে বসেছিলাম এবং একজন করে ইন্টাভিউর জন্য তৈরি করা ভার্চুয়াল বোর্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছিলেন। আমার দায়িত্ব ছিলো প্রার্থীর সাথে প্রথমে আলাপ শুরু করা।

দেখে এতো আনন্দিতবোধ করছিলাম যে আমাদের দেশের সদ্য গ্রাজুয়েটরা খুব চমৎকার করে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছিলেন ভার্চুয়াল ইন্টার্ভিউর সাথে। তারা চমৎকার করে তাদের স্ক্রিন শেয়ার করছিলেন, ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কথা বলছিলেন, প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন ফাইল খুলে দেখাচ্ছিলেন এবং নিজেদের সোস্যাল মিডিয়ার সাইটগুলোর ব্যবহার চমৎকার করে ব্যাখ্যা করছিলেন।

এদের মধ্যে আবার কিছু গ্রাজয়েট ছিলেন যারা নিজেদের মুখ ক্যামেরার সামনে রাখতেই পারছিলেন না। অনেকে আবার স্ক্রিন শেয়ার করবার বিষয়টি কি সেটাই ধরতে পারছিলেন না। অনেকে লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হতেই পারেন নি। যাইহোক সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা যেমন আমার হলো তেমনি আমার ধারনা যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদেরও হয়েছিল আশা করছি। বর্তমানে এমন এক সময় আমরা পার করছি যখন আমাদের অনেকেরই মাথা শুন্য মনে হচ্ছে। অনেকেই হয়তো আছেন যারা কোন কিছু ভাবতে পারছেন না। চুপচাপ ঘরে বসে আছেন। কোন পরিকল্পনা করতে পারছেন না। পবিত্র কোরআন শরীফের দুটো আয়াত আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই –

নিশ্চয়ই আমি মানুষকে কষ্ট পরিশ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছি”সূরা আল বালাদ (৯০), আয়াত

বিপদে যারা ধৈর্যশীল, আল্লাহর অনুগ্রহ তাদের সাথেই থাকে”- সূরা আনফাল (০৮), আয়াত ৬৬ (আয়াতের শেষ অংশ)

উপরের দুটো আয়াত থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের এমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন যেন আমরা কোনভাবেই বিপদে ভেঙ্গে না পরি। বরং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিহার করে, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে, ধৈর্যশীলতা দিয়ে বিপদকে মোকাবেলা করতে থাকি।

শুরুতেই যেটি বলেছিলাম মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। অনেক কিছুই আর আগের মতো হচ্ছে না। তবে মানুষের চাহিদা থেমে নেই। এখনো প্রতিটি ব্যবসার পন্য বা সেবা একইভাবে মানষের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে হচ্ছে। প্রয়োজন হচ্ছে কর্মীর তবে আগের মতো যেহেতু পন্য বা সেবা মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রাতিষ্ঠানিক কার্যে যেমন এসেছে পরিবর্তন, কর্মী নিয়োগেও আনতে হচ্ছে নতুনত্ব।

সবারই বিশ্বাস রাখতে হবে যে প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ হচ্ছে বা হবেই। প্রতিটি দেশে কোভিডের আক্রমন একেক রকম। বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি বছরের শুরুতে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত কোভিডের সংক্রামন কিছুটা উর্ধ্বমূখী থাকে। তার মানে চার মাসের একটি বিরতি আমাদের না চাইতেও নিতে হচ্ছে। এই সময়টিতে আমরা নিজেদের জন্য কিছু পরিকল্পনা করে নিতে পারি।



আপনার পরিকল্পনাকে আপনি পাঁচটি ভাগে ভাগ করে নিতে পারেনঃ

১. সম্পর্ক উন্নয়ন

মানষের সাহায্য ছাড়া কখনোই মানুষ উপরে উঠতে পারবে না। এটি একটি চিরন্তন সত্য বাণী। কিন্ত আমরা দেখতে পাই এই বাণী আমাদের যখন বিশ্বাস করার প্রয়োজন তখন আমরা করছি না। আপনি খুব সহজেই এই কাজটি করতে পারেন। আমাদের প্রত্যেকের কাছেই আছে লিংকডইন এবং ফেসবুকের মতো দুটি বিশাল সম্পর্ক উন্নয়নের হাট। আপনার কাঙ্খিত সেক্টরের সফল প্রফেশনালদের সান্নিধ্যে নিজেকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করুন। তাদের বিভিন্ন অনলাইন পোস্ট, আর্টিক্যাল, ব্লগ, ভিডিও, লাইভ উপস্থিতি উপভোগ করুন, বোঝার চেষ্টা করুন এবং নিজে নিজে ব্যাখ্যা করুন। তারপর আপনার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার বা লিংকডইন মেসেজ ব্যবহার করে আপনার মন্তব্য করুন বিনয়ের সাথে। নিজের তৈরী সিভি, ভিডিও রিজুমে, ব্লগ, ভিডিও প্রফেশনালদের কাছে পাঠিয়ে ফিডব্যাকের জন্য অনুরোধ করুন। আমি বিশ্বাস করি ১০০ জনকে পাঠালে অন্তত ১০ জন অবশ্যই আপনাকে তাদের মন্তব্য দেবে।

আমার ব্যক্তিগত ওয়েব সাইট (https://kmhasanripon.info) থেকে একটি ব্লগ পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা একটি ছেলে এতো সুন্দর করে বিশ্লেষণ করলো, পড়ে আমি মুগ্ধ। আমি তার সাথে কথা বলরাম-

– আমি তাকে বললাম আপনি কি লিখতে পছন্দ করেন।

– জী! আমি লিখতে পছন্দ করি।

– আমি যদি কোন একটি বিষয় আপনাকে দেই, আপনি কি লিখতে পারবেন?

– আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো স্যার

আমি তাকে একটি বিষয়বস্তু দিয়ে বললাম ২৫০ শব্দের ভেতর একটি আর্টিক্যাল তৈরি করুন। ঠিক সময়ে আর্টিক্যাল লিখে আমার কাছে জমা দিলো। আমি পড়ে তাকে আমার অফিসে কফি খাবার আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করবার জন্য অনুরোধ করলাম ক্রিয়েটিভ কন্টেন্ট ডেভেলপার হিসেবে। অতএব এই কঠিন সময়েও কাজ পাওয়া যাবে এবং কাজে উন্নতি করা যাবে কাজ যত যাইহোক কাজ থেমে নেই।

আগামী চারমাসের একটি পরিকল্পনা করুন। আপনার পছন্দের সেক্টর বা সেক্টরের বাইরে কত নতুন মুখ আপনি চিনবেন এবং আপনাকে চেনাবেন। সম্পর্ক উন্নয়নে নীচের কয়েকটি কাজ করে দেখুনঃ

  • ইমেইলের মাধ্যমে নিজেকে বিনয়নের সাথে পরিচিত করুন
  • ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার বা লিংকডইনের মাধ্যমে সফল ব্যক্তিদের সাথে কানেক্ট হবার চেষ্টা করুন। আমার একটি থিওরী আছে, কেউ যদি পাঁচবারের মধ্যে আপনার কোন কমেন্ট বা প্রশংসার বা প্রশ্নের জবাব না দেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনাকে তার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য আরো প্রস্তুতি নিতে হবে।
  • ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার বা লিংকডইনের মাধ্যমে আপনার সিভি বা ভিডিও রিজুমির উপর ফিডব্যাক দেবার জন্য অনুরোধ করুন।
  • বিভিন্ন প্রফেশনাল গ্রুপ বা পেইজে মেম্বার হয়ে ক্রিয়েটিভ আলোচনায় অংশ নিন।
  • অযথা সমালোচনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন এবং নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • প্রতিদিন ভালো কাজের প্রশংসা করুন এবং ভালো কাজ করছে এমন মানুষদের ধন্যবাদ দিন।
  • অহেতুক সমালোচনামূলক পোস্ট, ভিডিও, লাইভ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। মনে রাখবেন এই সকল অহেতুক কন্টেন্ট আপনি আপনার কষ্টের টাকা দিয়ে কেনা মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে দেখছেন আর বিনিময়ে তারা ফেসবুক বা লিংকডইন থেকে আয় করছে। আর আপনি নিজের অজান্তে করছেন নেতিবাচকতার অনুশীলন।

২. অভিজ্ঞতা অর্জন

অধিকাংশ মানুষ আমরা মনে করি অভিজ্ঞতা অর্জন পড়াশুনা শেষ করার পর। যদিও উন্নত বিশ্বের মানুষেরা সারাজীবনই ব্যয় করে থাকেন ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। আবার অনেকে মনে করেন অভিজ্ঞতা অর্জন মানেই হলো ৯-৫টা চাকরি। একবার সদ্য পাশ করা এক গ্রাফিক্স ডিজাইনার “লিটন” আমার কাছে আসলেন ইন্টার্ভিউ দিতে। আমি তার ডিজাইন দক্ষতা দেখে বেশ মুগ্ধ। তাকে জিজ্ঞেস করলাম এতো ডিজাইন দক্ষতা অর্জন করেছেন কিভাবে? এখানে বলে রাখি লিংকডইনে তাকে আমি দুটি এ্যাসাইমেন্ট দিয়েছিলাম যা খুব সুন্দর করে সে সম্পন্ন করেছিলো।

সে উত্তরে আমাকে বললো, আমি প্রতিদিন ইউটিউভের মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখতাম এবং নিজে হাতে সেগুলো অনুশীলন করতাম। একদিন আমার মনে হলো আমাকে তো কেউ কোন কাজ দিচ্ছে না, তাহলে আমার অভিজ্ঞতা বাড়াবো কিভাবে? আমি বিশ্বের সেরা ৫০টি প্রতিষ্ঠানের লোগো, বিভিন্ন ব্যানার ইউটিউভ দেখে নতুন করে বানাতে শুরু করলাম। যেগুলো বেশী জটিল মনে হতো সেগুলোর ব্যাপারে বড় ভাইদের পরামর্শ নিয়ে করে ফেলতাম। যখন মোটামুটি একটু আত্মবিশ্বাস বাড়তে শুরু করলো তখন বড় ভাই এবং বিভিন্ন প্রফেশনালদের কাছে কাজ চাইতে শুরু করলাম এবং কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই করে দিতাম। তবে চুক্তি ছিলো যে আমার কাজ ভালো লাগলে তারা আমাকে প্রশংসা পত্র দেবে। ব্যস চার মাসের মধ্যে আমার ঝুড়িতে চলে আসলো নামী দামী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা। তারপর শুরু করলাম প্রারিশ্রমিকের মাধ্যমে কাজ খুঁজবার মিশন।

লকডাউনের এই সময়ে আপনারাও আমার পছন্দের কাজটির জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে পারেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বুদ্ধি লাগে যা শুধু লিটনের নয়, আপনারও আছে।

৩. দক্ষতা বৃদ্ধি

দক্ষতা ছাড়া বর্তমান সময়ে কারো কোন মূল্য নেই। আপনাকে যে কাজ দেবে সে আপনাকে নয় বরং আপনার দক্ষতা দেখে কাজ দেবে। এখন প্রশ্ন হলো লকডাউনে দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন কিভাবে? আপনারা ঠিকই আঁচ করতে পারছেন আমি আপনাদের কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছি। জীং আপনি ঠিকই ধরেছেন। এখানেও আমি প্রযুক্তির ব্যবহার যথাযতভাবে করবার পরামর্শ দেবো। ধরুন আপনি এইচআর নিয়ে পড়াশুনা করছেন। গুগলকে ব্যবহার করে ৫০টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের জব সার্কুলার সার্চ করে আপনার ল্যাপটপে সংরক্ষণ করুন। তারপর সেই ৫০টি সার্কুলার থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো কি ধরনের দক্ষতা খুঁজছেন, তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং আগামী ৩০ দিনের একটি পরিকল্পনা করুন। তারপর ইউটিউভ দেখে দক্ষতাগুলো নিজের মধ্যে আয়ত্ব করবার চেষ্টা করুন।

৪. জ্ঞানের বিকাশ

বাংলাদেশ এখন আর আগের জায়গায় নেই যে জ্ঞান বিকাশের জন্য আপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। আপনার হাতে কাছে থাকা প্রযুক্তি ব্যবহার করেই আপনি কমার্শিয়াল সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারেন। প্রচুর ফ্রি ওয়েবইনার, ওয়ার্কশপ, লার্নিং ভিডিও, বুক রিভিউ, বিভিন্ন গবেষণা ভিত্তিক ডকুমেন্টারি ইন্টার্নেটে ঘুড়ছে। তালিকা তৈরি করুন এবং জ্ঞান বিকাশ করুন হতাশায় ডুবে না থেকে।

৫. প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি

আপনার হাতে স্মার্টফোন আছে যেটি এই মুহুর্তে আপনাকে বিশ্বের যেকোন কিছুর সাথে সংযুক্ত করিয়ে দিতে পারে। হয়তো আপনার বাড়িতে ল্যাপটপ আছে, যা দিয়ে আপনি ঘরে বসে অনেকের সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেন। খুঁজে বের করুন আপনি এমন কোন ধরনের এ্যাপস আপনার মোবাইলে নেই যা দিয়ে আপনি উপরের পাঁচটি কাজ অনায়সে করতে পারবেন। আসলে সমস্যা হচ্ছে স্মার্টফোন দিয়ে আমরা শুধু জানি ফেসবুক আর ইউটিউভের মাধ্যমে অন্যের তৈরি সমালোচনা মূলক ভিডিও বা সিনেমা/নাটকের কাটপিস দেখা। এর বাইরেও স্মার্টফোনের অনেক কাজ আছে। নিজে কন্টেন্ট তৈরি করুন, আর্টিক্যাল লিখুন, ব্লগ লিখুন, আপনার সিভি প্রচার করুন, ভিডিও রিজুমে ছড়িয়ে দিন। মোবাইল ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং করুন, ঘরে বসে ডলার আয় করুন।

শেষ কথাঃ

উপরের পাঁচটি বিষয়কে মাথায় রেখে আপনি আপনার নিজেকে পরিবর্তন করুন। সবচেয়ে সহজ কাজ হলো হাত গুটিয়ে বসে থাকা আর হতাশা চর্চা করা। ভেবে দেখুন আপনি দুনিয়ার সব থেকে বড় নেয়ামতের মালিক কারন আপনি সুস্থ আছেন। আপনার শক্তি আছে। আপনি চিন্তা করতে পারছেন। কিছু মানুষ আছে যারা আপনাকে বিশ্বাস করে। অতএব উন্নত মানসিকতাকে ব্যবহার বুদ্ধি খাঁটিয়ে বের করুন লকডাউনের ভেতরও মানুষের কোন কোন চাহিদাগুলো আপনি পূরণ করতে পারেন?

 

Author:

K M Hasan Ripon, Executive Director, BSDI

Email: kmhasan.ripon@gmail.com

Yellow Rediscovering Amphibians Blog Banner (1)

Challenges of A Leader – একজন লিডারের চ্যালেঞ্জ

(The Challenge of a Leader)

একজন লিডারের চ্যালেঞ্জ হলো কর্মক্ষেত্রে D2E বাস্তবায়ন করা। D2E মানে হলো একজন লিডারকে –

  • সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় (Decision Making)।
  • কর্মীদের মাঝে কাজ ভাগ করে দিতে হয় (Delegation of Work) এবং সর্বশেষ।
  • কর্মীকে তার কাজের জন্য মূল্যায়ন করতে হয় (Evaluation of employee’s performance) ।

এখন প্রশ্ন হলো অনেক কাজের বাইরে যদি শুধু উপরের তিনটি কাজের কথা ধরি তাহলে একজন লিডার সাময়িকভাবে সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। আবার তিনি সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন যদি উপরের তিনটি কাজে কিছুটা নিস্ক্রিয়তা অবলম্বন করেন। বর্তমানে লিডারশীপ নিয়ে অসংখ্য মোটিভেশনাল ভিডিও তৈরি হচ্ছে যেগুলো দেখে একজন লিডার তার কর্মক্ষেত্রে উপরের D2E সুষ্ঠভাবে পালন করতে পারছেন না। কারন সঠিক পথে থেকে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন, দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ বন্টন এবং কাজ শেষে কর্মীর মূল্যায়নে সাময়িকভাবে কিছু মানুষ অসন্তুষ্ঠ হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সে মানুষগুলোই আবার তাদের ভুল বুঝতে পেরে সেই লিডারের প্রশংসায় মেতে উঠে। লিডারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় (Decision Making)। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার জন্যই প্রতিষ্ঠান তাকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে থাকেন। কিন্তু সমস্যা হলো আবেগের কাছে প্রায়শই পরাজিত হয়ে নেতৃত্বের আসনে থাকা একজন লিডার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আপনাদের বুঝিয়ে দেবার চেষ্টা করবো। ২০২০ সালে যখন আমরা কোভিড-১৯ এর কারনে সৃষ্ট প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হই তখন আমরা বেশ কিছু নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাই। এক ধরনের লিডার যারা সোস্যাল মিডিয়ায় ঘোষনা দিয়ে বললেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মীর বেতন করোনার কারনে কমানো হবে না। সকল প্রকার সুবিধা বিশেষ করে ফেস্টিবল বোনাস যথাসময়ে পরিশোধ করা হবে। আবার আরেক ধরনের লিডার যারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছিলেন। প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই কর্মীদের সাথে আলাপ করে বেতন আংশিক কমিয়ে প্রদান করা শুরু করলেন। ফলে দেখা গেল সোস্যাল মিডিয়ায় একজন লিডার হলেন প্রশংসিত আর অন্যজন হলেন নিন্দিত।

প্রক্ষান্তরে, করোনার প্রকোপ যখন দিন দিন বাড়ছিলো তখন দেশের সকল প্রতিষ্ঠান প্রায় দিশেহারা হয়ে গেল। প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখাই হয়ে উঠলো একমাত্র লক্ষ্য। কিছুদিন পরই যারা আবেগের কাছে হেরে গিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় হিরো হবার চেষ্টা করেছিলেন, তারা বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিয়ে কর্মী ছাটাই শুরু করে দিলেন। অন্যদিকে, বাস্তবতা প্রাধান্য দিয়ে একজন কর্মীও করোনার কারনে ছাটাই করলেন না। বরং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা আবার আগের জায়গায় নিয়ে এসে কর্মীদের পূর্ণ বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পুনরায় সচল করে দিলেন। লীডারের অতি আবেগ তাড়িত সিদ্ধান্ত এবং দূরদর্শিতার অভাবে একদল সাময়িকভাবে জিতে গিয়েও হেরে গেল। অন্যদিকে লীডারের বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত এবং দূরদর্শিতার কারনে একদল সাময়িকভাবে হেরে গিয়েও শেষমেষ জিতে গেল।

লিডারকে কর্মীদের মাঝে কাজ বন্টন করে দিতে হয় (Delegation of Work)। যা অনেকগুলো দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো কাজ কি আমরা ভাগ করে দিতে পারছি? অথবা, ভাগ করে দিলেও সঠিক কর্মীকে দিতে পারছি? লিডারকে সবসময় যে কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর দিতে তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলোঃ

  • কাজ বাছাই করা,
  • সঠিক কর্মী নির্ধারন এবং
  • কাজটি সঠিকভাবে কর্মীকে বুঝিয়ে দেয়া।

কিন্তু এখানেও লিডার আবেগের কাছে হেরে গিয়ে কর্মীদের মাঝে কাজ বন্টন করতে পারছেন না। লিডারশীপ রোলে আবির্ভুত হবার পর একজন লিডার অতি সহজে একটি কিষয় ভুলে যান। সেটা হলো এই পজিশনে আসতে গিয়ে তাকে কত ধরনের চাপ সহ্য করতে হয়েছে, ধাক্কা এবং ঝুঁকি নিতে হয়েছে। কিন্তু এই সোস্যাল মিডিয়ার যুগে এসে লিডার কেমন জানি কাজ বন্টনে নিস্ক্রিয় বা উদাসীন হয়ে থাকেন। সবাই যেন প্রতিষ্ঠানের কথা ভুলে গিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় হিরো টাইপ লিডার হবার প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে ব্যস্ত। অথচ সকল কর্মী এক রকম নয়। কর্মীর দক্ষতা বিন্যাস করে, যার যে রকম যোগ্যতা এবং দক্ষতা, তাকে সেরকম কাজ বুঝিয়ে দেয়াটাই জরুরী। পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে নিরীক্ষণ নিশ্চিত করা। কারো ধাক্কার প্রয়োজন হয়, কারো প্রতিনিয়ত রিমাইন্ডার বা একটু প্রশংসার প্রয়োজন হয়। এখন সোস্যাল মিডিয়ায় হিরো টাইপ লিডার হতে গিয়ে যার একটু ধাক্কা দরকার তাকে যদি শুধু রিমাইন্ডারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখি, তাহলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি তো হবেই তার চেয়ে বড় কথা সেই কর্মীরই ক্ষতি হবে সব থেকে বেশী।

একটি ঘটনা আপনাদেরকে বলতে চাই। আমার কাছে এক ছোট ভাই এলো এবং আমরা দুজনে গল্প করছিলাম। আমাকে বললো ”ভাইয়া আপনিতো জানেন আমি একটু ইন্ট্রোভার্ট টাইপের মানুষ। আমি একটু কম কথা বলি এবং নিজেকে পাবলিক ফোকাস থেকে একটু দুরে সরিয়ে রাখি। আমার টিমে আমার আরেকজন সহকর্মী আছে যে আমার পুরো উল্টো মানে এক্সট্রোভার্ট। আমাদের সাথে নতুন একজন লিডার যুক্ত হলো যিনি সবসময় ঐ সহকর্মীকেই তার কাছে টেনে রাখতেন। যেকোন এ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন বা মিটিংয়ে তাকেই সুযোগ দেয়া হতো।

আমি একদিন লিডারকে বাধ্য হয়েই বললাম আমি ঐ কাজটি করতে চাই এবং সুন্দরভাবে প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে দিলাম এবং আমি কিভাবে ফলাফল নিশ্চিত করবো তাও উল্লেখ করলাম। লিডার আমার কথা শুনে কি মনে করলেন জানি না তবে আমি দায়িত্বটি পেয়ে গেলাম। সর্বোচ্চ মেধা এবং কায়িক শ্রম দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করলাম এবং কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করলাম। সে বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আমি বেস্ট পারফরমার এ্যাওয়ার্ড পাই। সেদিন আমি একটি বিষয় বুঝতে পারলাম যে, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস যদি থাকে তাহলে কখনো কখনো আপনার যা প্রাপ্য তা বিনয়ের সাথে দাবি করা দরকার। যদিও এক্ষেত্রে আমি আমার লিডারকে ক্রেডিট দেবো কারন তিনি আমার প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি নিরীক্ষণ নিশ্চিত করেছেন এবং কোয়ার্টারের বেস্ট পারফরমার লিষ্টে আমার নামটি উল্লেখ করেছিলেন।”



লিডারকে মূল্যায়ন করতেই হবে (Evaluation of employee’s performance) কাজের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে। লিডার যদি শুধু কাজ বন্টন করেই যান এবং কাজ আদায় করার ক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকেন কর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন না করে তাহলে সেই কর্মীই একদিন তার কাজ করার স্প্রিহা হারিয়ে ফেলবেন। লিডার সবসময় এক ধরনের সঙ্কায় থাকেন যে, আমার সঠিক মন্তব্য বা মূল্যায়নে যদি কর্মী আঘাত পান আর আমাকে লিডার থেকে বস বানিয়ে যদি সোস্যাল মিডিয়ায় উপস্থাপন করেন! আমি লিডার না বস এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেক মানুষ প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলেন যা কখনই প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসতে পারে না। লিডার যদি তার ইমেইজ ভালো রাখবার জন্য সবাইকে সর্বাধিক নম্বর প্রাপ্তি কর্মী বানিয়ে দেন তাহলে সাময়িক প্রশান্তি পেলেও অদূর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেই কর্মীরাই তার দিকে প্রশ্নের আঙ্গুল প্রদর্শন করবে।

বন্ধুরা একজন লিডার একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি দলের অবিভাবকের মতো। বাবার কাছে যেমন সবকিছু চাইলেই পাওয়া যায় না তেমনি লিডারও সবকিছুই চাইলেই দিতে পারেন না। ছোট বয়সে বাবার করা অনেক বারণ আমরা সহজভাবে নিতে পারিনি কিন্তু এখন যখন নিজেই বাবা হয়েছি তখন সেই সময়ে বাবার আদেশ, নিষেধ, রাগ, আদরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারছি। আমাদের সকলের স্মরণে রাখতে হবে একজন লিডারের অন্যতম দায়িত্বের মধ্যে একটি হলো তিনি একজন প্রশাসক বা এ্যাডমিনিসট্রেটর। আর এই পদবীটি সবসময়ই একটু কঠিন কারন তাকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা সাময়িকভাবে অন্যকে খুশি করতে পারে না বা একজন প্রশসক কখনই সবাইকে খুশি করতে পারেন না। তবে তিনি যদি ন্যায়ের পথে থেকে সিদ্ধান্ত বা বন্টন বা মূল্যায়ন করেন তবে সেটি একদিন প্রকাশিত হবেই। লিডার হিসেবে আপনি শতভাগ ভালো বা খারাপ হতে পারবেন না। অবশ্যই এখানেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। বর্তমানে লিডারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমার মতে তারা বাবা হতে পারছেন না!

—————————————————————————————————————–

লেখকঃ

কে, এম, হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

ইমেইলঃ kmhasan.ripon@gmail.com

Teaser-78

অনুপ্রেরণামূলক গল্প | উৎসাহ

একদল ব্যাঙ বনের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, হঠাৎ তাদের মধ্যে দু’টি ব্যাঙ গভীর গর্তে পড়ে গেল। অন্য ব্যাঙ গুলো যখন গর্তটির চারপাশে ভিড় করেছিল এবং দেখল যে এটি যথেষ্ঠ গভীর তখন তারা ব্যাঙ দুটিকে বললো যে তাদের বেঁচে থাকার কোন আশা নেই। তবে, গর্তে পড়ে যাওয়া ব্যাঙ দুটি উপরের ব্যাঙগুলোর কথা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা গর্ত থেকে উপরে উঠবার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলো।

গর্তের উপরের ব্যাঙের দলটি তখনও বলছিল যে তাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত। তারা কখনই গর্ত থেকে বের হতে পারবে না। অবশেষে, গর্তে পড়ে যাওয়া ব্যাঙ দুটির মধ্যে একটি ব্যাঙ অন্যরা যা বলছিল সেদিকে মনোযোগ দিয়ে হাল ছেড়ে দিলো। অন্য ব্যাঙটি তখনও তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছিলো এবং সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে লাফ দিতে থাকল।

উপরে থাকা ব্যাঙগুলো তাকে পাথর মারতে লাগলো যাতে তারা তাড়াতাড়ি কম কষ্ট পেয়ে মারা যায়। গর্তে পড়ে থাকা ব্যাঙটি আগের থেকে লম্বা এবং জোড়ে লাফ দিল এবং এক সময় সে উপরে উঠতে সক্ষম হলো। যখন সে বের হলো, তখন অন্য ব্যাঙরা বলল যে তুমি কি আমাদের কথা শুনতে পাওনি? একটু বিশ্রাম নিয়ে ব্যাঙটি ব্যাখ্যা করলো যে সে বধির, কানে কিছুই শুনতে পায় না। সে মনে করেছিলো উপরের ব্যাঙগুলো তাকে পুরোটা সময় উৎসাহ দিয়ে আসছিলো যাতে সে দ্রুত গর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

গল্পের সারমর্ম: 


মানুষের কথা অন্যের জীবনের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ আছে যারা সবসময় অন্যকে উৎসাহ দেবার চেষ্টা করেন। আমি এক তরুনের সাথে কথা বলছিলাম এবং সে আমাকে জানালো যে সে বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলো তার প্রেজেন্টেশন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। এজন্য সে সেমিনার/ওয়ার্কশপে অংশগ্রহন করত। একদিন স্বীদ্ধান্ত নিলো সে ইউটিউভে তার ভিডিও আপলোড করবে। সে তার চেহারাকে গোপন করে শুধু তার ভয়েসকে ব্যবহার করে ভিডিও করতে লাগলো এবং তার বন্ধুরা তাকে যথারিতী প্রশংসা করতে লাগলো। একদিন এক বন্ধু তাকে পরমর্শ দিলো সে যেন তার চেহারাটাও ভিডিওতে ব্যবহার করে। বন্ধুর উপদেশ গ্রহন করে সে তার প্রথম ভিডিও আপলোড করলো এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলো। বন্ধুরা তার কাজ দেখে প্রশংসা করা শুরু করলো এবং কোন জায়গায় আরো উন্নয়ন প্রয়োজন সেগুলোও উল্লেখ করলো। বন্ধুদের প্রশংসা এবং পরামর্শ শুনে সে ভিডিও করতে থাকলো এবং দেখতে দেখতে তার ইউটিউভ চ্যানেলে প্রায় ১০ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার যুক্ত হলো। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম দেড় বছরের মধ্যে তোমার এই সাফল্য তুমি কাদের উৎসর্গ করতে চাও। সে নির্ধিধায় উত্তর দিলো প্রথমে আমার সৃষ্টিকর্তা এবং তারপর আমার সকল বন্ধু এবং শুভাকাঙ্খি যারা আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহের মাধ্যমে সাহস যুগিয়েছে।  

আপনার মুখ থেকে প্রতিটি শব্দ বা কলম দিয়ে লেখা প্রতিটি অক্ষর আপনার নিজের অজান্তেই আপনার কাছের বা দুরের মানুষদের সাহস যোগায় আবার ব্যর্থ করে দেয়। এজন্য আমি বিশ্বাস করি ”যদি আর কোন কিছু না পাও সাহায্য করবার তাহলে অন্তত ভালো কিছু শব্দ দিয়ে সাহায্য করে দিও”। কেউ হয়তো অনেক কষ্ট করে একটি কাজ সম্পন্ন করে আপনার কাছে জমা দিয়েছে। বেশী কিছুনা লাগবে না শুধুমাত্র একটি ধন্যবাদ এবং আরো উন্নয়নের জন্য কিছু পরামর্শ, দেখবেন বিদ্যুতের গতিতে যে ছুটে গিয়ে আরো মনোযোগ দিয়ে পরিশ্রম করছে।

অতএব আমাদের সবার উচিত মুখ থেকে শব্দ বের হওয়ার আগে আমি কি বলছি তা নিয়ে একটু চিন্তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


গল্পটি গুগল থেকে সংগৃহীত। সারমর্ম লেখক: কে এম হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

Teaser-63

অনুপ্রেরণামূলক গল্প | হয়তো লি কিম তার বিবাহের দিনটির কথা সাড়া জীবনেও ভুলবেন না

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গ্রামে ছোট্ট পরিবার নিয়ে এক সময় বাস করতো লি কিম। লি কিমের বাবা বেঁচে ছিলেন না এবং পরিবারে তাঁর মা, দাদী ও এক কিশোরী বোন ছিল। লি কিম যখন বিয়ের যোগ্য হয়েছিলেন তখন তাঁর মা তাঁর জন্য উপযুক্ত কনে খোঁজার কাজটি করেছিলেন। অনেক যোগাযোগের পর তিনি একটি মেয়েকে সনাক্ত করলেন তার ছেলের জীবনসঙ্গী হিসেবে।

উভয় পক্ষই বিবাহে সম্মতি জানালে, বিয়ের তারিখ নির্ধারন করা হলো। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য বিয়ের জন্য কাজ শুরু করে দিলেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজ বেছে নিলেন এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছিল। লি কিম বললেন আমি আমার বিয়ের স্যুটের দায়িত্ব নিলাম এবং এটি আমিই অর্ডার দেবো। সবাই খুব ব্যস্ত, আনন্দিত কারন বাড়ির একমাত্র ছেলের বিয়ের হচ্ছে যে অনেক ছোট বয়স থেকেই পরিবারের হাল ধরেছে এবং সকলের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে। সবাই চাচচ্ছিল লি কিমের বিয়েতে যেন কোন কমতি না থাকে। লি কিম সহ পরিবারের সবাই বিভিন্ন কাজে এতোটাই ব্যস্ত ছিলো বিয়ের দুদিন আগে হঠাৎ লি কিমের মাথায় এলো যে বিয়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে বিয়ের স্যুট সেটিই সে অর্ডার দিতে ভুলে গেছে। তড়িঘড়ি করে সে বাড়ির কাছের একটি দর্জির দোকানে গেলো এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। দর্জি তার বিপদের কথা শুনলেন এবং রাজি হলেন এতো অল্প সময়ের মধ্যেও বিয়ের স্যুট বানিয়ে দিতে। বিয়ের অন্যান্য কাজ শেষ করে লি কিম বিয়ের আগের রাত ৯ টার দিকে দর্জি দোকানে গিয়ে হাজির এবং ততক্ষণে দর্জি দোকান বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। লি কিমকে দেখে দোকান খুলে তার স্যুটটি দিলেন এবং বললেন এই স্যুটটি গায়ে দিয়ে দেখবার জন্য। লি কিম বলেন এখনো অনেক কাজ বাকি আছে তাই তিনি একবারে বাড়িতে গিয়েই পরে দেখবেন।


রাতের খাবার শেষ করে লি কিম চিন্তা করলেন যে একবার পরে দেখি স্যুটটি কেমন হয়েছে। স্যুটটি পরেই লি কিমের মন খারাপ হয়ে গেলো। স্যুটের প্যান্ট প্রায় তিন ইঞ্চি বড় হয়ে গেছে। বাড়ির সবাই কে দেখালেন এবং সবাই মন খারাপ করে যার যার কাজে চলে গেলেন। লি কিমও মন খারাপ করে কাপড়গুলো আলমিরাতে রেখে দিলেন।   

অনেক রাতে মায়ের ঘুম ভেঙে গেলো এবং চিন্তা করলেন আমার ছেলের কাল এতো বড় একটি আনন্দের দিন আর তার ছেলেকে তিন ইঞ্চি লম্বা প্যান্ট পড়তে হবে আর আমি মা হিসেবে সেটা কিভাবে দেখবো? মা ঘুম থেকে উঠলেন, সুই-সুতা-কাচি বের করলেন এবং প্যান্টটিকে তিন ইঞ্চি ছোট করে ভাঁচ করে রেখে আবার শান্তি ঘুমাতে গেলেন।

প্রিয় ছোট বোনেরও ঘুম আসছিল না এবং চিন্তা করছিল আমার বড় ভাইয়ের জন্য কাল এতো বড় একটি আনন্দের দিন আর ভাইকে কেমন বোকার মতো দেখা যাবে এবং সবাই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে! বোন ঘুম থেকে উঠলো, সুই-সুতা-কাচি বের করলো এবং প্যান্টটিকে তিন ইঞ্চি ছোট করে ভাঁচ করে রেখে আবার আনন্দে ঘুমাতে গেলো।

লি কিমের প্রিয় দাদী জেগেছিলেন অনেক রাত পর্যন্ত কারন তারও ঘুম আসছিল না এবং তিনিও চিন্তা করছিলেন আমার নাতীর কাল এতো বড় একটি আনন্দের দিন আর তাকে তিন ইঞ্চি লম্বা প্যান্ট পড়তে হবে আর আমি দাদী হিসেবে সেটা কিভাবে দেখবো? দাদী ঘুম থেকে উঠলেন, সুই-সুতা-কাচি বের করলেন এবং প্যান্টটিকে তিন ইঞ্চি ছোট করে আবার ভাঁচ করে রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেলেন।

পরের দিন সকালে যখন লি কিম ঘুম থেকে উঠে স্যুটটি গায়ে দিলেন, তখন তাঁর মুখের অবস্থা ভয়ংকর দেখাচ্ছিল যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁর প্যান্টের এখন আরও খারাপ অবস্থা – ৬ ইঞ্চি ছোট!

হয়তো লি কিম তার বিবাহের দিনটির কথা সাড়া জীবনেও ভুলবেন না।

গল্পটির সারমর্ম

আমাদের জীবনে যোগাযোগের (Communication) গুরুত্ব অপরিসীম। উপরের ঘটনাতে কাউকেই সরাসরি দোষারোপ করা যাবে না কারন কারোই উদ্দেশ্য খারাপ ছিলো না। যে জায়গাতে ভুল হয়েছে তা হলো ছোট্ট একটি বার্তা “আমি প্যান্টটি ঠিক করে রেখে দিয়েছি“। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা যোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভকে ভুলে যাই যেমনঃ

  • মানুষ
  • বার্তা
  • প্রেক্ষাপট
  • শ্রবন
  • বডিল্যাগুয়েজ

এই পাঁচটি স্তম্ভকে আমরা অনেকেই এক করতে পারি না। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের অতি সাধারন কাজও নষ্ট হয়ে যায় সামান্য যোগাযোগর ভুলের কারনে। কোন মানুষকে কোন প্রক্ষেপটে কোন বার্তাটি দেবার প্রয়োজন এবং সেই বার্তাটি দেবার আগে সে বিষয়ে ভালো করে শুনবার চেষ্টা করা হয়েছে কিনা বা সব কিছু ঠিক আছে শুধুমাত্র আমার দেহের ভাষার গড়মিলের কারনে যোগাযোগের পুরো প্রক্রিয়াটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলাফল ব্যর্থতা!

সেজন্য বলা হয় যোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুত্র হলো “সঠিকভাবে বুঝে নেয়া এবং সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া”। এই সুত্রটি যিনি নিয়মিত অনুশীলন করবেন তার কাছে ব্যর্থতা শব্দটি হবে অস্বাভাবিক কারন অনুশীলনে সবই সম্ভব

নীচের এই ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে শুনলে আপনারা অনেক কিছু ধরতে পারবেন বলে আশা রাখছি:

https://www.youtube.com/watch?v=7LanFKuqCqc&t=130s

গল্পটি গুগল থেকে সংগৃহীত। অনুবাদ এবং সারমর্ম লেখক: কে এম হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

Teaser-64

অনুপ্রেরণামূলক গল্প |ছেলের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে বাবা যে কাজটি করতে বললেন

অনেক বছর আগে একটি গ্রামে বাবার সাথে বাস করতো ছোট্ট ছেলে যার অসম্ভব রাগ ছিলো। কোনভাবেই ছেলেটি তার মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো না এবং বারবার মেজাজ হারিয়ে ফেলতো। বাবাও বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন তার ছেলের খিটখিটে মেজাজ দেখে। একদিন ছেলেটির বাবা একটি উপায় বের করলেন। ছেলেকে ডেকে এক ব্যাগ ভর্তি পেরেক দিয়ে বললেন ঐ যে বাঁশের বেড়া দেখতে পাচ্ছো, যখনই তুমি তোমার মেজাজ হারিয়ে ফেলবে তখনই তুমি একটি করে পেরেক ঐ বাঁশের বেড়াতে হাতুরী দিয়ে গেথে দেবে। প্রথম দিন ছেলেটি ৩৭টি পেরেক গেথেছিল বাঁশের বেড়াতে। ছেলেটি দেখতে পেল ধীরে ধীরে কয়েক সপ্তাহর মধ্যে তার মেজাজ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে এবং বাঁশের বেড়াতে পেরেকের সংখ্যাও কমে আসছে। একদিন ছেলেটি উপলব্ধী করলো বেড়াতে হাতুরী দিয়ে পেরেক গাথবার চেয়ে মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ।

তারপর একদিন এলো যেদিন ছেলেটির একটি পেরেকও হাতুরী দিয়ে বাঁশের বেড়াতে গাথতে হয়নি। সাথে সাথে দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে সুখবরটি দিল। বাবা ছেলেটির কথা শুনে খুশি হলেন এবং বললেন এরপর যতবার তুমি তোমার মেজাজ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে ততবার একটি করে তোমার লাগানো পেরেক তুলে ফেলবে। দিন কেটে যাচ্ছিলো এবং ছোট্ট ছেলেটি শেষ পর্যন্ত তার বাবাকে বলতে পেরেছিল যে সমস্ত পেরেক বেড়া থেকে সে তুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। বাবা তার ছেলের হাত ধরে বেড়ার দিকে নিয়ে গেলেন এবং তারপর বললেন:  

বাবা তুমি খুব ভালো কাজ করেছো যে সবগুলো পেরেক তুলে ফেলেছো তারমানে তুমি তোমার মেজাজকে নিয়ন্ত্রন করতে পারছো কিন্তু বেড়াটির দিকে তাকিয়ে দ্যাখো সেটি আর আগের মতো নেই। অনেকগুলো ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি আর কখনই আগের মতো সুন্দর দেখাবে না। ক্ষতগুলো সারাজীবন রয়ে যাবে। তুমি যখন রাগের মাথায় কথা বলো, সেটি মানুষের মনে ঠিক এই বেড়ার গায়ে লেগে যাওয়া দাগের মতো ক্ষতের সৃষ্টি করে যা কখনও মুছে ফেলা যায় না। তুমি তোমার কথা দিয়ে একজন মানুষকে আঘাত করলে তারপর হাজারবার দুঃখিত বললেও তাতে কিছু যায় আসে না কারন যে ক্ষতটির সৃষ্টি হয়েছে তা কখনও পূরন হবে না।  

গল্পটি সারমর্ম

”রেগে গেলেন তো হেরে লেগেন”, আমরা সবাই এই উক্তিটি জানি এবং আমাদের সকলেরই উচিত নিজেদের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করা। গুরুজনেরা সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে রাগের মুহুর্তে এমন কিছু বলবে না যা তোমার ভেতর পরবর্তীতে অনুশোচনার সৃষ্টি করবে এবং তুমি চাইলেও আর আগের অবস্থায় ফেরত যেতে পারবে না।

যেভাবে নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারেনঃ


আমার নিজেরও প্রায়ই মেজাজ হারিয়ে যেত এবং কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হতাম না। একদিন এমনই মেজাজ হারিয়ে ফেলার দিন এলো এবং আমি কোনকিছু না ভেবেই সে জায়গা থেকে বেড়িয়ে চলে এলাম এবং কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে রাস্তা দিয়ে হাটা শুরু করলাম। তারপর খেয়াল করলাম সামনেই একটি মসজিদ এবং ঢুকে নামাজ পড়ে বসে রইলাম। অল্পকিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম আমার মনটা শান্ত হয়ে গেলো। তারপর থেকে আমি উত্তপ্ত যে কোন পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসি। দ্বিতীয় যে কাজটি আমি করি তা হলো একটু বিরতি নিয়ে তারপর আবার শুরু করি। তৃতীয়তো আমি এমন কোন ব্যক্তির সাথে পারত পক্ষে কথা বলিনা যার সাথে যোগযোগ করলে আমি তার আচরনের কারনে মেজাজ হারিয়ে ফেলতে পারি। এ তিনটি উপায় হয়তো আমার জন্য কাজে লেগেছে, সবার জন্য যে প্রয়োজনে আসবে সেটি নয়। আপনার অনুশীলনের প্রক্রিয়া আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। অনেক মানুষের কাছে শুনেছি যে বিরক্তিকর মুহুর্তে তারা করেকটি কাজ করে থাকেন যেমনঃ

  • উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কথা বলার আগে অনেকবার চিন্তা করেন।
  • পরিস্থিতি একবার শান্ত হয়ে গেলে তারপর নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
  • উত্তপ্ত জায়গা থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসেন।
  • একটু বিরতি নিয়ে তারপর গুছিয়ে উত্তর দেবার চেষ্টা করেন।
  • উত্তেজনা মুক্ত করতে হিউমার ব্যবহার করেন।
  • মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখবার বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অনুশীলন করেন ইত্যাদি।   

বন্ধুরা ক্রেধকে নিয়ন্ত্রন করবার কাজটি হয়তো প্রথমে অনেক কঠিন মনে হবে কিন্তু মনে রাখতে হবে সঠিকভাবে অনুশীলন করলে সবকিছুই সম্ভব করা যায়। কারন আমি বিশ্বাস করি 

অনুশীলনে সবই সম্ভব | Practice makes everything perfect


গল্পটি গুগল থেকে সংগৃহীত। অনুবাদ এবং সারমর্ম লেখক: কে এম হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

Teaser-65

অনুপ্রেরণামূলক গল্প | ছেলের প্রশ্নে মা উট বিব্রত

একদিন একটি মা এবং একটি শিশু উট অলস দুপুরে বসে ছিল এবং হঠাৎ শিশু উটটি মা উটটিকে জিজ্ঞাসা করলো, মা, আমি কি তোমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি?

মা বললো, অবশ্যই! কেন বাবা, তোমাকে কি কোন কিছু বিরক্ত করছে? না! তবে আমার মনের ভেতর কিছু প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে।

তোমার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন আমাদের পিঠের উপর কুঁজ কেন?”

আচ্ছা বাবা শোন, আমরা মরুভূমির প্রাণী, আমাদের শক্তির প্রয়োজন আর সেজন্যই আমরা কুঁজের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে থাকি এবং আমরা খাবার ছাড়া মরুভূমিতে প্রায় একমাস বেঁচে থাকার জন্য পরিচিত।

ঠিক আছে, তাহলে ২য় প্রশ্ন আমাদের পা এতো দীর্ঘ এবং বৃত্তাকার কেন?

বাবা, এটি আমাদের মরুভূমিতে দ্রুত গতিতে চলবার জন্য সাহায্য করে। এই পা দিয়ে আমি মরুভূমির চারপাশে যে কারও চেয়ে দ্রুত গতিতে চলতে পারি!

ঠিক আছে, তাহলে ৩য় এবং শেষ প্রশ্ন আমাদের চোখের পাতা দীর্ঘ কেন? কখনও কখনও এটি আমাকে বিরক্ত করে!

মৃদু হেসে মা বললো, এই দীর্ঘ ঘন চোখের পাতা গুলি আমাদের মরুভূমির বালুঝড় থেকে আমাদের চোখকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

এবার শিশু উটটি কিছুক্ষণ ভাবনার পর বলল, সুতরাং বলা যায় যে আমরা যখন মরুভূমিতে থাকি তখন কুঁজের মাধ্যমে আমরা শক্তি সঞ্চয় করি, বৃত্তাকার বড় বড় পা গুলো মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলতে সাহায্য করে এবং এই চোখের বড় ঘন পাতা আমার চোখকে মরুভূমির বালুঝড় থেকে রক্ষা করে। “মা তাহলে আমরা চিড়িয়াখানায় কি করছি?”


গল্পের সারমর্ম:

আপনার জ্ঞান, দক্ষতা, আচরন, কর্মক্ষমতা এবং যোগ্যতা তখনই কাজে আসবে যদি এটি সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়। আমরা প্রত্যেকেই দক্ষতা বিকাশ করছি কোন লক্ষ্যকে সামনে না রেখে। এককথায় বলা যায় লক্ষ্য ছাড়া দক্ষতা বিকাশ ঘটছে প্রতিনিয়ত। আমরা প্রায়ই দেখছি আমরা যেটি ভালোবাসি সেটি আমরা দক্ষভাবে করতে পারছি না। আমরা যেটি দক্ষভাবে করতে পারছি সেটি আমরা ভালোবাসি না। যার ফলে আমাদের মধ্যে একধরনের বিরক্তির জন্ম নেয়। কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের মনের সাথে লক্ষ্যের এবং লক্ষ্যের সাথে দক্ষতার কোন সংযোগ থাকে না। তাই সময় থাকতে আমাদের এখনি লক্ষ্যকে নির্ধারন করে জ্ঞান এবং দক্ষতা বিকাশ করতে হবে। না হলে শিশু উটটির মতো হয়তো আমাদেরও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে কোনও না কোন একদিন।

গল্পটি গুগল থেকে সংগৃহীত। অনুবাদ এবং সারমর্ম লেখক: কে এম হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট