Brown How to Become a Travel Coach Blog Banner (23)

Goal-setting checklist for Fresh Executives

আমরা অনেক সময় দেখতে পাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে যখন কেউ চাকরি বাজারে প্রবেশ করেন তখন তাদের মধ্যে অনেকেই হিমসিম খান তাল মেলাতে গিয়ে। অনেকে আবার তাল মেলাতে না পেরে স্বপ্নের চাকরি পেয়েও ধরে রাখতে পারে না। এমন প্রফেশনালও আছে যারা দীর্ঘদিন একটি সেক্টরে কাজ করেছেন কিন্তু চাকরি পরিবর্তন করে নতুন সেক্টরে যাওয়ার কারণে প্রফেশনালিজম দেখাতে পারছেন না।

মনে রাখবেন যেখানেই কাজ করেন না কেনো, ব্যক্তিগত টার্গেট খুব জরুরী। টার্গেট না থাকলে চাকরিতে সফলতা আসবে না। আর প্রতিষ্ঠান সবসময় নিজেরটা দ্যাখে আগে। প্রতিষ্ঠান যদি আপনাকে মাসে ৫০০০০ হাজার টাকা বেতন দেয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই সেই বেতনের কমপক্ষে ৩ গুণ পরিমান অর্থ বা সমপরিমান ভ্যাল্যু এনে দিতে হবে। কর্মক্ষেত্র সবসময় কর্মঠ, ইতিবাচক এবং সক্রিয় কর্মীকে ভালোবাসে।

নীচের এই স্যাম্পল টেবিলটি তাদের জন্য যারা মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেড়িয়ে নতুন চাকরিতে ঢুকেছেন অথবা তাদের জন্য যারা দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর নতুন আরেকটি চাকরিতে প্রবেশ করেছেন কিন্তু তাল মেলাতে পারছেন না।   

যেখানে আপনি উন্নতি করতে চান

নির্দিষ্ট লক্ষ্য সমাপ্তির সময়সীমা করণীয় পদক্ষেপ

অগ্রগতি পর্যালোচনা

দক্ষতা উন্নয়ন

প্রেজেন্টেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট

৬ মাস

  • ইউটিউভ ব্যবহার করে মাইক্রোসফ্ট পাওয়ার পয়েন্টে দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
  • প্রেজেন্টেশন স্কিল উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ক্লাব বা সোসাইটির মেম্বারশীপ নেয়া।
  • বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করা।
  • নিজের ভিডিও নিজে করে ইউটিউভ চ্যানেলে আপলোড করে অন্যান্যদের ফিডব্যাক নেয়া।

 

দ্বি-সাপ্তাহিক আত্ম-মূল্যায়ন

নেটওয়ার্কিং

পেশাগত নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা।

চলমান

  • বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনার, ভলেন্টিয়ার কাজে অংশ নেয়া।
    লিঙ্কডইনের বিভিন্ন প্রফেশনাল গ্রুপে যোগদান করা
  • প্রতি মাসে সহকর্মীদের সাথে বাইরে খেতে যাওয়া, বন্ধুত্বপূর্ন পরিবেশে সময় কাটানো।
  • সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রফেশনালদের সাথে যোগযোগ করে তাদের কাছ থেকে কফি মিটিংয়ের অনুমতি চাওয়া।
  • অন্তত প্রতিমাসে নতুন ৫ জন নতুন প্রফেশনালের সাথে মিটিং করা।

মাসিক নতুন যোগাযোগের পর্যালোচনা

পারফরম্যান্স

বর্তমান পজিশনে সাফল্য অর্জন

চলমান

 

  • আপনার বসের সাথে মাসিক পারফরম্যান্স লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
  • নিয়মিত বস এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেয়ার চেষ্টা করুন
  • প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নিন।
  • নিজ থেকে চ্যালেঞ্জিং টার্গেট সেট করুন যা সাধারন মানুষ নিতে ভয় পেয়ে থাকে।

মাসিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনা

মেন্টরশিপ

একজন মেন্টর খুঁজে পাওয়া

৩ মাস

  • আপনার কর্মক্ষেত্রে একজন সম্ভাব্য মেন্টর চিহ্নিত করুন
  • তথ্যমূলক আলোচনার জন্য তার সাথে যোগাযোগ করুন
  • তিনি যেনো আপনার ক্যারিয়ার মেন্টর হতে সম্মতি দেন সেজন্য তাকে রাজি করান।

নিয়মিত মেন্টরের সাথে যোগাযোগ

সার্টিফিকেশন

প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেশন অর্জন

১ বছর

  • আপনি যে সেক্টর বা যে বিভাগে কাজ করছেন তার জন্য প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন কি হতে পারে সেটা নিয়ে গবেষণা করুন। এক্সপার্টদের পরামর্শ নিন।
  • সার্টিফিকেশন কোর্সে ভর্তি হন।
  • সাপ্তাহিক পড়াশোনার সময় বরাদ্দ রাখুন।

কোর্স সমাপ্তি ও পরীক্ষার তারিখ ট্র্যাকিং

লিডারশিপ উন্নয়ন

লিডারশিপ দক্ষতা উন্নত করা

১ বছর

  • আপনি যে প্রজেক্টে কাজ করছেন তার টিমের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করুন।
  • আপনার টিমের সদস্যরা যেখানেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।
  • প্রতি মাসে একটি লিডারশিপ বই পড়ুন
  • লিডারশিপ উন্নয়ন ট্রেনিংয়ে অংশ নিন।

ত্রৈমাসিক লিডারশিপ দক্ষতা মূল্যায়ন

ব্যক্তিগত এবং কর্ম জীবনের ভারসাম্য

একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখুন

চলমান

  • আপনার কাজের সময়সীমা সেট করুন।
  • পরিবারের জন্য সময় নির্ধারন করুন।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্যের যত্ন নিন যেনো ঘন ঘন অসুস্থতার কারনে ছুটি নিতে না হয়।
  • ব্যক্তিগত এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য একটি বাস্তবিক রুটিনের মধ্যে থাকুন।
  • প্রতি তিনমাসে একবার ছুটি নেয়ার চেষ্টা করুন এবং পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে যান।

সাপ্তাহিক প্রতিফলন এবং সমন্বয়

উপরের টেবিলটি একটি স্যাম্পল। এটি বুঝে নিজের জন্য একটি টেবিল বানিয়ে ভালোভাবে অনুসরণ এবং অনুশীলন করার চেষ্টা করুন। নিজের সাথে সৎ থেকে যদি টেবিলটি ফলো করে ব্যক্তিগত টার্গেট সেট কবার পর বাস্তবায়ন করতে পারেন তাহলে আপনার সফলতা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ ঠেকাতে পারবে না।

 

——————————————————————————xxx———————————————————————————————-

About The Author: K M Hasan Ripon (
K. M. Hasan Ripon is a distinguished figure and a leading career mentor in Bangladesh, recognized for his expertise as an entrepreneurial ecosystem builder and employability specialist. He currently holds key positions, serving as the Executive Director of Bangladesh Skill Development Institute (BSDI), Managing Director of Global Entrepreneurship Network Bangladesh, Executive Director of Daffodil Education Network, and Vice President of Start and Improve Your Business Foundation of Bangladesh.
With a wealth of experience, he has consulted for over 100 national and international organizations, providing training for executive development in areas such as communication, leadership, customer service, team building, negotiation, and problem-solving. Hasan Ripon’s extensive reach includes visits to 64 districts in Bangladesh and travels to 40 countries as a speaker and workshop facilitator. He has inspired over 100,000 youth and graduating students in 100+ public and private universities and polytechnics in Bangladesh, as well as more than 20 international universities.
Hasan Ripon is widely recognized on social networks, with a fan following exceeding 3 million, as a skills activist and inspirational speaker. His previous roles include serving as a short-term consultant at the World Bank, consultant for Industry 4.0 (HTS) at a2i, ICT Division (government agencies), master trainer and industry assessor (CBT&A) at ILO, convener of the National Board of CYFI Bangladesh, and a fellow of the Royal Society of Arts (FRSA). He also previously served as the local president of JCI Bangladesh (Dhaka Central).

Author Contact: [email protected]

Brown How to Become a Travel Coach Blog Banner (21)

২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে হারিয়ে গেছে প্রায় ৯০ লক্ষেরও বেশি চাকরি

ইউএস ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস এর মতে বিশ্বে প্রায় ১২ হাজারের মতো স্বীকৃত পেশা আছে। এর প্রায় ‍অধিকাংশই প্রথম থেকে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। আইএলও’র রিপোর্টে দেখা যায় প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্তু বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি নতুন জব সৃষ্টি হয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সার্ভেতে দেখা যায় ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অটোমেশনের জন্য প্রায় ৯০ লক্ষেরও বেশি জব হারিয়ে গেছে।

বর্তমানে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) উন্নয়নের ফলে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আরো প্রায় ৮০ কোটি জব হারিয়ে যাবে। যখন আমরা মোটে ভাবা শুরু করেছি এআই (AI) নিয়ে, এর মধ্যে চলে আসতে শুরু করেছে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (AGI).

এজিআই হলো একটি অনুমানভিত্তিক কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যা মানুষের মতো সাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হবে। তারমানে যা দাড়াবে মানুষ যেভাবে জ্ঞান আহরনের মাধ্যমে ভবিষ্যত ক্যালকুলেশন করতে পারে। ঠিক একইভাবে এজিআই মানুষের মতো কোনো সম্ভাব্য সমস্যার আগাম সমাধান করতে পারবে।

 

 

আমি ব্যক্তিগত গবেষণা করে দেখতে পাচ্ছি নিকট ভবিষ্যতে কিছু জব থাকবেই না। যেমনঃ

১. সাধারণ ম্যানুফ্যাকচারিং জব
২. ডেটা এন্ট্রি
৩. রেগুলার গ্রাহক সেবা
৪. সাধারণ টেলিমার্কেটিং
৫. ক্যাশিয়ারের চাকরি
৬. সাধারন হিসাবরক্ষক
৭. ম্যানুফ্যাকচারিং এ্যাসেমব্লি লাইন
৮. সাধারন গ্রাফিক্স ডিজাইন
৯. প্রুফ রিডার
১০. নিরাপত্তা কর্মকর্তা
১১. অনুবাদক/দোভাষী
১২. নিয়মিত অ্যাডমিন জব
১৩. নিয়মিত এইচআর জব
১৪. টিকিট এবং রিজার্ভেশন
১৫. নিয়মিত ট্যুর গাইড
১৬. ক্লারিকাল জব

২০২২ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ ১৮ কোটি জনগণের মধ্যে মাত্র ৫৫ লক্ষ মানুষ কম্পিউটারের বেসিক ব্যবহার জানেন যেমন এমএস ওয়ার্ড, ফেসবুক এবং ইউটিউভসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাধারণ কিছু এ্যাপের ব্যবহার। ২০২২ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জরিপ অনুসারে মাত্র ৩৮৫০০ জন মানুষের কম্পিউটারের উপর উচ্চতর টেকনিক্যাল দক্ষতা যেমন প্রোগ্রামিং স্কিল আছে।

এটা আমাদের জন্য সতর্ক সংকেত। যেখানে বিশ্বের প্রায় সকল দেশ উন্নত প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করেছে সেখানে আমরা এখনো ধরে রাখতে চাচ্ছি গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতি এবং করতে চাচ্ছি সেই বিংশ শতাব্দীর চাকরি। প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশুনা করতেই হবে বিশেষ করে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে।

এই মুহুর্তে যে জ্ঞানটি সবচেয়ে প্রয়োজন হবে সামনের দিনগুলোর জন্য সেটি হলো এআইকে প্রম্পটিং করা। বর্তমানে আমরা এআইকে ব্যবহার করছি নকল করার উদ্দেশ্যে। যেমন ছ্রাত্রছাত্রীরা নকল করছেন তাদের এ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে, অফিসের কর্মীরা করছেন তাদের অফিসের কাজ সম্পন্ন করতে। আমরা বর্তমানে এআই দ্বারা চালিত হচ্ছি। আসলে হওয়ার কথা ছিলো আমাদের দ্বারা এআই পরিচালিত। প্রম্পটিং নিয়ে পড়াশুনা করুন এখনই।

আমি একটি কোর্স ইউটিউভে আপলোড করেছি পারলে করে আসুন। অথবা আরো অনেক কোর্স পাবেনম সময় থাকতে করে ফেলুন। এতো দ্রুত সময় সব কিছু পরিবর্তন করে ফেলছে পড়ে সময় পাবেন না। তখন আপনার কান্না দেখারও কারো সময় থাকবে না।

——————————————————————————xxx———————————————————————————————-

About The Author: K M Hasan Ripon (
K. M. Hasan Ripon is a distinguished figure and a leading career mentor in Bangladesh, recognized for his expertise as an entrepreneurial ecosystem builder and employability specialist. He currently holds key positions, serving as the Executive Director of Bangladesh Skill Development Institute (BSDI), Managing Director of Global Entrepreneurship Network Bangladesh, Executive Director of Daffodil Education Network, and Vice President of Start and Improve Your Business Foundation of Bangladesh.
With a wealth of experience, he has consulted for over 100 national and international organizations, providing training for executive development in areas such as communication, leadership, customer service, team building, negotiation, and problem-solving. Hasan Ripon’s extensive reach includes visits to 64 districts in Bangladesh and travels to 40 countries as a speaker and workshop facilitator. He has inspired over 100,000 youth and graduating students in 100+ public and private universities and polytechnics in Bangladesh, as well as more than 20 international universities.
Hasan Ripon is widely recognized on social networks, with a fan following exceeding 3 million, as a skills activist and inspirational speaker. His previous roles include serving as a short-term consultant at the World Bank, consultant for Industry 4.0 (HTS) at a2i, ICT Division (government agencies), master trainer and industry assessor (CBT&A) at ILO, convener of the National Board of CYFI Bangladesh, and a fellow of the Royal Society of Arts (FRSA). He also previously served as the local president of JCI Bangladesh (Dhaka Central).

Author Contact: [email protected]

Presentation1

360 Degree Personal Branding

এখন আপনি যে অবস্থায় আছেন সেখান থেকেই ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং শুরু করে দিন। আগামী তিন মাস নীচের ১৫টি ধাপ অনুশীলন এবং অনুরসণ করুন। নিজেই ফলাফল দেখতে পাবেন। প্রথমে নিজের ঢোল নিজেরই বাজাতে হয়। তারপর সেই আওয়াজ যখন মানুষের ভালো লাগতে শুরু করে তখন সেই ঢোল অন্যরা বাজাতে শুরু করে।

ভিজিটিং কার্ডঃ

আপনি এখন যেখানেই আছেন, নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য একটি ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ফেলুন। অনেকেই ভাববেন এখনও চাকরি বা ব্যবসা যোগাড় করতে পারিনি, ভিজিটিং কার্ড বানাবো কিভাবে? মনে রাখবেন ভিজিটিং কার্ড হলো আপনার অনুপস্থিতিতে আপনাকে মনে করিয়ে দেবার কাজ করে। অতএব গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে এরকম একটি দোকানে গিয়ে নিজের প্রফেশনাল ছবি, আপনার নাম, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেটার নাম, যোগাযোগের ঠিকানা, আপনি যে কাজটি খু্ব ভালো পারেন সেটার টাইটেল লিখে আকর্ষণীয় ভিজিটিং কার্ড তৈরি করুন এবং যার সাথেই কথা হবে তাকে গর্বের সাথে কার্ডটি দিন।

ফেসবুকঃ

স্পষ্ট ব্যক্তিগত প্রফেশানাল ছবি, কভার ফটো, এবং আপনার সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য ফেসবুকের About Section-এ যুক্ত করুন। মনে রাখবেন ফেসবুক আপনার মার্কেটিং টুলস ছাড়া আর কিছু না। অতএব ব্যক্তিগত আবেগ থেকে বেড়িয়ে নিজেকে প্রচার করার কাজে ব্যবহার করুন ফেসবুককে। আপনার জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা অন্য মানুয়ের সাথে শেয়ার করুন। আজেবাজে মন্তব্য, ছবি, ভিডিও শেয়ার করে আপনার ফেসবুককে ডাস্টবিনে রুপান্তর করবেন না। আর যেহেতু ফেসবুক সম্পূর্ণ মার্কেটিং টুলস হিসেবে ব্যবহারিত হয় তাই যতটা সম্ভব এটিকে উন্মুক্ত রাখুন প্রফেশনাল কন্টেন্ট দিয়ে।

লিঙ্কডইনঃ

স্পষ্ট ব্যক্তিগত প্রফেশানাল ছবি, কভার ফটো, আপনার দক্ষতা, এবং কাজের ইতিহাসের তালিকা এবং রেফারেন্স সহ একটি সম্পূর্ণ লিঙ্কডইন প্রোফাইল তৈরি করুন। গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপে যোগ দিন এবং চাকরি বা ব্যবসা সম্পর্কে আপনি যা জানেন তা শেয়ার করুন। মনে রাখবেন লিংকডইন হলো সুযোগ তৈরির কারখানা। অতএব শুধু প্রোফাইল তৈরি করে বসে থাকলে চলবে না।

ইউটিউবঃ

আপনার দক্ষতা দেখানোর জন্য ইউটিউব একটি চমৎকার মাধ্যম। আজকেই ইউটিউভে আপনার একটি চ্যানেল তৈরি করুন। তারপর নিজের দক্ষতা, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ করুন। মনে রাখবেন মানুষকে আপনি যতো দিবেন, সৃষ্টিকর্তা আপনাকে তত ফেরত দেবেন। তবে আপনার পারসোনালিটি নষ্ট হয় এমন কোন কিছু না করা যাবে না। ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগীতা থেকে নিজেকে দুরে রাখতে হবে।

ব্লগঃ

আপনার সেক্টরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আপনি যা জানেন তা শেয়ার করতে ব্লগ লিখুন এবং সোস্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, লিংকডইনে শেয়ার করুন। আপনি যদি ক্রমাগত উচ্চ-মানের লেখনীর মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও বিকাশে সাহায্য করতে পারেন তাহলে আপনি আপনার সেক্টরের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি হয়ে উঠবেন।

সিভিঃ

একটি আকর্ষণীয় এবং মার্জিত সিভি তৈরি করুন যা আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং কৃতিত্বকে মানুষের কাছে ফুটিয়ে তুলবে। যদি আগে থেকেই আপনার সিভি তৈরি করা থাকে তাহলে সেটিকে নিয়মিত আপডেট করুন। তারপর সেই সিভি সম্পর্কে প্রফেশনালদের কাছ থেকে লিংকডইনের মাধ্যমে মতামত নেবার চেষ্টা করুন।

ভিডিও সিভিঃ

এইচআরদের কাছে এই মুহুর্তে সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় হচ্ছে ভিডিও সিভি বা ভিডিও রিজুমে। ভিডিও সিভি হচ্ছে আপনার নিজের সম্পর্কে ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলবেন। সংক্ষেপে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিন, আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের তালিকা করুন এবং আপনি আপনার সেব্টর সম্পর্কে কতটা জ্ঞান রাখেন তা নিয়ে কথা বলুন এবং রেকর্ড করুন। তারপর সেটিকে ইউটিউভ এবং লিংকডইনের মাধ্যমে প্রচার করে ছড়িয়ে দিন। যেহেতু সোস্যাল মিডিয়া বর্ডারমুক্ত তাই কার চোখে যে আপনার ভিডিও রিজুমে পড়বে সেটা আপনি নিজেও বলতে পারবেন না।

কর্মশালা এবং সেমিনারঃ

আপনার দক্ষতার সাথে যুক্ত বিষয়গুলোতে কর্মশালা এবং সেমিনার আয়োজন করুন বা সেগুলোতে অংশ নিন। এটি আপনাকে আরও বেশি মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে।

নেটওয়ার্কিংঃ

নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য অনলাইন এবং আউটডোর উভয় ইভেন্টে অংশ নিন। আপনার মতো একই সেক্টরে কাজ করেন এমন মানুষের সাথে পরিচিত হন এবং নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিন।

হাসুন এবং খুশি থাকুনঃ

আপনি মনোভাব কেমন সেটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন অনলাইনে বা আউটডোরে চলাফেরা করেন তখন হাসুন, উচ্ছ্বসিত থাকুন এবং ইতিবাচক মনোভাব রাখুন। খুব সিরিয়াস বা জোকার টাইফের মানুষ ওয়ান টাইম প্রয়োজনে বেশী কাজে লাগে। তাদের সাথে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতে আগ্রহী নন।

কোল্ড ইমেলঃ

আপনি যখন সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট, বস, বা চাকরিদাতাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান, তখন ব্যক্তিগতভাবে কোল্ড ইমেল লিখে পাঠিয়ে দিন। কোল্ড ইমেল হলো এমন যা প্রাপকের কাছে তাদের অনুমতি ছাড়াই পাঠানো হয়। যেমন আপনি কোন ইভেন্টে গিয়ে কারো সাথে পরিচিত হলেন এবং তিনি আপনাকে তার ভিজিটিং কার্ড দিয়েছেন। এখন আপনি বাড়িতে ফিরে তাকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং স্বল্প ভাষায় নিজেকে ইমেইলের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিলেন। খেয়াল করে দেখুন আপনি প্রতি সপ্তাহে অনেক ইমেল পেয়ে থাকেন কিন্তু সেগুলোকে কখনো ব্যবহার করেননি।

মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে নিজের পরিচয় দিনঃ

ফার্স্ট ইম্প্রেশন তৈরি করতে চ্যাট এ্যাপ ব্যবহার করুন। আপনার লক্ষ্য ঠিক করুন এবং মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তুলে ধরুন ইতিবাচক এবং স্বল্প ভাষায়।

কোল্ড এসএমএসঃ

আপনি যখন সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট, বস, বা চাকরিদাতাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান, তখন ব্যক্তিগতভাবে কোল্ড এসএমএস লিখে পাঠিয়ে দিন। কোল্ড এসএমএস হলো এমন যা প্রাপকের কাছে তাদের অনুমতি ছাড়াই পাঠানো হয়। যেমন আপনি কোন ইভেন্টে গিয়ে কারো সাথে পরিচিত হলেন এবং তিনি আপনাকে তার ভিজিটিং কার্ড দিয়েছেন। এখন আপনি বাড়িতে ফিরে তাকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং স্বল্প ভাষায় নিজেকে এসএমএসের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

নিজের পোষাক পরিচ্ছদ ঠিক রাখুনঃ

পোষাক যেটাই পড়ুন না কেনো অবশ্যই সেটি পরিষ্কার হতে হবে। মানানসই হতে হবে।

দুঃখের কথা শেয়ার না করে দক্ষতার কথা শেয়ার করুনঃ

আমরা প্রায়ই দেখতে পাই কমেন্টে বা পোস্টে নিজের দুঃখ বা হতাশার কথা অবলিলায় বলে বেড়াচ্ছেন। অনেকে আবার অন্যের বদনাম বলে বেড়াচ্ছেন। এতে আপনার যদি ১% কাজের সুযোগ থাকতো সেটিও হবে না।

Presentation1

আপনার নতুন বছরের লক্ষ্য বা টার্গেট কি হওয়া উচিত?

আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে ২০২৩ সাল শেষ হতে। এইতো সেদিন শুরু হয়েছিলো ২০২৩ কিন্তু আর কয়েক ঘন্ট পরেই চলে আসবে নতুন বছর। অতএব আর একমূহুর্ত দেরী না করে নতুন বছরের টার্গেট সেট করতে নেমে পড়ুন। এই ব্লগে আমি কিছু আইডিয়া দিয়ে রাখলাম। আপনারাও শেয়ার করুন নতুন আইডিয়া। যাতে হাজারো মানুষের উপকারে আসে।

 

দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যঃ
নতুন দক্ষতা অর্জন বা আপনার কর্মজীবনের লক্ষ্যগুলোর সাথে প্রাসঙ্গিক বিদ্যমান দক্ষতাগুলোকে আপগ্রেড করার প্রতিশ্রুতি নিন। বিভিন্ন কর্মশালায় যোগ দিন, অনলাইনের মাধ্যমে প্রফেশনাল কোর্সে অংশ নিন বা আপনার সেক্টরে প্রতিযোগিতামূলক থাকার জন্য বিভিন্ন সার্টিফিকেশন কোর্সে অংশ নিন।

 

নেটওয়ার্কিং লক্ষ্যঃ
আপনার প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক প্রসারিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। বিভিন্ন কর্পোরেট ইভেন্টগুলোতে অংশ নিন, লিংকডইনের মাধ্যমে প্রফেশনালদের সাথে সংযোগ স্থাপন করুন এবং অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরি করতে প্রফেশনাল কথোপকথনে নিজেকে যুক্ত করুন।

 

চাকরি খোঁজার কৌশলঃ
যদি আপনার চাকরির প্রয়োজন হয় বা বর্তমান চাকরি পরিবর্তনের প্রযোজন হয়, তাহলে আপনাকে অবশ্যই নতুন বছরের শুরুর দিন থেকে পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরীর কাজ শুরু করে দিন। অনেক কাজ করতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে। যেমন আপনার সিভি আপডেট করুন এবং প্রফেশনালদের দিয়ে চেক করিয়ে নিন, আপনার লিংকডইন প্রোফাইল আপডেট করুন, আপনার কাঙ্খিত পজিশনের কাজের বিবরণী পর্যালোচনা করে সেইভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সংখ্যক চাকরিতে আবেদন করুন।

 

স্বাস্থ্য এবং সুস্থতাঃ
আপনার মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিন। আপনার কর্মজীবনের যাত্রায় সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে আপনার প্রতিদিনের রুটিনে নিয়মিত ব্যায়াম, মননশীলতার অনুশীলন এবং পর্যাপ্ত ঘুম অন্তর্ভুক্ত করুন।

 

আর্থিক পরিকল্পনাঃ
আপনার ক্যারিয়ারের লক্ষ্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ব্যাক্তিগত বাজেট তৈরি করুন। ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার পরিবর্তন বা অপ্রত্যাশিত আর্থিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে কৌশলগতভাবে সঞ্চয় করুন এবং সম্ভব হলে বিনিয়োগ করুন।

 

কর্ম-জীবনের ভারসাম্যঃ
মনে রাখবেন কর্ম জীবনের ভারসাম্যের কোন বিকল্প নেই। যিনি সারাদিন কাজ বা সারাদিন আনন্দ করে বেড়ান তিনি আসলে নিজ হাতে ক্যারিয়ারের ক্ষতি করছেন। এমনভাবে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করুন যাতে কাজের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ আসে এবং সেই অর্থ দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত আগ্রহ বা শখ পূরণ করতে পারেন।

 

 

মনে রাখবেন, কেবল নতুন বছরের রেজোলিউশন সেট করাই মূখ্য বিষয় নয় বরং সেগুলোকে অর্জনের জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিতভাবে আপনার অগ্রগতি মূল্যায়ন করুন এবং আপনার ক্যারিয়ারের বিকাশের সাথে সাথে আপনার লক্ষ্যগুলোকে মানিয়ে নিন।

——————————————————————————xxx———————————————————————————————-

About The Author: K M Hasan Ripon
K. M. Hasan Ripon is a distinguished figure and a leading career mentor in Bangladesh, recognized for his expertise as an entrepreneurial ecosystem builder and employability specialist. He currently holds key positions, serving as the Executive Director of Bangladesh Skill Development Institute (BSDI), Managing Director of Global Entrepreneurship Network Bangladesh, Executive Director of Daffodil Education Network, and Vice President of Start and Improve Your Business Foundation of Bangladesh.
With a wealth of experience, he has consulted for over 100 national and international organizations, providing training for executive development in areas such as communication, leadership, customer service, team building, negotiation, and problem-solving. Hasan Ripon’s extensive reach includes visits to 64 districts in Bangladesh and travels to 40 countries as a speaker and workshop facilitator. He has inspired over 100,000 youth and graduating students in 100+ public and private universities and polytechnics in Bangladesh, as well as more than 20 international universities.
Hasan Ripon is widely recognized on social networks, with a fan following exceeding 3 million, as a skills activist and inspirational speaker. His previous roles include serving as a short-term consultant at the World Bank, consultant for Industry 4.0 (HTS) at a2i, ICT Division (government agencies), master trainer and industry assessor (CBT&A) at ILO, convener of the National Board of CYFI Bangladesh, and a fellow of the Royal Society of Arts (FRSA). He also previously served as the local president of JCI Bangladesh (Dhaka Central).
Building-positive-workplace-relationships

What should be the relationship with colleagues in the workplace?

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

আপনি সম্ভবত কর্মক্ষেত্রে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব সম্পর্কে শুনেছেন। কাজের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক আপনাকে অনেক কিছুতে এগিয়ে রাখে। সহকর্মীদের সাথে আপনার সুসম্পর্ক, টিমের কাছ থেকে আরও ভালভাবে সহযোগিতা পাওয়া এবং একটি ইতিবাচক কাজের পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে।

সেই সাথে আপনাকে অবশ্যই যে সেক্টরে কাজ করছেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রফেশনালদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক তৈরীর ইতিবাচক প্রচেষ্টা থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। ভালো সম্পর্কের অন্যতম হাতিয়ার হলো বিশ্বাস। সুসম্পর্ক একদিনের বিষয় নয়। মনে রাখতে হবে আপনার একটি অসচ্ছ পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ককে মুহুর্তে শেষ করে দিতে পারে।

অনেকের মাঝে একটা প্রবনতা দেখা যায় যে কর্মক্ষেত্র বা যে সেক্টরের হয়ে কাজ করছে সেখানকার সহকর্মী বা প্রফেশনালদের সাথে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়ে যায়। একটি কাজ ”নিজে একাই করে ফেলবো” এমন ধারনা তৈরি হয়ে যায় অনেকের মাঝে। আসলে অন্যের সাহায্য ছাড়া এককদমও এগুনো যাবে না, এই বিশ্বাস রাখা অত্যন্ত জরুরী। দলের ভেতর সুসম্পর্ক থাকলে কর্মক্ষেত্রে যে ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো চোখে পড়বেঃ

  • কার্যকর টিমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হবেঃ

    দলের সদস্যদের মধ্যে ভাল কাজের সম্পর্ক থাকা মানেই হলো কাজের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব যা কাঙ্খিত ফলাফল পেতে সহায়তা করে। ভাল সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছ যোগাযোগ এবং সততা জড়িত, যা একটি দল হিসাবে কাজ করার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • কর্মক্ষেত্রে মনোবল বৃদ্ধি করেঃ

    দলের মধ্যে পারস্পারিক সুসম্পর্ক বজায় থাকলে যেকোন ধরনের দ্বন্দ্বকে সহজভাবে মোকাবেলা করা যায় কারন প্রত্যেকেই স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করেন। পাশাপাশি যেকোন কঠিন সময়কেও সকলে মিলে মোকাবেলা করার সাহস পায় কারন প্রত্যেকের মাঝে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকে। 

  • প্রডাক্টিভিটি এবং কাজের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়ঃ

    একটি কর্মক্ষেত্র সবসময় আশা করে তার কর্মীদের প্রডাক্টিভিটি সবসময় উর্ধমূখী থাকবে এবং কাজের পরিবেশ ইতিবাচক হবে। কর্মীদের প্রডাক্টিভিটি বৃদ্ধি তখনই সম্ভব যখন পারস্পারিক সুসম্পর্ক বজায় থাকে।

  • ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

    দলের ভেতর সুসম্পর্ক পারস্পারিক জ্ঞান এবং দক্ষতার শেয়ারিংকে বাড়িয়ে দেয়। কাজের ক্ষেত্রে কেউ পিছিয়ে পড়লে অন্যজন তখন তাকে টেনে উপরে নিয়ে আসে।

  • সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করবেঃ

    দলের ভেতর যদি সুসম্পর্ক না থাকে তাহলে কর্মক্ষেত্রে সবাই শুধু সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারবে। কেউ সমাধান খুঁজে পাবে না। সবাই শুধু অন্যকে দোষারোপ করবে। কাজের মধ্যে সৃজনশীলতা থাকবে না। আর সৃজনশীলতার অভাবে বছর শেষে ফলাফলেও কোন পরিবর্তন আসবে না।

  • অহেতুক সমালোচনা থাকবে নাঃ
    যেহেতু সকলের মাঝে বিশ্বাস অটুট আছে তাই কেউ ভুল করলে অন্যজন সেটি শুধরে দেবে।



কর্মক্ষেত্রে সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি এবং সেই সাথে কর্মীর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের টেকসই অর্জন নির্ভর করে একজন কর্মী কেমন করে সহকর্মীদের সাথে পারস্পারিক সম্পর্ক এবং সৌহার্দ বজায় রেখে কাজ রেখে নিজের কাজ সম্পন্ন করছেন।

তবে সুসম্পর্ক তৈরীতে প্রয়োজন আত্মসচেতনা, সময় এবং ধৈর্য। নিন্মে করেকটি বিষয় উল্লেখ করা হলো যার সঠিক অনুশীলন আপনাকে সহকর্মী এবং আপনার সেক্টরের প্রফেশনালদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরীতে সাহায্য করবেঃ

  • যোগাযোগে সকল সময় নিজেকে স্বচ্ছ রাখুন।
  • প্রায়ই সহকর্মীদের সাথে বা আপনার নির্ধারিত সেক্টরের প্রফেশনালদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখুন।
  • ধারাবাহিক ক্যারিয়ারের জন্য নিজের মধ্যে ধারাবাহিকতা নিয়ে আসুন।
  • আপনাকে যেন চিহ্নিত করা যায় নির্দিষ্ট কোন দক্ষতা এবং জ্ঞানের মাধ্যমে।
  • যেকোন পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।
  • নিজের ব্যক্তিগত জ্ঞান এবং দক্ষতা অন্যের সাথে শেয়ার করুন। মনে রাখবেন জ্ঞান এবং দক্ষতা শেয়ার করলে তা কমে না বরং বহুগুণে বেড়ে যায়।
  • সবসময় ইতিবাচক থাকা এবং সহকর্মীদের সাথে ইতিবাচক আলোচনায় অংশ নেয়া সুসম্পর্কে স্থাপনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
  • কারো সম্পর্কে পেছনে কথা বলা (backbite) থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
  • প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, নীতি এবং দিকনির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
  • কোন কাজ সঠিকভাবে বুঝে নিয়ে যথা সময়ে বুঝিয়ে দিতে হবে। কোন কিছু অস্পষ্ট থাকলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক প্রশ্নের মাধ্যমে জেনে নিতে হবে।

সুসম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস। সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে সেই বিশ্বাসের জায়গায় যেন কোন আঁচড় না লাগে। আমার খুব পছন্দের একটি ইংরেজী উক্তি আছে “Believing Everybody is Dangerous but believing nobody is more dangerous”.

White Gray Simple How To Make Yourself Look Good Youtube Channel Art (1)

11 Most important Hard Skills and Soft Skills for every professional

যে ১১টি হার্ডস্কিলস এবং সফ্টস্কিলস আপনাকে সবার থেকে এগিয়ে রাখবে!

একটি বিষয় সবসময় প্রফেশনালদের মনে রাখতে হয়, যেকোন কর্মক্ষেত্রে নিজের অনর্ভুক্তির জন্য কোন একটি বিষয়ে অবশ্যই পারদর্শী হতে হবে। যাকে আমরা দক্ষতা হিসেবে জানি। দক্ষতা মানেই হলো কোন কাজ আপনি নিজ হাতে করতে সক্ষম। উদাহরন হিসেবে বলা যায় মাইক্রোসফট এক্সেল।

আপনি যদি মাইক্রোসফট এক্সেল দিয়ে রিপোর্ট প্রস্তুত করতে পারেন বা ডাটা এ্যানালাইসিস করতে সক্ষম হন, তবেই আপনি আত্মবিশ্বাস অনুভব করবেন। দক্ষতা দুই ধরনের হয়ে থাকে পরিমাপযোগ্য এবং অপরিমাপযোগ্য। বহুলভাবে যাকে আমরা হার্ড স্কিল এবং সফ্টস্কিল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকি।

হার্ড স্কিল পরিমাপযোগ্য! এর কারন হলো এর ফলাফল তাৎক্ষনিকভাবে পাওয়া যায়। যেমন বেসিক এডিটিং স্কিল অথবা পাওয়ার পয়েন্ট দিয়ে প্রেজেন্টেশন তৈরি করা বা কোন প্রকল্পের জন্য রিপোর্ট তৈরি করা। সফ্টস্কিল হলো অপরিমাপযোগ্য যার অর্থ হলো এটি একমাত্র অনুভব করা যায়।

যেমন আপনি যদি বলেন আপনার যোগাযোগ দক্ষতা ভলো বা আপনার মধ্যে লিডারশীল স্কিল আছে তাহলে সেটির বিষয়ে নিশ্চিত হতে বেশ কিছুদিন সময়ের প্রয়োজন হবে। কারন আপনার ভেতর সফ্টস্কিল আছে কিনা সেটা জানা যায় আপনার সাথে যারা একসাথে কাজ করছেন তাদের ফিডব্যাকের মাধ্যমে। সেজন্য অধিকাংশ কর্মক্ষেত্রে কর্মীর সফ্টস্কিল সম্পর্কে ধারনা পেতে প্রতিষ্ঠান সাধারনত থার্ড পার্টি ফিডব্যাকের উপর নির্ভর করেন।

 

নির্দিধায় বলতে পারি সফ্টস্কিল সব সেক্টরের জন্য প্রযোজ্য। হয়তো ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষানিকটা পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু প্রয়োজনের দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রফেশনালদের মধ্যে অনেকেই এক সেক্টর থেকে অন্য সেক্টরে নিজেকে স্থানান্তর করেন। যে সেক্টরেই থাকুন না কেন সফ্টস্কিলসের কিন্তু কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। মূলত প্রধান ১০টি সফ্টস্কিলসের কথা আমরা শুনতে পাই বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পের এই সময়টাতে যেমনঃ

  • Communication (যোগাযোগ),
  • Self-Motivation (স্ব-প্রেরণা),
  • Leadership (নেতৃত্ব),
  • Self-Responsibility (দায়িত্ববোধ,
  • Problem Solving (সমস্যা সমাধান),
  • Team Work (টিমওয়ার্ক),
  • Critical Thinking and Creativity (সৃজনশলতা),
  • Decision Making (সিদ্ধান্ত গ্রহন),
  • Ability to Work Under pressure ‍and Time Management (চাপ এবং সময় ব্যবস্থাপনার অধীনে কাজ করার ক্ষমতা)
  • Flexibility (নমনীয়তা)
  • Adaptability (অভিযোজনযোগ্যতা)
  • Negotiation and Conflict Resolution (আলোচনা এবং দ্বন্দ্ব সমাধান)

যেহেতু আমি শুরুতেই বলেছি সফ্টস্কিল সব সেক্টরের কাজের জন্য অত্যন্ত জরুরী তাই এই দক্ষতাগুলোর প্রতি একটু বেশী গুরুত্ব দিতে পারলে কর্মক্ষেত্রে সকলেরর সাথে মিলে কাজ করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। সফ্টস্কিলস অবশ্যই শেখা যায়। প্রতিষ্ঠিত কোন দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বা কোন এক্সপার্টের মাধ্যমে সফ্টস্কিলসের উপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করা যেতে পারে।

তবে সফ্টস্কিলসের উপর দক্ষতা বৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আত্মসচেতনতা এবং পর্যবেক্ষনের (Observation) মাধ্যমে শেখা। আপনার কর্মক্ষেত্রে এমন অনেক সহকর্মীর সান্নিধ্য আপনি পেতে পারেন যারা সফ্টস্কিলসকে অনুশীলন করছেন। তাদের সাথে মেলামেশা বাড়িয়ে দিন, দেখবেন আপনার নিজের সফ্টস্কিলসেরও পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।



হার্ডস্কিলসের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। হার্ডস্কিলস মূলত কর্মক্ষেত্র বা নির্দিষ্ট সেক্টরের উপর নির্ভর করে। মার্কেটিং, সেলস, ফাইন্যান্স বা এইচআর নিয়ে যারা বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাদের প্রত্যেকেই ঐ সেক্টরের জন্য নির্ধারিত হার্ডস্কিলসে পারদর্শী হতেই হবে। তবে বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের

এই সময়ে কিছু হার্ডস্কিলস আছে যা একজন প্রফেশনালকে কর্মক্ষেত্রে বিরত্ব অর্জনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন এবং সকল সেক্টরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কাজ করে। মূলত ১১টি হার্ডস্কিলস প্রত্যেক প্রফেশনালের জন্য অত্যন্ত জরুরী যেমনঃ

১. টেকনিক্যাল স্কিল:

  • বেসিক কোডিং (স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং),
  • সিআরএম প্ল্যাটফরম (কাস্টমারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার্থে ব্যবহারিত ওয়েব বেইজড সোল্যুশন),
  • রিসার্চ স্কিলস,
  • ট্রাবলস্যুটিং (কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, বেসিক নেটওয়ার্ক) ইত্যাদি।

২. কম্পিউটার স্কিলসঃ

  • মাইক্রোসফ্ট অফিস (ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট)
  • মাইক্রোসফ্ট প্রজেক্ট,
  • বেসিক ইমেইজ এডিটিং,
  • বেসিক গ্রাফিক্স ডিজাইন,
  • বেসিক ভিডিও এডিটিং,
  • গুগলিং,
  • ইমেইল, ‍
  • সোস্যাল মিডিয়া,
  • ওয়েব সাইট রিভিউং,
  • টাইপিং স্কিল,
  • অনলাইন স্টোরেজ (গুগল ড্রাইভ) ইত্যাদি।

৩. এ্যানালাইটিক্যাল স্কিলসঃ

  • ডাটা এ্যানালাইসিস,
  • ডাটা মাইনিং,
  • ডাটা প্রেজেন্টেশন,
  • এসপিএসএস,
  • ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট,
  • রিপোটিং স্কিলস, ‍
  • স্ট্র্যাটেজি স্কেচিং ইত্যাদি।

৪. মার্কেটিং স্কিলসঃ

  • সেলস স্কিলস,
  • এ্যাডভারটাইজমেন্ট,
  • কনজুমান রিসার্চ,
  • ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষ করে বেসিক এসইও (SEO),
  • পে পার ক্লিক (PPC),
  • সোস্যাল মিডিয়া পেইড মার্কেটিং,
  • কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট,
  • ইমেইল মার্কেটিং,
  • ইউএক্স/ইউআই ডিজাইন (UX/UI Design),
  • গুগল এ্যানাটিক্স,
  • ক্যাম্পেইন ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

৫. প্রেজেন্টেশন স্কিলসঃ

  • বিজনেস প্রেজেন্টেশন,
  • সেলস প্রেজেন্টেশন,
  • স্টোরি টেলিং,
  • গ্রাফ/চার্ট প্রেজেন্টেশন,
  • প্রোগ্রাম মডারেটিং ও উপস্থাপনা ইত্যাদি।

৬. ম্যানেজমেন্ট স্কিলসঃ

  • বিজনেজ ডোমেইন নলেজ (যে সেক্টরে কাজ করছেন, সেই সেক্টর সম্পর্কে জ্ঞান),
  • ব্যবসায়িক জ্ঞান,
  • বাজেটিং,
  • প্রকল্প ব্যবস্থাপনা,
  • নিয়োগ ব্যবস্থাপনা,
  • বেসিক আর্থিক পরিকল্পনা,
  • বেসিক অফিস ম্যানেজমেন্ট,
  • বেসিক প্রকিউরমেন্ট,
  • সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

৭. প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্কিলসঃ

  • প্রজেক্ট সিডিউলিং,
  • প্রজেক্ট লাইফ সাইকেল ম্যানেজমেন্ট,
  • এ্যাজাইল সফ্টওয়্যার (Agile Software),
  • পারফরমেন্স ট্র্যাকিং,
  • ফাইন্যান্সিয়াল মডেলিং,
  • স্ক্র্যাম ম্যানেজমেন্ট (Scrum Management) ।

৮. রাইটিং স্কিলসঃ

  • নোট টেকিং,
  • বিজনেস লেটার/এপ্লিকেশন রাইটিং,
  • প্রফেশনাল ইমেইল রাইটিং,
  • বিজনেস রিপোর্ট রাইটিং,
  • প্রেস রিলিজ ড্রাপটিং,
  • স্ক্রিপট এডিটিং,
  • প্রজেক্ট প্রপোজাল ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি।

৯. ল্যাঙ্গুয়েজ স্কিলসঃ

  • মাতৃভাষার পাশাপাশি যেকোন একটি বা দুটি ভাষায় পারদর্শীতা কর্মক্ষেত্রে সবসময় একধাপ এগিয়ে রাখে যেকোন প্রফেশনালকে। বাংলা ভাষার সাথে যদি ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা যায় তাহলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিজনেস কমিউনিকেশন স্কিলস।

১০. ডিজাইন স্কিলসঃ

  • এডোবি ফটোশপ,
  • এডোবি ইলাসট্রেটর,
  • এডোবি আফটার ইফেক্টস
  • ইনডিজাইন
  • ইউএক্স/ইউআই ডিজাইন (UX/UI Design),
  • ইউএক্স রিসার্চ,
  • ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন,
  • বেসিক এইচটিএমএল (HTML),
  • এ্যাক্রোব্যাট রিডার/এডিটিং,
  • টাইপোগ্রাফী,
  • প্রিন্ট লেআউট ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি।

১১. ভেন্ডর সাটিফিকেশনঃ বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিশ্বাসযোগ্য বিভিন্ন দক্ষতার উপর ভেন্ডর সার্টিফিকেট প্রোভাইডার আছে যেমন এ্যাডোবি ডিজাইনের জন্য, মাইক্রোসফ্ট, পিএমআই (প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য), বৃটিশ কাউন্সিল (ইংরেজী ভাষার দক্ষতার জন্য) ইত্যাদি। এছাড়া বিশ্ববিখ্যাত অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফরম আছে যা অধিকাংশ কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃত।

Black Flatlay Photo Motivational Finance Quote Facebook Cover

Plan like a king! Employability Skills Fact!

  • আপনার জীবনে অনেক ব্যর্থতা!
  • আপনার চাকরি হচ্ছে না!
  • আপনাকে সাহায্য করার কেউ নাই!
  • আপনার বেতন খুবই কম!
  • ডিগ্রি পেয়ে লাভ কি হল, চাকরি তো পাইনা!
এই সকল কথা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে কি হবে?
সবাই আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে?
কেউ আসবে না। বেশি হলে একটা ইমোজি দিবে আর একটু বেশি হলে কমেন্ট করবে। আপনারটা আপনারই সমাধান করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কি সমাধান করবেন? আগে সমস্যাটা তো নির্ধারণ করতে হবে! ধরুন এই মুহূর্তে –
  • আপনার চাকরি চাই।
  • ভালো বেতন চাই।
  • একটা ফ্ল্যাট কিনতে চাই।
  • একটা গাড়ি কিনতে চাই।
  • এসি রুম চাই।
  • সোশাল মিডিয়াতে লক্ষাধিক লাইক চাই। আরো কত কি!

আমারও এই সব কিছুর চাহিদা ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু অভিজ্ঞরা বলেন জীবনে অগ্রাধিকার সেট করতে পারা সবচেয়ে বড় সক্ষমতা। কারণ একসাথে সবকিছু অর্জন করা যায় না। একদিনে সবকিছু ভেঙে যেতে পারে কিন্তু গড়া যাবে না। বাংলাদেশের যেকোনো প্রফেশনালকে জিজ্ঞেস করুন। তাদের কারোই সহজে কোনো কিছু অর্জিত হয়নি।

তবে হ্যাঁ কত দ্রুত অর্জন করবেন, তার একটা টার্গেট থাকতে পারে। যেমনঃ
  • একবছরের মধ্যে চাকরি চাই।
  • ক্যারিয়াররের মূল সড়কে উঠতে চাই।
  • ৫ বছরের মধ্যে ৬ ডিজিটেরের ইনকাম করতে চাই।

এই লক্ষ অর্জনে জ্ঞান, দক্ষতা, নেটওয়ার্ক এবং অভিজ্ঞতার ছক একে ফেলুন এবং বারবার আপডেট করুন।

রাজার মতো আচরণ করুন। নিজের সুখের কথা শেয়ার করুন। দুঃখের কথা নয়। একটা দুঃখকে জয় করে তারপর সেই জয়ের গল্প বলুন সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে।

———————————————————————

Follow me here Facebook | YouTube | LinkedIn

Corporate Work Blog Banner

To reach higher you have to save money! But how? Employability Skills Fact!

সঠিক সময়ে অর্থ জ্ঞান অর্জন করতে পারলে স্বপ্ন পূরণে আসতে পারে বাধা। ডাচ একটি প্রবাদ আছে “The art is not in making money, but in keeping it.” আমরা অসংখ্য উদাহরন দেখেছি যে অর্থ উপার্জিত হয়েছে পরিকল্পিতভাবে কিন্তু চলে গিয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। উপরের প্রবাদে শিল্প বলতে বোঝানো হয়েছে উপার্জনের পাশাপাশি সঞ্চয়ের পরিকল্পনাটা নিশ্চিত করা বেশী জরুরী। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের মতে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে শিশু/কিশোর বয়স থেকেই। যদিও আমি মনে করি যখনই আপনি উপলদ্ধি করবেন যে সঞ্চয় করা অত্যন্ত জরুরী আপনার জন্য, তখনই শুরু করে দেবেন।



ডেভিড ওয়েলইভার ফাউন্ডার “Money Under 30”, তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন ৫০/৩০/২০ সূত্রের কথা যেখানে তিনি মাসিক আয়ের ৫০ ভাগ মৌলিক প্রয়োজনে, ৩০ ভাগ সে সমস্ত জায়গায় যেখানে স্বীদ্ধান্ত গ্রহণে বিচক্ষনতার প্রয়োজন এবং বাকি ২০ ভাগ সঞ্চয়। বাংলার মায়েদের মুষ্টি চালের কথা শুনেছেন, প্রতিদিন রান্নার চাল থেকে এক মুষ্টি চাল সঞ্চয় করা? আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এই এক মুষ্টি চাল তুমি উঠিয়ে রাখো কেন? তিনি বলতেন বিপদের সময় কাজে লাগবে। সে বয়সে বিপদ শব্দের সাথে আমার তেমন পরিচয় হয়নি। আমার নানীকেও ঠিক এই কাজটি করতে দেখেছি।

আমার মা তার আলমিরার বিভিন্ন তাকে বিভিন্ন শাড়ির ভাজে টাকা লুকিয়ে রাখতেন। যদিও আমার মা জানতেন না যে আমি জানতাম কোন শাড়ির ভাজে কত টাকা আছে। আমার মা গোসলখানায় ঢুকলেই, আমি লুকিয়ে ১০ টাকা নিয়ে দোকানে চলে যেতাম। ছোটবেলায় বাবা কাছ থেকে মাটির ব্যাংক উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম। প্রতিদিন বিকেলবেলা বাবা অফিস থেকে ফিরলে আমি মাটির ব্যাংক নিয়ে বাবার কাছে যেতাম। তিনি ১/২/৩/৫/১০ টাকা আমার ব্যাংকে ঢুকিয়ে দিতেন।

আমি অসংখ্য ক্যারিয়ারে সফল ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করেছি। দেখেছি প্রত্যেকেই অর্থ সাশ্রয়ের কথা সবার আগে চিন্তুা করে থাকেন। ছোট ছোট খরচও অপরিকল্পিতভাবে করেন না। একভাই তো বলেই ফেললেন, নিজের কামানো টাকা অপ্রয়োজনে খরচ করতে গায়ে লাগে। তবে বুদ্ধিমানেরা অন্যের কামানো টাকা থেকেও সঞ্চয় করতে ভোলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এক ছাত্রের সাথে কথা হলো। সে প্রতিমাসে বাবার কাছ থেকে যা পায় সেখান থেকে প্রতিমাসে জমানোর চেষ্টা করে। এখন সে তৃতীয় সেমিস্টারে পড়ছে, ইতিমধ্যে তার কাছে প্রায় ৪৪ হাজার টাকার মতো জমেছে। তার কৌশল ছিলো কোনদিন সে মেসে খালি পকেটে মেসে ফিরতো না এবং ডেবিট কার্ড দিয়ে কখনো সে একবারে সব টাকা তুলে ফেলতো না। পাশাপাশি টিউশনি এবং বিভিন্ন লেখালেখী করে যা কামাতো, সব নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমিয়ে রাখতো। তার প্ল্যান সে তার মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দেবে।

এখন আমাদের সঞ্চয়ের পরিকল্পনা থাকেনা বললেই চলে। একটাই অযুহাত, মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়। সঞ্চয় করবো কখন। আসলে এই কথাটা আমি নিজেও অনেকবার বলেছি। ক্যারিয়ারে মাঝামাঝি সময়ে এসে কোন একটি বিপদে পড়ে বুঝতে পেরেছি সঞ্চয় কি জিনিস। তারপর স্বীদ্ধান্ত নিলাম সঞ্চয়ে মনোযোগী হবো। আমি বেশ কিছু স্বীদ্ধান্ত নিলামঃ

  • মৌলিক চাহিদা পূরণ প্রথম লক্ষ্য।
  • অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ।
  • ক্রেডিট কার্ড থাকবে তবে নিজের পকেটে নয়। নিজের পকেটে শুধু ডেবিট কার্ড।
  • একক ইনকামের উপর নির্ভরশীল না হওয়া। সেজন্য খুঁজে বের করলাম এমন কি দক্ষতা আছে যা আমি ব্যবহার করে উপার্যন বৃদ্ধি করতে পারি।
  • ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলে ফেললাম। তারপর মাসিক আয়ের মাত্র ২% কোন চিন্তাভাবনা না করে ব্যাংকে রাখা শুরু করলাম। ধীরে ধীরে ২% থেকে ৫% তারপর দেড় বছরের মধ্যে ২০% বৃদ্ধি করলাম।
  • এই পদ্ধতি কাজে এলো। ঐ জমানো টাকা আমার কাজে লাগলো যখন ২০১৬ সালে মা, স্ত্রী ও কন্যাকে সহ পবিত্র হজ্জ্ব পালন করতে গেলাম।

আমি নিশ্চিত, আপনারা যারা আমার এই ব্লগ পড়ছেন তারা সবাই পরিপক্ক এবং কিছুটা বুদ্ধি রাখেন। তাই আবেগ দিয়ে আমার লেখাগুলো না পড়ে, বাস্তবতা মাথায় রেখে ব্লগটি পড়ুন। নিজেকে আপনি প্রশ্ন করুন, আসলেই কি আপনার পক্ষে সঞ্চয় করা সম্ভব নয়? অথবা আগামী ছয় মাসের মধ্যে আপনি কি সঞ্চয় শুরু করতে পারবেন না? অথবা আগামী একবছরের মধ্যে?

যদি মনে করেন সম্ভব তাহলে নীচের ধাপগুলো আপনি অনুসরণ করতে পারেন।

১. অর্থ সঞ্চয় শুরু করার প্রথম পদক্ষেপে আপনি এক্ষুনি মাইক্রোসফট এক্সেল খুলে “বেসিক পারসোনাল বাজেট” টেমপ্লেটটি খুলে আপনার প্রতিমাসে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসার ফিক্সড ব্যয় বের করুন।

২. প্রতিমাসে আপনার আয়ের উৎসগুলো খুঁজে বের করুন। এবার আয় এবং ব্যয়ের মাঝে পার্থক্য বের করুন। যদি কোন উদ্বৃত্ত না থাকে তাহলে আয়ের উৎস সন্ধানে নেমে পড়ুন।

৩. খরচগুলোকে একটি তালিকার মধ্যে নিয়ে আসুন এবং একটু খুজে দেখুন কোন দিক দিয়ে খরচ কমানো যায় কিনা। অগ্রাধীকার অনুযায়ী খরচ করুন।

৪. একটি প্রবাদ আছে “আয় বুঝে ব্যয় করো” যা বর্তমানে পরিবর্তিত হয়ে বলা হয় “ব্যয় বুঝে আয় করো”। এর অর্থ হলো আপনার মাসিক খরচের সাথে সঞ্চয়ের জন্য ১০% বা ১৫% কে খরচ হিসেবে নির্ধারন করুন। এই ১০% আপনাকে হয় বর্তমান আয় থেকে খরচ হিসেবে বের করতে হবে। নয়তো ১০% আপনাকে নতুন উৎস থেকে আয় করতে হবে।

৫. লক্ষ্য ছাড়া কোন কিছু করা ঠিক নয়। তেমনি সঞ্চয়ও লক্ষ্য ছাড়া করা উচিত নয়। আপনি একটি লক্ষ্য নির্ধারন করুন। স্বল্প মেয়াদী বা দীর্ঘ মেয়াদী সঞ্চয় লক্ষ্য হতে পারে। দেশের বাইরে ঘুরতে যাবার জন্য বা বিদেশে পড়তে যাবার জন্য বা ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট জমা দেবার জন্য। আবার কোন ব্যবসায় বিনিয়োগের লক্ষ্যেও সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে পারেন। একটি লক্ষ্য নির্ধারন করে শুরু দিন।

৬. ছোটবেলায় মাটির ব্যাংকে টাকা রেখে জমিয়েছি। বড় বেলায় অবশ্যই আপনাকে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আপনার সঞ্চয় পার্টনার বানাতে হবে। অনেকে আছেন ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসেবে খুলে ফেলেন বা অনেকে কিস্তি ভিত্তিক সঞ্চয় আমানত হিসেবেও কোন একটি ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এছাড়া আরো অনেক উপায় আছে। অভিজ্ঞ কারো সাথে একটু পরামর্শ করে নিতে পারেন।

৬. আরেকটি উপায় হলো ব্যাংকের সাথে এমন একটি সিস্টেম করে নিতে হবে যেন আপনার নির্দিষ্ট পরিমান সঞ্চয়ের কিস্তি অটোমেটিক আপনার সাধারন সঞ্চয় একাউন্ট থেকে কেটে নেয়। অনেক সময় নিজের হাতে টাকা সঞ্চয় একাউন্টে রাখতে কষ্ট হয়। মনে হয় আচ্ছা আজকে এই জিনিসটা কিনে ফেলি, আগামী মাসে একসাথে দুইমাসেরটা একবারে জমা দিয়ে দেবো। সেই দুইমাস আর আসে না।

৭. কি পরিমান সঞ্চয় হচ্ছে সেটা নিরীক্ষণ করুন।

যাইহোক, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং পরিকল্পনা দুইটাই থাকা চাই। তাই বলে আমি বলছি না জীবনকে একদম তেজপাতা বানিয়ে সঞ্চয় করতে হবে। সবই চলবে কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী। ধরুন আগামী শীতে ৭ দিনের জন্য কক্সবাজারের কোন একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবকাশ যাপন করতে যাবেন। হিসেব করে দেখুন কত লাগবে। তারপর জমানো শুরু করে দিন। পরিশেষে আমার একটি পছন্দের প্রবাদ উল্লেখ করছি

“It’s not about how much money you make. It is about how you save it”

লেখকঃ

কে. এম. হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

ইমেইলঃ [email protected]

Yellow Rediscovering Amphibians Blog Banner

Growth Mindset

আমার এক সময় একটা সমস্যা হতো। আমার কাছে কেউ আইডি কার্ড চাইলেই মেজাজ গরম হয়ে যেতো, অপমানিত বোধ করতাম। ভাব এমন হতো যে আমার মতো মানুষের কাছে আইডি কার্ড চায় কেমন করে।

প্রায় ১৫ বছর আগের একটি ঘটনা। একবার উত্তরা থেকে মিরপুর আসতে প্রায় দুই ঘন্টা লেগে গিয়েছিলো। ঘামে পুরো শরীর ভেজা। একটি অফিসের গেট দিয়ে ঢুকতেই অল্প বয়সী এক নিরাপত্তারক্ষী মোটা গলায় আমাকে বলে আপনার আইডি কার্ড কই। আমার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। বলে কি? আমি কে এম হাসান রিপন, এই অফিসে প্রতিমাসে আসি, সেখানে এই ছোকড়া আমার কাছে আইডি কার্ড চায়!

মেজাজ গরম করে দিলাম একটা ধমক। পাশ থেকে আরেকজন সিনিয়র নিরাপত্তারক্ষী এসে বলল স্যার যান, মনে কিছু কইরেন না। তারপর যুদ্ধে জয়ী সেনাপতির মতো হেঁটে ভেতরে গেলাম। তারপর শুনলাম সেই অফিসে রুল জারী হয়েছে, গেট দিয়ে যেই ঢুকবে, তাকে আইডি কার্ড দেখাতে হবে।



তার কিছু দিন পর স্কলারশীপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেলাম কম্পিটেন্সি বেইজড এডুকেশনের (Competency Based Education) উপর প্রশিক্ষণ নিতে। সাথে ছিলো আরো ১০ জন দেশী ভাই ও বোনেরা। আমাদের প্রশিক্ষক ছিলেন মি. জন আর্থার। প্রথমদিন টেইফ হান্টার ইন্সটিটিউটের (TAFE Hunter Institute) গেটের কাছে আসতেই দেখী সিকিউরিটি চেকপোস্ট। এইবার আর কোন ভুল হলো না। সবাই আইডি হাতে তালুতে নিয়ে রাখলাম। বিদেশ বলে কথা।

আমি মনে মনে ভাবছি, দেখি মি. জন আর্থার কি করে। ও আল্লাহ উনি দেখী আমাদের চেয়েও একধাপ এগিয়ে। উনি আইডি কার্ড ঝুলালেন গলায়। তারপর সিকিউরিটি দরজার কাছে আসতেই বিশাল আওয়াজ করে নিরাপত্তারক্ষী হেসে বললেন “গুড মর্নিং মি. আর্থার! মি. আর্থারও হাসি দিয়ে বললেন গুড মর্নিং! তারপর আইডি দেখালেন, সাথে থাকা ব্যাগও দেখালেন। তারপর পেছন পেছন আমরাও সবাই তাই করলাম।

তারপর চলে গেলাম তিন অথবা চার তলায়। দেখি মি. জন আর্থার নেই। দাড়িয়ে আছি, হঠাৎ দেখি স্যার আসছেন একটি ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে। ট্রলির ভেতর রাখা আছে সব লার্নিং এইড (মার্কার, সাদা কাগজ, রঙিন কাগজ, স্টিকি নোট, স্কেল, প্রিন্টার মেশিন আরো কত কি) এবং সাথে রুমের চাবি। নিজে ক্লাশের দরজা খুললেন, সব লাইট জ্বালিয়ে দিলেন এবং আমাদের বসতে বললেন। তারপর টানা ৮ ঘন্টা ক্লাশ। মাঝে তিনবার দরজা খুলে দিলেন ব্রেকফাস্ট, মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেলের চায়ের জন্য। তারপর ঘোষনা দিলেন আজকে মতো ক্লাশ শেষ।

আমরা সবাই মহাখুশি। কিন্ত সাথে সাথে আরেকটি ঘোষনা এলো। সকালে ক্লাশে ঢুকে যেরকম পেয়েছিলাম, সেরকম রেখে ক্লাশ থেকে বের হতে হবে। ব্যাস সবাই যার যার চেয়ার ঠিক করলাম, মেঝে থেকে ময়লা উঠিয়ে নির্ধারিত বিনে রেখে দিলাম। লাইট, হিটার বন্ধ করে বের হলাম। মি. জন আর্থার দেখি বের হচ্ছেনা না। উনি একটি ফরম পূরণ করছেন। ক্লাশে এসে যা যা পেয়েছিলেন, সেগুলো আবার বুঝিয়ে দেবার জন্য ফরম পূরণ করছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম দিনে আমার সঠিক আচরনের উপর একটি সার্টিফিকেট কোর্স করা হয়ে গেলো। ঢাকায় এসে অস্ট্রেলিয়ায় যা দেখেছি, যা পর্যবেক্ষন করেছি সব নিজের বাড়িতে, অফিসে, ক্লাশে প্রয়োগ করার চেষ্টা করলাম। আমার সহকর্মী শিক্ষকদেরও অনুরোধ করলাম। কেউ মানলেন, কেউ উপেক্ষা করলেন। যাইহোক তারাও হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত প্রয়োগ করবেন না বলে ভেবেছিলেন। ক্লাশে কেমন করে একজন শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয় বা তার লার্নিং নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে আরেকটি আর্টিক্যালে লিখবো।

যাইহোক আসল কথায় আসি। পরিচয় জানতে চাইলে বা সিকিউরিটি চেক পোস্টের নিয়ম মানতে বললেই আমাদের সবার আত্মসম্মানে বেধে যায়।

  • মার্কেটের আর্চ গেট দিয়ে ঢুকতে বললে, রাগ হয়ে তাকিয়ে পাশ দিয়ে ঢুকি
  • সেদিন এয়ারপোর্টে নিরাপত্তারক্ষীর সাথে বিরাট ঝগড়া হলো যাত্রীর সাথে থাকা এক আত্মীয়ের। যেভাবেই হোক তিনি ঢুকবেন। আর নিরাপত্তারক্ষী টিকিট ছাড়া ঢুকতেই দেবে না। এদিকে দুরে দাড়িয়ে থাকা মানুষরা মুখে যা আসছে তাই বলে ভিন্নভাবে দেশের প্রশংসা করে যাচ্ছেন। আমি একজনকে বললাম ভাই ঐ গেট দিয়ে ঢুকতে হলে টিকিট দেখাতে হয়, এটাই নিয়ম। তারপরও তিনি মানবেন না।
  • ব্যাংকের কর্মকর্তা একজনকে বললেন একাউন্ট খুলতে হলে, জাতীয় পরিচয় পত্র লাগবে। ভদ্রলোক তো রেগে মাতাল। পরেরটা আর নাই বলি। একজন বুঝাচ্ছেন, অন্যজনও যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিচয় পত্র এবং আত্ম অহংকার যেন এক সাথে চলে। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয় পত্র, অফিস আইডি বা বর্তমানে মুভমেন্ট পাস, মেম্বারশীপ কার্ড, এই সব কিছু উত্তোলন করে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে আত্ম অহংকারকে দিয়ে তালা মেরে দেই। এই তালা খোলার সাধ্য কারো নাই। এই আমরাই যখন বিদেশে যাই তখন আত্ম অহংকার নামক তালাটি দেশে রেখে যাই।

এক বড় ভাই আমার সাথে ঢাকায় ফিরছেন। প্লেনে তার সাথে আলাপ হচ্ছিলো। দেখলেন ভাই কি নিয়ম। সব জায়গায় কঠিন নিয়ম। কোন দুই নম্বরী নাই। প্রত্যেকটি জায়গায় কি সুন্দর পরিবেশ। আর আমাদের দেশে, কি আর বলবো। আমাদের প্লেনটি বাংলাদেশের মাটি ছুতেই তিনি পকেট থেকে মোবালইটি বের করে তার এক সহকারীকে ফোন দিয়ে বললেন সাথে এলইডি টিভি আছে, বের করার ব্যবস্থা কর। তারপর প্লেন থামার আগেই দাড়িয়ে হ্যান্ড ব্যাগ নামানো শুরু করে দিলেন। তারপর আমিও চুপ, তিনিও চুপ।

শুরুতেই যে অফিসের কথা বলেছি, পরে অবশ্য শুনেছি তারা সব নিরাপত্তরক্ষীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং পাশাপাশি সাবাসী দিয়ে সবাইকে বলা হয় ”ধন্যবাদ তোমাদের দায়িত্ববোধের জন্য। কিন্তু বাবারা সবাইকে প্রথমেই চোর ভেবো না”।

সিকিউরিটি পোস্ট এমন একটি জায়গা যেখানে নিরাপত্তরক্ষীরা নিজেরদের ছাড়া বাকি সবাইকেই অবিশ্বাসের চোখে দেখে। আর দেশের মানুষরা নিজেদের ছাড়া সব চেকপোস্টকেই আত্ম অহংকারের চোখ দিয়ে দেখে। আমার মনে হয় পরিচয় পত্র দেখতে চাওয়া এবং পরিচয় পত্র দেখাতে পারার মধ্যে সামান্য একটু ফাঁক আছে। যেটা পূরণ করতে পারলেই আর আত্ম অহংকার ঢুকবার জায়গা পাবে না। ইন শা আল্লাহ এই ফাঁকটিও আমরা বন্ধ করতে পারবো এবং ফেসবুকের ভাইরাল ভিডিও থেকেও মুক্তি পাবো।

লেখক

K M Hasan Ripon, Executive Director, BSDI

Email: [email protected]

Pink and Red Motivation and Inspirational Blog Banner

পরীক্ষার পূর্বরাতের প্রস্তুতি

আমি সাধারনত জটিল কোনো বিষয় নিয়ে কখনো কোন লেখা বা মন্তব্য করিনা। কিন্তু কেন যেন এবারে করোনাকালীন সময় এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় প্রত্যক্ষণ করে লিখতে ইচ্ছে হলো।

ব্যক্তিগত বা জাতিগত ভাবে আমরা কম বেশি সবাই মোটামুটিভাবে পরীক্ষার আগের রাতে প্রস্তুতি নেয়া সেই শিক্ষার্থী। আমার এখনো মনে আছে সময়ের মূল্য বা যথাসময়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যতোই উপদেশ দেয়া হতো, দিন শেষে পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতিই আমাদের কাছে সব সময় বড় হাতিয়ার ছিলো। প্রকৃতির বিচিত্র নিয়মে পাশও করে যাই কোন এক অদ্ভুত কারণে। সেই আমরা আবার যখন প্রতিনিধিত্ব করি বিভিন্ন কর্মস্থলে বা প্রশাসনে, আমাদের কর্মস্থলেও সেই পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতিই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।

হয়তো জাতি হিসেবে আমরা অনেকটা আশাবাদী জাতি। স্বপ্ন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদের আবদার অনেক। আমাদের পরীক্ষার আগের রাত্রের প্রস্তুতিমূলক অভ্যাসটা সবক্ষেত্রেই প্রয়োগ করছি। আর ভাবছি তিনি নিশ্চয়ই আমাদের সেরা ফলাফলটা দেবে। কিন্তু দায়িত্ববোধের বিষয়টি?

আমরা এমনই আবেগী জাতি আমরা সামান্য সূর্যালোক পেলেই ভুলে যাই মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কথা। করোনাকালে গতবছরের অভিজ্ঞতাকেও আমরা দিব্যি ভুলে গেছি। ব্যক্তিগত বা জাতিগতভাবে আমাদের মনে রাখা উচিৎ ছিলো আমাদের গতবছরের অভিজ্ঞতা।

আশা করি মহান আল্লাহ তায়ালা হয়তো আমাদের পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতি নেয়া শিক্ষার্থী হিসেবে এবারের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ করবেন। আমরা এই মুহুর্তে তেমন কিছু ঐশ্বরিক অলৌকিক ঘটনা আশা করছি। হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য এমন এক সকাল দিয়ে পুরষ্কৃত করবেন যখন আমরা আগামী পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের অঙ্গীকার নিয়ে যথাসময়ে প্রস্তুতি নেয়ার প্রতিজ্ঞা করে এবারের পরীক্ষায় পূর্বরাতের প্রস্তুতির জন্য ক্ষমা চেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।

লেখক

কে, এম, হাসান রিপন

Email: [email protected]