অনুপ্রেরণামূলক গল্প | ছেলের প্রশ্নে মা উট বিব্রত

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন
October 31, 2020
অনুপ্রেরণামূলক গল্প |ছেলের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে বাবা যে কাজটি করতে বললেন
November 14, 2020

একদিন একটি মা এবং একটি শিশু উট অলস দুপুরে বসে ছিল এবং হঠাৎ শিশু উটটি মা উটটিকে জিজ্ঞাসা করলো, মা, আমি কি তোমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি?

মা বললো, অবশ্যই! কেন বাবা, তোমাকে কি কোন কিছু বিরক্ত করছে? না! তবে আমার মনের ভেতর কিছু প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে।

তোমার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন আমাদের পিঠের উপর কুঁজ কেন?”

আচ্ছা বাবা শোন, আমরা মরুভূমির প্রাণী, আমাদের শক্তির প্রয়োজন আর সেজন্যই আমরা কুঁজের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে থাকি এবং আমরা খাবার ছাড়া মরুভূমিতে প্রায় একমাস বেঁচে থাকার জন্য পরিচিত।

ঠিক আছে, তাহলে ২য় প্রশ্ন আমাদের পা এতো দীর্ঘ এবং বৃত্তাকার কেন?

বাবা, এটি আমাদের মরুভূমিতে দ্রুত গতিতে চলবার জন্য সাহায্য করে। এই পা দিয়ে আমি মরুভূমির চারপাশে যে কারও চেয়ে দ্রুত গতিতে চলতে পারি!

ঠিক আছে, তাহলে ৩য় এবং শেষ প্রশ্ন আমাদের চোখের পাতা দীর্ঘ কেন? কখনও কখনও এটি আমাকে বিরক্ত করে!

মৃদু হেসে মা বললো, এই দীর্ঘ ঘন চোখের পাতা গুলি আমাদের মরুভূমির বালুঝড় থেকে আমাদের চোখকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

এবার শিশু উটটি কিছুক্ষণ ভাবনার পর বলল, সুতরাং বলা যায় যে আমরা যখন মরুভূমিতে থাকি তখন কুঁজের মাধ্যমে আমরা শক্তি সঞ্চয় করি, বৃত্তাকার বড় বড় পা গুলো মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলতে সাহায্য করে এবং এই চোখের বড় ঘন পাতা আমার চোখকে মরুভূমির বালুঝড় থেকে রক্ষা করে। “মা তাহলে আমরা চিড়িয়াখানায় কি করছি?”

গল্পের সারমর্ম:

আপনার জ্ঞান, দক্ষতা, আচরন, কর্মক্ষমতা এবং যোগ্যতা তখনই কাজে আসবে যদি এটি সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়। আমরা প্রত্যেকেই দক্ষতা বিকাশ করছি কোন লক্ষ্যকে সামনে না রেখে। এককথায় বলা যায় লক্ষ্য ছাড়া দক্ষতা বিকাশ ঘটছে প্রতিনিয়ত। আমরা প্রায়ই দেখছি আমরা যেটি ভালোবাসি সেটি আমরা দক্ষভাবে করতে পারছি না। আমরা যেটি দক্ষভাবে করতে পারছি সেটি আমরা ভালোবাসি না। যার ফলে আমাদের মধ্যে একধরনের বিরক্তির জন্ম নেয়। কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের মনের সাথে লক্ষ্যের এবং লক্ষ্যের সাথে দক্ষতার কোন সংযোগ থাকে না। তাই সময় থাকতে আমাদের এখনি লক্ষ্যকে নির্ধারন করে জ্ঞান এবং দক্ষতা বিকাশ করতে হবে। না হলে শিশু উটটির মতো হয়তো আমাদেরও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে কোনও না কোন একদিন।

গল্পটি গুগল থেকে সংগৃহীত। অনুবাদ এবং সারমর্ম লেখক: কে এম হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

Total Page Visits: 779 - Today Page Visits: 1
Share on social media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − seventeen =