7F9A7856

ক্যারিয়ার চিন্তা কখন?

পড়াশুনা শেষ করে তারপর হয় চাকরি না হয় ব্যবসা, এই রকম চিন্তাধারা থেকে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বের হয়ে আসতে হবে। বেশ কিছুদিন আগে আমি ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি মাইন্ড ম্যাপ তৈরি করেছিলাম যেখানে আমি দেখাবার চেষ্টা করেছি কিভাবে ক্যারিয়ার প্ল্যান করে শিক্ষাজীবনকে পরিচালিত করা যায়। আমার এবারে লেখা আমার তৈরি করা সেই মাইন্ড ম্যাপকে নিয়ে।

পড়াশুনা শেষ করে তারপর হয় চাকরি না হয় ব্যবসা, এই রকম চিন্তাধারা থেকে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বের হয়ে আসতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর জন্য তার শিক্ষা জীবন হচ্ছে অত্যন্ত মুল্যবান। পলিটেকনিক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ বছরে, একজন শিক্ষার্থী তার জীবন গড়ার জন্য যা ইচ্ছা তাই করতে পারে, যা চায় তাই পেতে পারে, যাকে প্রয়োজন তার কাছেই পৌছতে পারে। প্রত্যেক সফল ব্যাক্তিই তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কর্মঠ, বুদ্ধিমান এবং সৎ তরুনদের সান্নিধ্য কামনা করেন। তাদের মেধা এবং বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট থাকেন। সেজন্য আমরা তরুন শিক্ষার্থীদের কদর এবং গুরুত্ব যুগযুগের ইতিহাস ঘাটলেই দেখতে পাই। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলেও সত্য যে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই তার এই শিক্ষা জীবনের গুরুত্বকে অনুধাবন করতে না পেরে অবহেলায় ৪/৬টি গুরুত্বপূর্ন বছর নষ্ট করে ফেলে। ছাত্রাবস্থায় কিভাবে নিজের কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করা যায় এবং ছাত্রজীবন শেষ করেই, ডিগ্রী পাওয়ার সাথে সাথেই কিভাবে চাকরি বাজারে প্রবেশ করা যায় তার ওপর আজকের এ লেখা । এখানে এমন সাতটি বিষয় আলোচনা করেছি, যেগুলো অনুশীলন করলে ছাত্র অবস্থায় নিজের কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে পারবেন যে কোনো শিক্ষার্থী। এগুলো মেনে চললে ভবিষ্যতে থাকবে না কোনো হতাশা, সাফল্য তাকে ডাকবে হাতছানি দিয়ে, চিন্তা থাকবে না চাকরির বা ব্যবসার। ১. হার্ড স্কিলস:

যারা বিশ্ববিদ্যালয় বা পলিটেকনিকে পড়াশুনা করছেন, তাদের প্রত্যেকেরই ভাবনা যে, ‘চার বছর পরে আমি একজন গ্রাজুয়েট হবো বা একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হবো।’ এই পড়াশুনা অবস্থায় একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, ভালো সিজিপিএ অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে যত কম সিজিপিএ, ততো বেশি পরিশ্রম এবং ভবিশ্যতে কষ্ট বা হতাশা আসতে পারে আপনার কর্মজীবনে। কিন্তু এ কথা বলা যাবে না যে, ভালো সিজিপিএ না পেলে একেবারেই কিছু হবে না। শুধু মাথায় রাখা প্রয়োজন, সিজিপিএ যতো ভালো হবে, আপনার অর্জনটা ততই এগিয়ে থাকবে। তাই চারটা বছর পরিশ্রম করুন, ভালো একটা সিজিপিএ অর্জনের জন্য।

১.১ কিভাবে ভালো সিজিপিএ অর্জন করবেন:

# নিয়মিত ক্লাশ করা এবং শিক্ষকদের লেকচার চোখ, কান ও মন দিয়ে শোনা এবং যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো সেটা কে স্মরণে রেখে প্রশ্ন করা,   শিক্ষকদের কাছ থেকে উত্তর বুঝে নেয়া এবং বাড়িতে গিয়ে গবেষনা করা।

# ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তাদের সাথেই করতে হবে যারা ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন এবং ভলো কাজের জন্য উদ্দ্যমী।

#লাইব্রেরী হতে হবে প্রিয় জায়গার মধ্যে একটি।

#গ্রুপ ভিত্তিক পড়াশুনা করতে হবে এবং যে বিষয়টি ভালো বুঝি সেটা আপনার বন্ধুদের বুঝাতে সাহায্য করতে হবে (Teach other to become Master) কনসেপ্ট।

২. টেকনিক্যাল স্কিলস বা কারিগরি দক্ষতা:

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে কেউ যদি বলে যে, তার কারিগরি জ্ঞান নেই, তাহলে তিনি কিন্তু পিছিয়ে থাকবেন। কারন বিশেষজ্ঞরা জোড় দিয়ে বলার চেষ্টা করছেন ”বেকারত্ত্বের ভ্যাকসিন কারিগরি দক্ষতা”। সেজন্য প্রত্যেক গ্রাজুয়েটের এক হাতে থাকবে তার সনদ, অন্যদিকে থাকতে হবে টেকনিক্যাল স্কিলস বা কারিগরি দক্ষতা। এজন্য তার যেসব বিষয়ে দক্ষতা থাকা জরুরী-

প্রথমত, কম্পিউটার অফিস এপ্লিকেশনস তথা এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট পুরোপুরি আয়ত্বে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, বেসিক আইটি দক্ষতা যেমন ইন্টারনেট এন্ড ইমেইল বিশেষ করে কিভাবে সহজে এবং দ্রুততার সাথে গুগলকে ব্যবহার করা যায়, জিমেইলের ফিচারগুলো কে পরিপূর্নভাবে ব্যবহার করা যায়।

তৃতীয়ত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। ফেসবুক, লিংকডইন, ইউটিউব ইত্যাদি কিভাবে কাজ করছে তার জ্ঞান অবশ্যই তাকে রাখতে হবে, বিশেষ করে বর্তমানে এফ-কমার্সে বা ই-কমার্সের যুগে এই বিষয়ে ধারনা কম থাকলে চলবে না ।

চতুর্থ বেসিক ডিজাইনিং দক্ষতা বিশেষ করে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের মতো বেসিক এডিটিং এর কাজগুলো অবশ্যই আয়ত্বে রাখতে হবে। এছাড়াও বেসিক এডিটিং স্কিলস যেমন ভিডিও এডিটিং, বেসিক এ্যানিমেশন এই প্রাথমিক দক্ষতাগুলো আত্মবিশ্বাসকে অনেকগুনে বাড়িয়ে দেবে।

৩. সফট স্কিলস:

মানুষের জীবন টিকে আছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে। মানুষকে প্রতিনিয়তই যোগাযোগের ওপর থাকতে হয়, আদান-প্রদান করতে হয় তথ্যের। এই তথ্যের আদান-প্রদানে যদি ভুল হয়ে যায় তাহলে নিজের নির্ধারন করা লক্ষ্যে পৌঁছানো দুরূহ হয়ে পড়ে। সেজন্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। লেখা, পড়া, কথা বলা, অন্যকে কনভিন্স করা, অন্যকে বোঝাতে পারা, রিস্ক নেয়া, সঠিকভাবে চিন্তা করা প্রভৃতি বিষয়গুলোই হলো সফট স্কিলস। এগুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে চাকরির বাজার কিংবা উদ্যোক্তাদের জগতে বেশী দূর আগানো সম্ভব হবে না। তাই সফট স্কিলস শক্তিশালী করতে প্রচুর চর্চা করতে হবে, এবং সেটা ছাত্রাবস্থাতেই।

৪. ল্যাংগুয়েজ স্কিলস বা ভাষাগত দক্ষতা:

আমরা অন্যের কাছে তথ্য পৌঁছাই ভাষার মাধ্যমে। নিজের অভিব্যক্তি, চাওয়া-পাওয়া অন্যের কাছে প্রকাশ করি এই ভাষার মাধ্যমেই। শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার প্রতি তো অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। আঞ্চলিকতা ছাড়া শুদ্ধ প্রমিত বাংলা চর্চার পাশাপাশি অন্য একটি ভাষার ওপর ভালো দক্ষতা রাখতে হবে। এটি হতে পারে চাইনিজ, জার্মান, ইংলিশ বা অন্য কিছু। অন্য আরেকটি ভাষা আয়ত্বে রাখলে, যারা শুধু একটি ভাষায় দক্ষ তাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকা যাবে। যে যতো বেশি ভাষায় দক্ষতা রাখবে, সে ততো এগিয়ে থাকবে।

৫. ওপেন টু লার্ন এপ্রোচ:

বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবকিছুই রয়েছে হাতের ছোট্ট একটি ডিভাইসে। এক ক্লিকেই চলে যাওয়া যাচ্ছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। এখন বিভিন্ন জায়গায় ফ্রী বা অল্প খরচে ওয়ার্কশপ, সেমিনার, বুট ক্যাম্প, ফেস্টিভ্যাল, কনফারেন্স, সিম্পোজিয়াম হচ্ছে। আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে সেগুলো দেখতে পাচ্ছি, বা নোটিফিকেশন পাচ্ছি কিন্তু আমি কখনো সেগুলোতে অংশগ্রহণ করছি না। এটা আমাকে পিছিয়ে রাখছে অন্যদের থেকে। ওপেন টু লার্ন এপ্রোচ হচ্ছে এটাই। মনে রাখতে হবে নিজের নলেজ ব্যাংক যতো সমৃদ্ধ হবে, সুযোগের সংখ্যা ততো বৃদ্ধি পাবে কারন প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনেই অনেক সুযোগের হাতছানী থাকে কিন্তু জ্ঞান, দক্ষতার এবং সঠিক আচরনের অভাবে সেগুলো আমরা ছুয়ে দেখবারও সাহস করতে পারি না। কবর থেকে দোলনা পর্যন্তু আমাদের শেথার সময় তার মধ্যে শিক্ষা জীবনের ১০/১২টি বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।

৬. একজন মেন্টর খুজে নেয়া:

‘ফাইন্ড এ মেন্টর’ ধারণাটি অনেক পুরনো। এক্সপার্ট কাউকে মেন্টর হিসেবে বেছে নিতে হবে যার কাছে সে যেকোনও বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারবে। যোগাযোগের এ যুগে সেরকম কাউকে খুঁজে বের করা কঠিন কিছু না। সাফল্য পেতে হলে এরকম আদর্শ কাউকে খুঁজে নেয়া দরকার। হয়তো একদিনেই এরকম কাউকে পাওয়া যাবে না, কিন্তু চেষ্টা করলে পাওয়া সম্ভব। তার পরামর্শ, নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞতা, সাহায্য আপনাকে অনন্য এক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে।

৭. অভিজ্ঞতা:

আমাদের অনেকের মনে হয়, আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি, আমিতো কোনো চাকরি বা কাজ করিনি। আমি অভিজ্ঞতা কোথা থেকে পাবো? কিন্তু একজন মানুষ চাইলে তার শিক্ষাজীবনে অসংখ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সংগঠন ও ক্লাব থাকে। সেখানে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ইভেন্ট হচ্ছে। সেখানে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে তাদের সাথে কাজ করে অসাধারণ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অর্জন করা যাবে প্রশংসাপত্র। পড়াশুনা চলাকালীন অনেক সংগঠন পার্ট-টাইম, ফুল-টাইম বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে, সেখান থেকেই অর্জিত হতে পারে দারুণ সব অভিজ্ঞতা।

ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে “Practice Makes Perfect- অনুশীলনে সবই সম্ভব”। উপরোক্ত সাতটি বিষয় যদি কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রাবস্থায় অর্জন করতে পারে পর্যাপ্ত অণুশীলনের মাধ্যমে, তবে নিশ্চিত করেই বলা যায় তার পরবর্তী জীবনে সফলতা হাতছানি দিয়ে ডাকবে, তাকে চিন্তা করতে হবে না কাজ নিয়ে।

এই বিষয়ে ভিডিওর মাধ্যমে জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন Start ______________________________________________________________________________________________________ লেখকঃ কে এম হাসান রিপন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট

PMnew

তিনি অন্যরকম একজন

দুর থেকে আমরা যারা তাকে দেখেছি, তখন মনে হয় অসম্ভব বিচক্ষণ একজন নারী। খুব কাছ থেকে যাদের দেখার সুযোগ হয়েছে তাদের কাছে তিনি সদা হাস্যজ্বল ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মহীয়সী নারী নেতৃত্বের উদাহরণ। পরিবারের সদস্য বিশেষ করে ছেলেমেয়ের কাছে অত্যন্ত মমতাময়ী মা আবার সাধারন মানুষের কাছে ভরসার স্থল। অনেকেই ভাবেন হয়তো যেকোন সমস্যার সর্বশেষ সমাধান সৃষ্টিকর্তা উনার মাধ্যমেই দেবেন। উপরের প্রত্যেকটি বিশেষণ যার জন্য প্রযোজ্য তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া শেখ হাসিনা।

প্রায়শই একটা বিষয় লক্ষ্য করি আমরা আমাদের তরুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের গুনাগুন এবং তাদের সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরি। উদ্দেশ্য একটাই তাদের সামনে অনুসরণ করার মতো একজন ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরা যাতে তরুণরা তাদের মতো করে নিজেদের গড়তে পারে, তাদের সাফল্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয় বা পরিচালিত হতে পারে। মূল কথা মানুষ তার স্বপ্ন দ্বারা পরিচালিত হয় সবচেয়ে বেশী, আর সেই স্বপ্নের অনুকরনীয় ব্যক্তিত্ব যদি হয় নিজ দেশের তাহলে তার প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশী। ভাবতে ভীষণ গর্ব হয় যে আমাদের দেশের তরুন সমাজকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এখন আর বহির্বিশ্বের উদাহরণের প্রয়োজন নেই কারন আমাদের বাংলাদেশেও আছে অনুপ্রেরণা পাওয়ার মতো নেতৃত্ব। একজন আদর্শ ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় গুণাবলী হলো যেকোন সৃষ্টিশীল কাজের জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা। গত ১০ বছরে আমরা দেখেছি যে কাজ গুলো আমাদের অনেকের মতেই ছিল অসম্ভব, তিনি সেই চ্যালেঞ্জগুলো ভীষণ দৃঢ়তার সাথে শক্ত হাতে গ্রহণ করেছেন। কোন বাধাই তাকে বিচলিত করেনি বরং এতোটাই দৃঢ় এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে এর আগে কখনো কাউকে দেখা যায়নি। বেশ কিছু প্রমান আমাদের সামনেই রয়েছে।

একজন আদর্শ নেতা নুতন নেতৃত্ব তৈরী করেন। আমরা বিগত কয়েক বছরে এর উপর্যুপুরি প্রমান পেয়েছি। আমরা প্রায়শই শুনি এদেশটাকে বদলাতে হলে সবার আগে তরুণ প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। তাদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত বছরগুলোতে বেশ কিছু নতুন তরুণ নেতৃত্ব দেশকে উপহার দিয়েছেন তার প্রমান আমাদের সকলের সামনেই দৃশ্যমান। পাশাপাশি প্রবীণদের নিয়েও তিনি একই সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে করে নতুন সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়। নবীন এবং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের আলোকে। একজন আদর্শ নেতৃত্বের আরো একটি বড় গুণাবলী হলো সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গী। আচ্ছা এর আগে এমন কি কখনো হয়েছে আজ থেকে ১০০ বছরের সামনের বাংলাদেশকে কেউ দেখার চেষ্টা করেছে অথবা দেখেছে? অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে পুরো বাংলাদেশ এখন জননেত্রীর উন্নয়নের নকশা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর আগে আমরা যা বইতে পড়েছি, আধুনিক চীন বা মালয়েশিয়ার কথা জেনেছি তা এখন আমাদের দেশেই দৃশ্যমান এবং এটাই বাস্তবতা।

ভালো কাজের স্বীকৃতি মানুষকে আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়। তার কাজের গতিকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা কাজে প্রমান করেছেন। তিনি যোগ্য ব্যক্তিদের যেমন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে নিয়ে এসেছেন আবার অযোগ্যব্যক্তি সে যতো ক্ষমতাশালীই হোক না কেন তাকে দেশের স্বার্থে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং এর একাধিক দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি। একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব সবসময় নমনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন একজন ব্যক্তিত্ব যার কাছে খুব সহজেই যাওয়া যায় এবং নিজের কথাগুলো অনায়সে বলা যায়। রাষ্ট্রের স্বার্থে কখনো হয়তো তিনি কঠিন হয়েছেন আবার ঐ একই কারনে পরম মমতায় কাছে টেনে নিয়েছেন। দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও অনায়াসে স্বীকার করেছেন উনি এখনও শিখছেন। তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে নিজের সন্তানের কাছে দিনের পর দিন শিখেছেন, বুঝতে চেয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাগুলো। তিনি প্রমান করেছেন একজন সফল নেতৃত্বকে সাফল্য পেতে গেলে অবশ্যই শিখবার মনমানসিকতা নিয়ে চলতে হবে।

একজন সফল নেতৃত্ব সবসময় তার দলকে সাথে নিয়ে দলগতভাবে কাজ করেন। আমরা যদি পুরো বাংলাদেশকে এ মুহুর্তে চিন্তা করি তাহলে খুব সহজেই বোঝা যাবে যে পুরো বাংলাদেশই যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো কাজ করে যাচ্ছে। বসে থাকার উপায় নেই। পুরোদমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। স্বপ্নটা অনেক বড় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তাই প্রস্তুতির পর্বটাও বেশ জোড়ালো। বিভিন্ন কাজের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করেছেন প্রবীণ এবং নবীনদের সমন্বয়ে গড়া তার দল যারা দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। ভালো যিনি করছেন তিনি যেমন স্বীকৃতি পাচ্ছেন আবার কিছুক্ষেত্রে নিজেই আবার দায়িত্ব নিয়েছেন এগিয়ে যাবার সংকল্পে।

স্বপ্নবাজ বা আবেগ ছাড়া যেকোন বড় কিছু অর্জন করা অনেকটা অসম্ভব। বাংলাদেশ এ সময়ে অসম্ভব স্বপ্নবাজ এবং আবেগময় একজন নেতৃত্বের অধিনে পরিচালিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন যেমন আকাশসম তেমনি আবেগের বিষয়টিও একইভাবে লক্ষ্যনীয়। তবে আকাশসম স্বপ্নের পদ্মাসেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাস্তবে রুপান্তরের জন্য একদিকে যেমন স্বপ্ন এবং আবেগদ্বারা তাড়িত হয়েছেন ঠিক একইভাবে গভীর দৃঢ়তার সাথে একাগ্রচিত্তে কাজ করেছেন তার স্বপ্নপূরনের প্রয়াসে। আদর্শ নেতৃত্বের এতো উজ্জল উদাহরণ বাংলাদেশ আগে কথনো দেখেনি। ব্যর্থ হবো বলে চ্যালেঞ্জ গ্রহন করা থেকে কখনো বিরত হননি।

এখন তরুন প্রজন্মের সময় এসেছে নিজেদের নিয়ে ভাব্বার। সদিচ্ছা, সৎমানসিকতা, কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় আর একাগ্রতা থাকলে সৃষ্টিকর্তাও সহায় হন। আমাদের তরুন প্রজন্মের সামনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন সফল নেতৃত্বের সবচেয়ে উজ্জল উদাহরণ। আমরা অনেকেই বলি অনেক কিছু শেখার আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে কিন্তু আমরা ধারন করি কজন? যেদেশে সফল নেতৃত্বের এতো বড় উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে সেদেশের তরুন সমাজ তো কখনো পথভ্রষ্ট হতে পারেনা। অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সদালাপী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকের কাছে বিশাল বিস্ময়। ভীষন ইতিবাচক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষটি ইতোমধ্যেই তার বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্টের কারনে বিশ্বের ১০০ জন বিশিষ্ঠ ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।বাংলাদেশ কি কখনও ভেবেছে যে এমন একটা সময় আসবে যখন অন্যেরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আমাদের বলবে

বাংলাদেশ তোমরা পেরেছো!

Teaser-8

জীবন থেকে শেখা

My Observation 61: পৃথিবীতে সব গুণের কথা বলা হয়ে গেছেবাকি আছে শুধু প্রয়োগ এবং অনুশীলন করা My Observation 60: ”আপনার প্রতিক্রিয়া জানাবার পদ্ধতি দেখেই বোঝা যাবে আপনি নিজে সফ্ট স্কিল অনুশীলন করেন নাকি করেন না” My Observation 59: Your morning attitude will define your whole day! ‬ My Observation 58: “neither celebrates Success nor Failure. Let’s celebrate LEARNING” My Observation 57: পড়তে হবে-পড়াতে, বুঝতে হবে-বুঝাতে হবে, লিখতে হবে-লিখাতে হবে, বলতে হবে-বলাতে হবে। তাহলেই পরিপূর্ণ শিক্ষক হবার স্বার্থকতা। My Observation 56: মনের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমার মনোবল আছে তো তোমার সব কিছু আছে। সুতরাং ভরসা রাখো সৃষ্টিকর্তার উপর। My Observation 55: জীবন মানেই সফ্ট স্কিলস।  My Observation 54: আমি ভয় দেখাতেও চাই না, পেতেও চাই না। সচেতন থাকতে চাই My Observation 53: ”অব্যবস্থাপনা” অত্যন্ত ভয়ংকর একটি শব্দ। My Observation 52: সবাই খুশি হবে এমন স্বীদ্ধান্ত অনুবীক্ষণযন্ত্র দিয়ে খুজলেও পাওয়া যাবে না। সাহস করে সকলে মিলে সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে হবে। My Observation 51: ”যার যার তার তার” এই মানসিকতাকে আমাদের ধ্বংস করতে হবে। কারন আমাকে এগিয়ে নিতে তোমাকে লাগবে”। My Observation 50: সস্তা শ্রমের প্রচারনা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে। সস্তা শ্রমকে পুজি করে অর্থনৈতিক স্তম্ভ নির্ধারন করা যাবে না। My Observation 49: ভয়ে মানুষ জিতে যাওয়া খেলা হেরে যায়। সেই মানুষই ভয় দেবার প্রতিযোগীতায় সবার আগে নাম লেখায়! My Observation 48: মূল সমস্যা হচ্ছে আমি নিজে হাসতে পারি না তাই অন্যের হাসিও আমার সহ্য হয় না My Observation 47: নেতিবাচক চিন্তা আর মন্তব্য করে কি লাভ? সমস্যা দেখলে সমাধান সহ বলা উচিৎ। আর সমাধান দিতে না পারলে চুপ থাকাটাই বদ্ধিমানের কাজ! My Observation 46: আমার পরিবর্তন আমাকেই করতে হবে। বেশী হলে মানুষরা উপায় বলতে পারবে। মানতে হবে আমাকেই, অনুশীলন করতে হবে আমাকেই। My Observation 45: If we work like MAD, we will become MAD. Be SMART! Think SMART! Act SMART! My Observation 44: Just because of Frustration, many of us are making mistakes! For them experts suggest to give a pause My Observation 43: ইচ্ছা থাকলে উপায় বের হবেই। অতএব নিজের ক্ষুদা প্রথমে নিজেকে মেটাবার চেষ্টা করতে হবে, তারপর মানুষ আপনার ইচ্ছাশক্তি দেখে সামনে এগিয়ে আসবে নিজেদের প্রয়োজনেই। My Observation 42: এটা নিশ্চিত যে উন্নত মানসিকতার চর্চা না থাকলে কখনোই স্বপ্ন পূর্ণ হবে না। উন্নত মানসিকতার প্রথম শর্ত হলো নতুন ধরনাকে ফেলে না দিয়ে আলোচনা করা। My Observation 41: “শিক্ষকেরা যা ভাববেন, যা বলবেন তাদের ছাত্রছাত্রীরা ঠিক তাই ভাববে, তাই বলবে। Improvisation শব্দের প্রয়োগ সম্ভবত শিক্ষকদের আগে করতে হবে তাহলে ছাত্রছাত্রীরাও তাদের প্রাপ্ত জ্ঞানকে Improvise করবে।”একজন শিক্ষক হিসেবে এই বিষয়টি সবার আগে আমার বুঝতে হবে। My Observation 40: রঙের সাথে থেকে রঙিন হয়ে চলো, একটাই জীবন তাকে রঙিন করে তোলো My Observation 39: কারিগরি দক্ষদের বেকারত্ব স্পর্শ করতে পারে না তবে কারিগরি দক্ষতার জন্য প্রয়োজন পাঁচটি ধাপ সম্পন্ন করাঃ

  • মন ‍দিয়ে শ্রবন করা প্রশিক্ষকদের আলোচনা।
  • ভালো করে দেখা প্রশিক্ষকরা কিভাবে করছেন।
  • প্রশিক্ষকরা যেভাবে করলেন তা নিজ হাতে করা।
  • যা নিজ হাতে করলেন তা বার বার অনুশীলন করা।
  • সর্বশেষ ধাপটি অত্যন্ত মজার আর তা হলো কাছের বন্ধু বা বন্ধুদের যা শিখলেন তা শেয়ার করা।
তবে এই পাঁচটি ধাপ আগে শিক্ষকদের বুঝতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে তাহলে শিক্ষার্থীরাও বুঝবে এবং বিশ্বাস করবে। তাহলেই বাংলাদেশ গর্বের সাথে পুরো বিশ্বকে বলতে পারবে আমাদের তরুনরা দক্ষ। My Observation 38: কিছু মানুষতো চাইবেই আপনি রেগে যান, তো তাদের চাওয়াটা IGNORE করলেই তো হয়ে যায়। আর CARE করলেই ওদের ইচ্ছা পূরন হয়।

My Observation 37: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। আপনাকে ভেবে চিন্তে এবং নিজ জ্ঞানের পরিমাপ করে কথা বলতে হবে। #চিড়া2জিরা কনসেপ্ট চলবে না। টিড়া২জিড়া মানে হলো আপনি বোঝেন বা নাই বোঝেন, আপনাকে সেই বিষয়ে কথা বলতেই হবে। My Observation 36: বেকারত্বের ভ্যাকসিন কারিগরি দক্ষতা! My Observation 35: বিপদে পড়লেই বুদ্ধি বাড়ে। যার মাথায় বুদ্ধি আসছে না, সে আসলে এখনো বিপদেই পড়ে নাই। Act_Don’t_React My Observation 34: মন ভালো রাখবার ঔষধবাগান প্রকৃতি বিলাস যা প্রত্যেকের সেবন করা উচিত My Observation 33:”নেতৃত্বের নেতিবাচক পক্ষপাতিত্ব প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ। অধিকাংশ সময় লীডার বুঝতেই পারেন না যে তিনি নেতিবাচক পক্ষপাতিত্বের স্বীকারে পরিনত হচ্ছেন।”

My Observation 32: I asked Someone How old are you? He replied I am 78 years Young!!!

My Observation 31: Decency is very important. Arrogance creates disappointment.

My Observation 30: সম্মান চাও? আগে সম্মান দাও!!!!!

My Observation 29: চাইতে কোন সমস্যা নাই, পেতে হলে পরিশ্রম চাই। কিন্তু না বুঝে পরিশ্রমের কোন মূল্য নাই।

My Observation 28: রটব‌ে ঘটব‌ে এটাই ত‌ো স্বাভাবিক, বুঝ‌ে না বুঝ‌ে লাফান‌ো কাপান‌ো এটা অস্বাভাবিক

My Observation 27: স্বচ্ছতার অভাব যেখানে, অবিশ্বাসের জন্ম সেখানেই…..!!!

My Observation 26: অস্থিতিশীল ক্যারিয়ার গঠনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ”পরনিন্দা”

My Observation 25: সাফল্য যার কোন ইতি নেই, শুধুই ছুটে চলা

My Observation 24: অজ্ঞদের বৈশিষ্ট্য ভাব! হায়রে জ্ঞানের অভাব!

My Observation 23: আমাকেই করতে হবে, কেউ করে দেবে না!  সৃষ্টিকর্তা সে ক্ষমতা দিয়ে পাঠিয়েছেন

My Observation 22: সকালে যেভাবে ঘুম থেকে উঠবো, সেভাবেই সারাদিন কাটবে। অযথা দিন, দেশ, মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

My Observation 21: সভ্য অঞ্চলে একজন জ্ঞানী ব্যাক্তি আরো জ্ঞানী হন, অসম্পূর্ণ অঞ্চলে একজন জ্ঞানী ব্যাক্তি অজ্ঞানী হন

My Observation 20: বাংলা‌দেশ বর্তমা‌নে দারুন সময় পার কর‌ছে। কর্পোরেট থে‌কে বে‌রি‌য়ে বা কা‌জের ফা‌কে সবাই যুব উন্নয়নে ম‌নো‌নি‌বেশ কর‌ছেন। সফল তরুনরা বে‌ড়িয়ে প‌ড়ে‌ছেন সফলতার গল্প শোনা‌তে। সম্ভাবনাময় তরুন নেতৃত্ব ব্যস্ত ‌বি‌ভিন্ন যুব উন্নয়ন ভিত্তিক অনুষ্ঠান আ‌য়োজ‌নে। চমৎকার সব কর্মকান্ড। এখন আর আমা‌দের বি‌দেশী প্রশিক্ষক বন্ধু‌দের জন্য অ‌পেক্ষা কর‌তে হয় না। বরং আমা‌দের দেশী বন্ধুরা বি‌দে‌শে গি‌য়ে অনুপ্রানিত কর‌ছেন। এমন একটি সময় য‌দি আমা‌দের তরুনরা নি‌জে‌দের তৈরী কর‌তে বা সাজা‌তে ব্যর্থ হয় তাহ‌লে for sure Bad Luck for Bangladesh.

My Observation#19 “You can WIN through a handshake or it can be a reason for DEFEAT”.

My Observation#18: মানুষ যখন ছোট থা‌কে (ক্যা‌রিয়া‌রে) তখন তা‌কে সাবধা‌নে এবং প‌রিকল্পনা অনুসা‌রে পথ চল‌তে হয় বড় হওয়ার জন্য। আবার মানুষ যখন বড় হ‌য়ে যায় (ক্যা‌রিয়া‌রে) তখনও তা‌কে সাবধা‌নে এবং প‌রিকল্পনা অনুসা‌রে পথ চল‌তে হয় যেন আবার ছোট হ‌য়ে না যায়।

My Observation# 17 | #SmiletoSuccess

ঘটনা#১ঃ সকালে বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছি। মিরপুর মাজার রোডে হঠাৎ দুই রিক্সার মাঝখানে পড়লাম। এর মধ্যে একটি রিক্সাতো আমার গাড়িতে ঘষা লাগিয়ে দিচ্ছিল প্রায়, গ্লাস নামিয়ে রাগ হয়ে বললাম গাড়িতে লাগলে কি করবেন। চাচা টাইপের রিক্সাচালক উল্টা দিল ঝাড়ি। ঝাড়ি খেয়ে করলাম ব্রেক, রিক্সাগুলো পার হলো then move করলাম।

ঘটনা#২ঃ বিকেলে Bangladesh Skill Development Institute (BSDI) থেকে কারওয়ান বাজার jobsbd.com এর অফিসে যাচ্ছি। আবার সেই রিক্সার জট। এইবার আরেক চাচা টাইপ রিক্সাচালক কে হাসি দিয়ে বললাম চাচা আমি আগে যাই? চাচা উল্টা হাসি দিয়ে বললেন যান বাবাজী।

ঘটনা#৩ঃ রাতে বাসায় ফেরার পথে গণভবনের কাছে পেলাম বড় বড় ট্রাকের মিছিল। ইউটার্ন নেব তাই একটি ট্রাকের হেলপাড় কে হাসি দিয়ে বললাম ছোট ভাই ওস্তাদ কে বলো আমার প্রাস্টিকটাকে একটু সাইড দিতে, মাশাআল্লাহ শুধু ওই ট্রাক না আরো একটা সাথে সাইড দিল। ব্যাস Minimum 20 minutes Saved।

My Observation# 16: Remember while giving highest Motivation to the newcomer, the existing and trusted members in your organization are not getting Highest Demotivation”

My Observation# 15: Studying in a very demanding subject, achieving excellent GPA is enough for getting your dream job? Sorry but to mention NO! It is good to see on CV or in Academic credentials. A reality is if you cannot impress by your attitude or behavior or even by your tone all your credits goes to vain. Very silly matters become big issues during the interviewing time. You must have soft skills, knowledge and be presentable which cost nothing but your care. I have seen many deserved candidates even couldn’t get the second call from interview board for opening their voice.

My Observation# 14: If you are true in heart, honest in your work, decent in your style, and have patience in everything you do and expect. Your creator will take you to the right place. No matter how thorny your way is.

My Observation#13: Maybe you are too good on the stage but remember people will also check how good you are on backstage.

My Observation#12: I noticed there is a group of us who can just think about work and keeps relation just to fulfill their intention. In business, it is seen everywhere and I do not find wrong for the immediate purpose. But for ensuring long term benefit of your business and personal achievement may be lost forever as you have seen in the movie “Cast Away”

My Observation#11: To most people “Reward” means physical evidence like a crest or medal or a certificate. To me, it can be a simple ” Thank you”. But the majority of people do not do it. They are very reluctant to give it though it cost nothing. Maybe we do not want to appreciate or recognize good work. But we must have the mentality. It inspires good work. Motivate someone to do good or think good. Even to do more. Shall we practice from now?

My Observation #10: How far you will go will be decided by your behavior. No matter how much power and wealth you have, it can be vanished by your negative attitude, Ego, and behavior. It is more dangerous than some people don’t know or understand their problems in behavior.

My Observation #9: Customer service excellence starts with Greetings. And the word greeting is not reserved for outside customers only. 99% (Maybe) organizations and peoples intentionally or unintentionally forget this universal truth.

My Observation #8: Champions should always speak and act like a champion so that young can follow. Shouldn’t it be like this?

My Observation #7: It is a little hard finding that while we need someone we behave in friendly. But when the person expects help then we behave so rudely or different way. It is unethical but in practice. So limit your expectation, you will be happy.

My Observation #6: Your personality and attitude will set others’ behavior towards you. If you fail to define yourself then please don’t blame others for their behaviors.

My Observation #5: It is not possible to keep you out of focus if you have a strong focus on your goal.

My Observation #4: We talk about patriotism and good work but when action is required we become reluctant. The effort shouldn’t be held here. We have honesty, decency, sincerity and intention to work, there will be nothing called impossible in life for good work.

My Observation #3: If you desire anything with good cause people never regret you. But remember if people can smell anything fishy behind it, the door will be closed forever.

My Observation#2: Never judge every people by their faces. You may not know someday you will see another face that doesn’t match with made up one.

My observation# 1: Too much realistic and too much emotional person can never go far to achieve their dream. Balance in life is important. [খুব বেশী বাস্তবসম্মত এবং খুব আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের স্বপ্ন অর্জন পর্যন্ত যেতে পারে না . জীবনের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ.]

31950238_10155880372466888_2319476047160016896_n

Am I able to identify my negative symptoms?

In our day to day life, we will find few people around us who always find a cause to say No whatever we do. They always have a bad cause to go against whatever we do and say and at a certain point, we start to avoid them. The most important and surprising part is that even the person with a negative attitude even can’t realize that he/she has been identified with Negativity Syndrome. The person with this syndrome usually fail to identify the reason for which peoples are avoiding them but this avoidance gives them a sad feeling which makes them unhappy. Slowly they lose confidence and at the end of the day it kills their mind, career, potentialities, and health and so on. Who is the negative person? We may go through the following situation:

A man always dreamt to go for a vacation and suddenly he made a plan and on the very morning while he was just about to leave for vacation then the rain came and he canceled his plan. This man was in the permanent resident of the negative zone. Somehow he found a way to cancel the program. He didn’t hesitate to find a cause. Can we realize how this simple story affected his life? The outside circumstances affected him and he was biased too.

Sometimes the person himself remains unaware of this attitude. Maybe he thinks whatever he is doing is right. But in reality, this attitude is killing his personality and losing peoples love. Slowly he becomes alone and he suffers. Alongside in the same situation, the man could imagine the same situation differently. He could feel happy seeing the rain outside and made the journey a remarkable one.

 

Through our Personal Qualities, we can make our life happy

In the same way, we can see the life journey differently. In this life, we meet with people, work, live with family and finally, suddenly we left this beautiful world. Through our Personal Qualities we can make our life happy, we also can extend the hand of cooperation to all and finally we can also make others happy through our personality traits and works. To get real happiness we must become of the solution to the problem, not the problem

Can we just think for a while what our purpose of life is? Are we here just to think of oneself?  Or find bad things? Maybe the answer would be no. But the fact is that Almighty has sent us in this world for a purpose. The purpose is to serve HIM, follow his commandment and his commandment is for the betterment of humanity. It doesn’t take much to make others happy or make your life happy. It just needs a positive mind and willingness to make a lovable society.

 

 

pexels-photo-1161465

চাকরি মেলা সফলে নিয়ম মানতে হবে দু’পক্ষকেই

সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (সিডা) আয়োজিত উচ্চশিক্ষার স্থায়ী উন্নয়ন বিষয়ক এক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সুযোগ হয়েছিল সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করার। এছাড়াও উপসালা এবং চালমার বিশ্ববিদ্যালয়ও সফর করা হয়েছে।

‍সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যখনই যাওয়া হয় তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টার শেষ এবং নতুন সেমিস্টারের প্রস্তুতি চলছে। তাই ধারণা করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ থাকবে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল। ক্যাম্পাসে ঢ়ুকেই আমি দেখতে পেলাম সরগরম অবস্থা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

প্রথমদিন বুঝতে পারিনি। দ্বিতিয়দিন দেখলাম সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র। শিক্ষার্থীরা সবাই পরিপাটি হয়ে হাতে একটি ফোল্ডার নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, ক্যাম্পাস অডিটরিয়ামে ঢোকার অপেক্ষায়।

এক ছাত্রকে সামনে পেয়ে জিজ্ঞেস করতেই লাইনের কারণ জানা গেলো। বললো, চাকরি মেলা চলছে। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রায় দু’শতাধিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করছে।

অডিটরিয়ামে প্রবেশ করে আমার চোখ কপালে। কোম্পানির স্টলগুলো সারিসারি করে বসানো হয়েছে। ভাগ করা হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিভেদে। শুধু কোম্পানির জন্য স্টলই নয়, আছে ইন্টারভিউ বুথ। যেখানে বিভিন্ন কোম্পানির কর্মকর্তারা সরাসরি ইন্টারভিউ নিতে পারবে। কোম্পানিগুলো তাদের চাকরি পদমর্যাদা এবং কাজের বিবরণী প্রতিটি স্টলে ঝুলিয়ে রেখেছেন। শিক্ষার্থীরা স্টলে স্টলে গিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছেন, জানার চেষ্টা করছেন কোম্পানি সম্পর্কে। একজন একজন করে ডাকা হচ্ছে, যেন এক উৎসবম‍ুখর পরিবেশ।

ব্যাপারটা মোটেও এমন ছিল না যে হঠাৎ করে সবকিছু হয়ে গেল। পুরো বিষয়টি একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মধ্যে সম্পন্ন হয়। আর এর পেছনে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। পুরো বছর জুড়ে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারগুলো তাদের ছাত্রছাত্রীদের জন্য একাডেমিক পড়াশোনার শেষের দিকে চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়া এবং প্রস্তুতি দু’টোই একসঙ্গে চালিয়ে থাকে। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাছাই করে তাদের কাছে ছাত্রছাত্রীদের তালিকা পাঠানো, প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাদের চাকরি পদমর্যাদা, কাজের বিবরণী এবং সুবিধাগুলো সংগ্রহ করা, ছাত্রছাত্রীদের ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুত করা, সিভি তৈরিতে সহযোগিতা এবং সাজসজ্জার ধারণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। ছাত্রছাত্রীরাও তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর বিষদ গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে সবসময় সচেষ্ট থাকে। তারপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত চাকরি মেলা।

কেন এই চাকরি মেলা?

চাকরি মেলায় চাকরিদাতা এবং সম্ভাব্য কর্মী, উভয়ের অংশগ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিয়ে সবসময় চিন্তা করতে হয় আর তা হলো একটি ভালো চাকরি।

চাকরিদাতা এবং সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেওয়া উভয়ের জন্য কর্মসংস্থানমূলক অনুষ্ঠানগুলো বিশেষ করে চাকরি মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেজন্য সারা বছর বিশ্বের বিভিন্নস্থানে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি নিয়োগ, অ্যাপ্লিকেশন এবং নেটওর্য়াকিং প্রসেসকে জোরদার করার জন্য চাকরি মেলার আয়োজন করে থাকে। চাকরিদাতা এবং সম্ভাব্য কর্মীদের জন্য চাকরি মেলা একধরনের অতি প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসেবে বিশ্বে পরিগণিত হয়।

কিন্তু আমাদের দেশে চাকরি মেলায় অংশগ্রহণে একধরনের অনিহা দেখা যায় চাকরিদাতা এবং চাকরি প্রার্থীদের মাঝে।

চাকরিদাতা এবং সম্ভাব্য কর্মী উভয়ের জন্য চাকরি মেলায় অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিশাল নেটওর্য়াকের মাধ্যমে একজন আরেকজনকে সরাসরি যাচাই-বাছাই করার একটি সুযোগ পেয়ে থাকেন। চাকরি মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন চাকরি প্রত্যাশী নিমিষেই হাজার হাজার বায়োডাটার মধ্য থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারেন, আর যা কিনা শুথুমাত্র সম্ভব চাকরিদাতার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে।

নিয়োগকর্তাদের জন্যও চাকরি মেলা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অবস্থানের মাধ্যমে তারা একসঙ্গে শতাধিক কোয়ালিটি সিভি এবং সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে চাকরি প্রার্থীদের যাচাইয়ের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোর চাকরি মেলায় অংশগ্রহণের উপকারিতা

একসঙ্গে এক জায়গায় একাধিক চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে প্রাথমিক যাচাই করা সম্ভব এবং অনেকক্ষেত্রে নিয়োগও সহজ করা যায়, চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডের মান ও প্রচার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব, সহজেই প্রতিভা খুঁজে পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, গতানুগতিক বিজ্ঞাপন ব্যয় দূর করা সম্ভব এবং বিজ্ঞাপনের চেয়ে দ্রুত ট্যালেন্ট হান্ট করা যায়, কমিউনিটির সঙ্গে নেটওর্য়াক তৈরি করা সম্ভব হয়, একই মাধ্যমে সবধরনের যেমন ফুলটাইম, পার্টটাইম, ভলেনটারি পদের জন্য প্রার্থী যাচাই এবং সরাসরি নিয়োগ সম্ভব হয়।

ছাত্রছাত্রীদের চাকরি মেলায় অংশগ্রহণের উপকারিতা

নিয়োগকর্তারা কি চান তা সহজেই বোঝা যায়, নেটওয়ার্কিংয়ের বিশাল সুযোগ পাওয়া যায়, প্রতিষ্ঠান বা পুরো ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে রিসার্চ করা যায় যা পরবর্তীতে ইন্টারভিউতে কাজে লাগে, চাকরিদাতার কাছ থেকে সরাসরি ফিডব্যাক পাওয়া যায়, একসঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানে সিভি এবং সরাসরি ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ থাকে, মেলা পরবর্তী যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি ছাত্রছাত্রীরা চাকরি মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে খুব একটা সচেতনতা প্রকাশ করে না। এমন কি প্রফেশনাল ইম্প্রেশনও তাদের মধ্যে দেখা যায় না। ‍

তবে কয়েকটি পয়েন্ট মেনে চললে সরাসরি চাকরি প‍াওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়

চাকরিমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করা,  কোন কোম্পানি কি কি পদের জন্য মেলায় অংশ নিয়েছে তার তালিকা করে সে অনুযায়ী সিভি-কভার লেটার বানানো ও জমা দেওয়া, আগে থেকে মেলার ফ্লোর প্ল্যান সংগ্রহ করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করে মেলার প্রথমেই সিভি জমা এবং আলোচনা সম্পন্ন করা, মেলায় এমনভাবে অংশ নিতে হবে যাতে প্রফেশনাল ইমপ্রেশন তৈরি হয় (ইন্টারভিউ ড্রেস, এনার্জি এবং উদ্যমী ভাব প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি), অবশ্যই প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে তার সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার শেষের দিকে অবশ্যই তার ভিজিটিং কার্ড, কোম্পানির লিফলেট সংগ্রহ করা এবং এক সপ্তাহ পর অবশ্যই একটি ফলোআপ ই-মেইল পাঠাতে হবে।

বেশিরভাগ চাকরিপ্রত্যাশী মনে করেন চাকরি মেলাগুলো অতীত, অতীতের একটি জিনিস- কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি অতীতের এমনই এক সৃষ্টি যা সবসময় বর্তমান হয়ে থাকবে। তাই চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশী উভয়কেই এটি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

pexels-photo-374861

কথায় অল্প বড় হলেও দক্ষতায় সেরা হতেই হবে

ফয়সাল ছোট বেলায় সবসময় বলতো, আমি অনেক জ্ঞানী এবং আমি অনেক কিছু জানি। যখন বড় হলো তখন তার এক বন্ধু তাকে প্রশ্ন করলো, তোমার জ্ঞানের ওজন কতো? উত্তর দিলো ১০ কেজি! পাল্টা প্রশ্ন এলো, মাত্র? আমার তো ২০ কেজি! আসলে ওরা দুজনই জানে না আসলে কার ওজন কতো। সমাজে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই জ্ঞানী লোকের জ্ঞান বিতরণের চিত্র।

k m hasan ripon bsdi 01

আবার যিনি বিতরণ করছেন তিনি আবার প্রতিযোগিতার মধ্যে চলে আসেন যখন আরেকজন জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেন। তখন তৃতীয় জনের আবির্ভাব ঘটে। আর এভাবেই চলে জ্ঞান বিতরণে জ্ঞানী ব্যক্তিদের লড়াই। ঠিক এই মুহূর্তে আমি লিখছি আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থেকে, কাল যখন প্রকাশ পাবে তখন হয়তো আরেকজন জ্ঞানী মানুষ আমাকে ফেলে দেবে তার ব্যক্তিগত জ্ঞান নির্ভর প্রশ্ন দ্বারা। জ্ঞানীর সাথে জ্ঞানীর লড়াই চলছেই যুগ যুগ ধরে।

অপর দিকে রিংকু ছোটবেলা থেকেই বলতো, আমি না একটা বল ছুড়ে ওই পাঁচতলার ছাদে পাঠাতে পারি। তার বন্ধু রাশেদ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলতো আমি ছয় তলায় পাঠাতে পারি। অফিসে করিম সাহেব গেছেন ইন্টারভিউ দিতে। তার হবু বসকে তিনি বললেন, আমি মিনিটে ৩০টি শব্দ টাইপ করতে পারি। বস বললেন, আমাদের দরকার যিনি মিনিটে ৪০টি শব্দ লিখতে পারেন। আসলে যেখানে দক্ষতা যাচাইয়ের প্রশ্ন সেখানে আসলে তথাকথিত লড়াই করা যায় না।

উপরের যে দুটো দিক তুলে ধরা হলো তার প্রথমটি হচ্ছে জ্ঞান বা নলেজ, যা পরিমাপযোগ্য নয়। কারণ এর নির্দিষ্ট কোন সীমানা নেই, বিশাল সমুদ্রতুল্য। ৫০০০ হাজার বছর পূর্বেও মানুষের জ্ঞান ছিল যা তারা তাদের পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে নিজেদের জ্ঞানের সাথে মিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন জ্ঞানের জন্ম দিয়েছেন। নতুনকে আমরা সহজে মানতে পারি না। এটা মানুষের স্বভাবসুলভ আচরণ।

আর যদি সেটা শুধুই জ্ঞাননির্ভর নতুন তত্ত্ব হয় তাহলে তো কথাই নেই, অনেক সময় নিয়ে নেয় মেনে নিতে। হয়তো এই মুহূর্তে কেউ নতুন তত্ত্ব নিয়ে কাজ করছেন; পুরনো ইতিহাস ঘেঁটে যা আমরা এই মুহূর্তে হয়তো মানবো না। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে দক্ষতা যা আমার মতে পরিমাপযোগ্য। পরিমাপযোগ্য বলছি এই কারণে যে, আমরা জানি এবং আমাদের মানতে সহজ। কারণ দক্ষতার সাথে পরিমাপযোগ্য উপাদান জড়িত।

একটি হোটেলে যখন ওয়েটার নিয়োগ দেয়া হয় তখন দেখা হয় দু-হাতে তিনি কতগুলো অর্ডার নিয়ে পরিবেশন করছেন কোন প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি ছাড়া। যখন গ্রাফিক্স ডিজাইনার নিয়োগের প্রশ্ন আসে তখন দেখা হয় একটি কনসেপ্টকে ডিজাইনে আনতে কতো সময় নিচ্ছেন যা পরে মিলিয়ে দেখা হয় সেই প্রতিষ্ঠানের স্ট্যান্ডার্ডের সাথে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু দক্ষতা নির্দিষ্ট উপাদান দ্বারা পরিমাপ করা যায় এবং করা হয়।

জ্ঞান নির্ভর সমাজ আমরা সবাই চাই কিন্তু শুধু জ্ঞান দিয়ে তো সমাজের আসল চিত্র পরিমাপ করা যাবে না। যেমন, বিদেশে আমাদের দক্ষ শ্রমিক ভাইয়েরা যাচ্ছেন, কাজ করছেন, অর্থ উপার্জন করছেন এবং আমাদের দেশে পাঠাচ্ছেন। ধরা যাক, আমরা দক্ষ না করে শুধু জ্ঞান দিয়ে তাদের বিদেশে পাঠালাম এবং অপরিমাপযোগ্য জ্ঞানের কারণে তারা ফেরত চলে আসল, তাহলে আমাদের দেশের চিত্র বিদেশে কেমন হতো?

আমাদের সম্পর্কে ধারণা হতো আমরা কথায় বড় কাজে ঠন ঠন। কদর সেই ব্যক্তির যিনি কথায় অল্প পটু হলেও কাজে সাংঘাতিকভাবে পরিমেয়। এখনকার সমাজ বা প্রতিষ্ঠান কী চায়? আমাদের যেমন জ্ঞান থাকা চাই, তেমনি কোন একটি বিষয়ে আমাদের মাস্টার হতে হবেই, মানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আমাদের দক্ষতা নিশ্চিত করা। কারণ দক্ষতা ছাড়া আমার জ্ঞান আমি পরিমাপ করাতে পারবো না।

সাধারণত কোন একটি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন মনোযোগ সহকারে পড়া বা পড়ানো, দেখা বা দেখানো এবং শোনা বা শোনানো। কিন্তু দক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন করা বা করানো এবং পর্যাপ্ত অনুশীলন। আমি কতো জ্ঞানী সেটাও অনেকক্ষেত্রে লিখে বা বলে মাপানো যায় কিন্তু দক্ষতা একমাত্র করে দেখাতে হয়। দক্ষতা নির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আনতে হবে আমূল পরিবর্তন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় থাকতে হবে হাতে কলমের শিক্ষা।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বেরিয়েই বলছে ‘আমি জানি কিন্তু পারি না’! আর উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বেরিয়েই বলছে ‘আমি জানি এবং পারি’ পার্থক্যটা এখানেই। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেত্রে লেখা বা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। করে দেখানোর মতো সাহসিকতা না ছাত্ররা দেখায় না শিক্ষকরা। এই সাহসিকতা যতদিন আমরা দেখাতে না পারবো ততদিন আমরা শুধু কথাতেই বড় হয়ে থাকবো। আর আমরা তো জানি মর্যাদা তাদের বেশি যারা কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হয়।

1111

Developing Responsible Global Citizen

Now a days, “Think global” has become a very famous slogan which indicates an education system to develop Global Citizenship. It is evident that we are experiencing significant and substantial global challenges which have brought opportunities before us. Accordingly, we need to prepare our young generation to grasp the chances. Therefore, the development of Curriculum of Excellence has become very much essential.

 

On the other hand, to ensure sustainable development means to accept responsibility for the well-being of future generations. In the developed countries it has become an important agenda in all aspects of Education Systems. In developing and least-developed countries the socioeconomic challenges are enormous. This fact helps us to realize the need to strengthen the institutions for sustainable human development in these countries.

 

The develop countries are giving effort to develop global citizenship for recognizing our responsibilities towards each other and the wider world. As a result young people would be able to take up their place in the world, contribute to it confidently, successfully and effectively, understanding the rights and responsibilities of living and working in a globalized world. Their learning is focused on the following factors:

 

  • learning through global contexts
  • learning on a globalized world
  • learning for life and work in a global society

 

The Education Systems equips them with skills, knowledge, values and attitudes required to understand and address complex global issues which often transcend individual disciplines. The knowledge on Sustainable Development issues enabling children and young people to appreciate the interdependence of people and the environment and motivating them to live sustainably. Also encourage them contributing to a fair and equitable society that is living within the environmental limits of our planet, both now and in the future

 

On the other hand, the education systems of developing countries are not yet focused to develop the global citizens. Some institutions are taking initiative to develop the curriculum and taking steps to make positive changes in course curricula.

 

At this stage we need to focus on three issues to bring a change in Higher Education Systems:

  • To set the Vision of our higher Education Systems
  • To identify and communicate good practice in Higher Education Institution
  • To look at areas where policy solutions may be needed ensure sustainable development through to support higher education.

 

In Bangladesh The concept of “sustainable development’ is not entirely new but the challenge it poses to society and particularly to the education system. Some of the education institutes really teach us sustainable development issues and ensures its practices but its promotion and practices are not focused. Therefore, rest of the institutions remains unaware of such global issues.

But if we really want to achieve sustainable development, all stake-holders in society must actively engage and accept their share of responsibility. Educators will play a significant role in raising awareness for sustainable development across borders and cultures and ensure education for sustainable development. Our overall goal should be to-

 

  • Environmental integrity
  • Economic viability and
  • Society for present and future generations
20375711_10155132698426888_6185569545074839591_n

IS GETTING SUCCESS TOO TOUGH?

Since our childhood we all run for a common goal and that is to get success! But many of us rarely know the exact meaning of success to us, what it means and what we really want to achieve it. Sometimes it remains abstract, sometimes it remain tangible or it can be physical. To some persons it means the financial security, getting admission to a renowned university in chosen subject or popularity or something different. For the young generation, the success means career success. The fresher may want to get good job at the multinational company or in government job at the respective field, or want to do best among the team members but many of young professionals may define success in getting good balance between work and life. The choice depends on us.

Through the above definition, one point is clear to us means success is defined by inner quality. It means we have to define our own goal, where I want to be and then how I need to get prepared to reach my goal. If we do not set the vision or career goal then we may not get satisfaction in life.

There is a common frustration among the young generation and that is to get desired success in career. Many of them fails to get admission in their chosen subject or to find a good job. But in many cases they do not have the exact preparation that they need to achieve the goal or they do not know where they want to be. Most critical part is that, if we fail to define the success then someone else will do it for us. So we have to set the goal earlier. And then? We have to develop ourselves. But how? We need to gain knowledge on subject matters, need to develop the soft skills along with hard skills and need cultural orientation and technological skills to excel in career.

The next question would be how to develop these qualities?

The subject knowledge is important but knowing the industry, having effective communication skills, analytical power and cultural knowledge is very important for getting desired success. We have so many scope to develop this area. The internet has opened the knowledge sources before the students. Our resources are just one click ahead of us. Social media has opened up new avenues to develop the professional network.

For a young professional is it very important to know the culture of an organization where we try to see our future prospect of career. If we become unfit to match with organizational culture then it will never bring the success in career. So cross cultural competencies are very important factors for any professionals to get desired success. We have to know what we do, is that what we really want to do or the jobs we do are really giving satisfaction to us?

A big change is coming up ahead. Many international organizations have declared they will not look for any university degree any more to recruit skilled person. Rather they will give importance to skills and expertise in the relevant area and soft skills which really matters in serving any industries. So we have to take preparation to get actual success in the challenging time ahead.

Life brings so many learning opportunities for us which are also important to move ahead to get success. We have to remember that the journey of success of the successful persons among us were not as smooth as we think. We just see the picture of their good times but most of the cases we ignore or do not try to know the hurdles that they faced during the struggle time.

Lastly, I want to define what success means to me. I want to become the best I can be. I want to maintain simplicity, I want to get more responsibility, do much work, and contribute to society/community as best I can be. My success as a human being always derived by a simple question, what is the purpose of my life?

At the end of all, what is the definition of success to you?

11111

আমরা চাইলেই তো আমাদের ক্যারিয়ারের ঊচ্চতা ধরে রাখতে পারি

পর্ব ১: ছোট বেলায় সবার মতো আমারও সখ ছিলো গ্যাস বেলুন কিনে কিছুক্ষণ খেলে আকাশে ঊড়িয়ে দেয়া। ঊড়াবার পর তাকিয়ে থাকতাম যতক্ষণ না পর্যন্তু ওটা দৃষ্টি সীমানার বাইরে না যায়। একসময় দেখতাম সেটা আর দেখা যাচ্ছে না। বাবাকে জিজ্ঞেস করতাম বেলুনটা গেল কই। বাবা বলতেন আকাশ নিয়ে গেছে। মন খারাপ হতো কিন্তু কিছুক্ষণ পর অন্য কিছুতে আবার মজে যেতাম। কিন্তু মনের প্রশ্ন রয়ে যেত আসলেই কি আকাশ নিয়ে যায়, যদি নিয়ে যায় তাহলে কেন নিয়ে যায়। প্রশ্নের ঊত্তর পাই না। এভাবেই সময় পেড়িয়ে বড় হই আর বুঝতে শিখি। বড় হবার অনেক পরে জানতে পারি বেলুনটির ভেতরের গ্যাস একটা নির্দৃষ্ট ঊচ্চতায় যাওয়ার পর আর বেলনকে ঊপরের দিকে নিতে পারে না। তখন সেটা হয় নিম্নগামী এবং একসময় মাটিতে চলে আসে। এর একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও পরে জানতে পারি যেটা নিয়ে আর এখানে লিখলাম না। আপনারা Google কে (How far can a helium filled balloon travel?) প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারবেন।

পর্ব ২: আমরা আমাদের জ্ঞান, বুদ্ধি, শিক্ষা ব্যবহার করে সুযোগের সন্ধান করি এবং লক্ষ্য স্থির থাকার কারনে আমরা সঠিক সময়ে সুযোগের দেখাও পেয়ে যাই। একের পর এক ভালো কাজ করতে থাকি এবং সুভানুদ্ধায়িদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসতে থাকি। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশংসা আসতে থাকে। প্রশংসার ঊর্দ্ধমুখী চাপে আমরা ঊপরের দিকে যেতে থাকি। প্রথমদিকে আমরা বিনয়ীভাব রেখে আমরা প্রশংসার জবাব দেই। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্য থেকে বুদ্ধির অভাব দেখা দেয়। একসময় আমাদের মধ্যে অহংকারের মতো বিষ আমাদের মনের মধ্যে জন্ম নেয়। আমরা সবকিছুই নিজের একার মনে করি এবং ধীরে ধীরে আমাদের জবাবে, চলনে চলে আসে ভিন্নতা। আমরা আমাদের চলার পথের সাথিদের মাঝে ক্যাটাগরি করে ফেলি। আমরা একধরনের আত্মগর্ভে নিমোজ্জিত হতে থাকি। আমরা আমাদের জ্ঞানের সঠিক ব্যবহারে ভুল করে ফেলি।অহংকারে ডুবে থাকার করনে অর্জিত শিক্ষাকে আর বাড়াতে পারি না। একসময় যে জ্ঞান, বুদ্ধি এবং শিক্ষা নিয়ে আমরা ঊপরের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমাদের অজ্ঞতার কারনে আমরা নিচের দিকে পড়ে যেতে থাকি। তখন আর আমাদের ধরে রাখার জন্য কাঊকে পাশে পাইনা। ইচ্ছা থাকলেও কেঊ ধরবে না কারন ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে “Never try to catch Falling Stone”, নিচের দিকে পড়তে থাকা পাথর ধরতে গেলেই বিপদ।

পর্ব ১ ছিল গ্যাস বেলুন নিয়ে আর পর্ব ২ এ বলেছি মানুষ নিয়ে। দুই পর্বেই দ্রুতার সাথে ঊপরের দিকে ওঠা এবং এবং একই গতিতে নিচের দিকে নেমে আসা। কিন্তু একটা তফাত আছে এখানে। গ্যাস বেলুন চাইলেও আর ঊপরে ঊঠতে পারবে না কিন্তু মানুষ চাইলে সে কখনও নীচে পড়বে না।

আমরা ঊন্নতির চরমে পৌছে নিচে পড়ে যাই কেন? আমার মতে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের অহংকার, আত্মঅহমিকা নামক বিষ থেকে। আর এগুলোর জন্ম হয় প্রশংসা, সাফল্য, সম্মান ইত্যাদি প্রাপ্তিতে। খুব সহজেই এই বিষ থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। যখনই কোন প্রশংসা, সম্মান বা কোন অর্জন সামনে আসবে আমরা মনে মনে বলতে পারি সকল প্রশংসা, সকল সম্মান আমার সৃষ্টিকর্তার। যদি আমরা আমাদের অর্জিত সকল প্রশংসা, সম্মান আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে ঊৎসর্গ করি তাহলে একধরনের ভারমুক্ত অনুভব করবো। মানুষের পক্ষে আসলে এই ভার বহনকরা অসম্ভব। বেলুনের পক্ষে ঊর্ধগামীতা ধরে রাখার কোন ঊপায় নেই কারন সে জড় বস্তু কিন্তু আমরা পারি কারন আমরা সৃষ্টির সেরা। অহংকার থেকে দুরে থাকতে পারলেই তো “Sky is the Limit”

33333333333

টেকসই সমাজ গড়তে হলে প্রয়োজন প্রশ্ন করার অভ্যাস

আরিয়ান যখন খুব ছোট মাত্র ৪ বা ৫ বছর বয়স। কোন এক বিষয়ের আলোচনায় সে একটি প্রশ্ন করেছিল। তার প্রশ্নের ধরন দেখে তার পরিবারের সবাই হাততালি দিয়ে বাহবা দিয়েছিল। মা তাকে প্রায়ই বলতো তুমি ছোটবেলায় এতো প্রশ্ন করতে, এতো তোমার জানার আগ্রহ ছিল। যখন আরিয়ান একটু বড় হলো, স্কুলে শিক্ষকদের প্রশ্ন করতো আর হাসিমুখে উত্তর পেতো। প্রাইমারি পর্যন্ত এরকম চলল। যখন মাধ্যমিকে উঠলো, শুরু হলো অন্য একধরনের অভিজ্ঞতা। প্রশ্ন করাই যেন অপরাধ। বাসায় প্রশ্ন করলে বলা হয় বড়দের মাঝে প্রশ্ন করা বেয়াদবির সামীল। স্কুলে শিক্ষকের আলোচনা শুনে কোন কিছু জানার আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করলে শিক্ষকের ধমক খাওয়া অনিবার্য। বাসায় কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে আগে থেকেই বলা হতো একদম চুপচাপ করে বসে থাকবে, কোন প্রকার প্রশ্ন করা চলবে না। স্কুলের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই ধারা। প্রধান শিক্ষকের কড়া নির্দেশ, কোন প্রকার পশ্ন করা যাবে না। একদম মুখবন্ধ করে বসে থাকতে হবে রোবটের মতো। মাধ্যমিকে শুরু হওয়া প্রশ্ন না করার শর্ত চলমান থাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পর্যন্ত। আরিয়ানের মনে আজ খুশির জোয়ার বইছে। কারন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে আজ সে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছে। কর্মজীবনের এক সপ্তাহ ভালোই কাটলো। একসপ্তাহ পর সে তার সেই চিরচেনা ধাক্কাটি খেলো। কোন এক মিটিংয়ে আরিয়ান তার শৈশব সুলভ আচরন করলো, মানে একাধিক প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে ফেলল। মিটিং শেষে বসের কামরায় ডাক পড়লো। এরপর তাকে যা বলা হলো সেগুলো শুনে তার সেই মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কথাই মনে পড়ে গেল। নির্মম সত্য হচ্ছে এটা শুধু আরিয়ানের গল্প নয়। এরকম হাজারো আরিয়ানের গল্প ছড়িয়ে আছে পথে ঘাটে।

চীনা প্রবাদ প্রচলিত আছে “যিনি প্রশ্ন করেন তিনি পাঁচ মিনিটের জন্য বোকা থাকেন; আর যিনি প্রশ্ন করেন না তিনি চিরদিনের জন্য বোকা থাকেন “। আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো শিশুবয়স থেকে তাদের বাচ্চাদের শেখানো হয় কিভাবে প্রশ্ন করতে হয়। ভালো প্রশ্ন করলে রিতিমতো বাহাবা। ভুল প্রশ্ন করা হলে এমনভাবে শুধরে দেওয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে লজ্জাবোধ করে প্রশ্ন করা বন্ধ করে না দেয়। তাইতো উন্নত দেশের উদ্ভাবকেরা তাদের উদ্ভাবিত ধারনা শিশুদের সাথে শেয়ার করেন। তারা উভয়ই প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে শেখার চেষ্টা করেন। শেখার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রশ্ন করা। ছোটবেলায় আমরা হাজারো প্রশ্নের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেছি কিন্তু যত আমাদের বয়স বেড়েছে তত আমরা লজ্জবোধ থেকেই হোক আর সমাজ ব্যবস্থার কারনেই হোক, প্রশ্ন করা ভুলে গেছি। প্রশ্ন করার ব্যাপারে আমাদের যতটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার আমরা সেটা দিচ্ছি না। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি চোট-বড় কোম্পানি কোথাও প্রশ্ন করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না । একটা থিওরি প্রচলিত আছে যে যদি টেকসই সমাজ গড়তে চাও তাহলে শতকরা ৮০% সময় ব্যয় করো প্রশ্ন-উত্তরে আর বাকি ২০% ব্যয় করো গড়তে।

পৃথিবীতে বর্তমানে আমাদের সামনে যা কিছু আছে সবই হয়েছে কারো না কারো প্রশ্ন করার কারনে। নিউটন যদি আপেলটি পরার পর প্রশ্ন না করে খেয়ে ফেলতেন, তাহলে কি হতো? “উদ্ভাবনী চিন্তাবিদদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হচ্ছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা”, কথাটি বলেছেন উদ্ভাবনের উপর যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানিয় বক্তা পল স্লোণি। বাংলাদেশের অত্যন্ত গুণি একজন শিক্ষাবিদ ডঃ ইউসুফ এম ইসলাম তার প্রশ্নের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক একটি প্রবন্ধে উল্ল্যেখ করেছেন একজন মানুষ লিখতে পড়তে না পারলেও জ্ঞান অর্জনে কোন সমস্যা হবে না যদি সে প্রশ্ন করার অভ্যাস সাথে নিয়ে চলতে পারে।

একটি বিষয় খুব সহজেই উপলব্ধি করা যায় আর সেটা হলো জীবনের নিদৃষ্ট গন্তব্যে পৌছতে হলে প্রশ্ন জিজ্ঞাসার বিকল্প কিছু নেই। এখন আসি প্রশ্ন করার অন্তর্নিহিত উপকারিতা গুলো কি?

• প্রশ্ন করার মাধ্যমেই আমরা জীবন সম্পর্কে জানতে পারি এবং এটা বৈজ্ঞানিক ভাবেও প্রমাণিত। শিশুরা সাধারণত বিশ্ব সম্পর্কে শিখতে শুরু করে শুধুমাত্র একটি প্রশ্ন করে আর সেটা হলো ”কেন”।

• আমরা যত বেশি প্রশ্ন করবো, তত দ্রুত ভালো উত্তর পেয়ে যাবো। শিশুকালে আমরা তাই করেছি কিন্তু দুঃখের বিষয় বয়স বারার সাথে সাথে আমরা ”কেন” এবং এর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা ভুলে গেছি।

• আমাদের জীবনের গুণগতমান নির্ভর করে প্রশ্নের উপর কারন আমাদের চিন্তাভাবনার গুণগত মান নির্ভর করবে আমাদের প্রশ্নের গুণগত মানের উপর। আর আমাদের চিন্তাভাবনার গুণগতমান বৃদ্ধির উপর জীবনের মান নির্ভরশীল। আর প্রশ্ন করা ভুলে গেছি বলেই প্রশ্নের মান বৃদ্ধিও হচ্ছে না।

• প্রশ্ন করার অভ্যাস আমাদের উস্মুক্ত করে, উদারপন্থি করে।

• আমাদের জীবনকে সুখোময় করার একমাত্র উপায় হচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক প্রশ্ন।

আমাদের সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে, আমাদের যুব সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হলে আমাদের প্রশ্ন করার উপর জোর দিতে হবে। আর সেটার শুরা এবং যত্ন শিশুবয়স থেকেই করতে হবে।

প্রশ্ন দুভাবে করা যায়। নেতিবাচক অর্থে আবার ইতিবাচক ভাবেও সম্ভব। আমাদের সকলেরই উচিত ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন করা। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন করতে হলে দুটি বিষয় অত্যন্ত জরুরী একটি হলো জানার আগ্রহ এবং অপরটি হলো শোনার আগ্রহ। আর এইদুটি বিষয়কে মাথায় রেখে আমরা যখন প্রশ্ন করবো তখন যেকোন সৃষ্টি আমাদের জন্য সহজ এবং দ্রুত হবে।