তরুনদের মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা

থেমে যাবার তো উপায় নেই, চলতে হবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে
June 29, 2020
তথ্যের সাথে আমি কি সংযোগ তৈরি করতে পারছি?
July 21, 2020
Show all

তরুনদের মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা

বাংলাদেশের জন্য আসলেই এখন সুবর্ণ সময়! আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি কর্মক্ষম যুবসমাজ যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বৎসরের মধ্যে। আর এই ৪০ শতাংশ কর্মক্ষম যুবসমাজের কারনেই আমরা এই মুহুর্তে ডেমোগ্রাফিক লভ্যাংশের উপকারিতা উপভোগ করছি। আবার বিশেষজ্ঞরা অন্যভাবে বলবার চেষ্টা করছেন যে কর্মক্ষম যুবসমাজের কারনে আমাদের সামনে এখন অফুরন্ত সুযোগের হাতছানি। যদি যুগপোযোগী নির্দেশনার মাধ্যমে তরুন সমাজকে কার্যকরি নেতৃত্বের গুণাবলী ‍দিয়ে সঠিকভাবে দেশের উন্নয়নে ব্যবহার করা না যায় তাহলে ধরে নেয়া যায় আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা ডেমোগ্রাফিক বিপর্যয়ের সম্মোখীন হতে পারি। আমরা সকলেই অবগত আছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ২০৩০ সালের পূর্বেই জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত হবে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে আমাদের তরুন সমাজকে রাজনৈতিক সচেতনতার বাইরে রেখে রেখে লক্ষ্য অর্জন কতটুকু যুক্তিযোগ্য তা নতুন করে ভাবার দাবী রাখে। এই মূহুর্তে বিশ্বব্যাপী দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক হিসেবে তরুন সমাজকে গড়ে তুলবার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যত্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক আমরা তাকেই বলবো যিনি তিনটি বিষয় মনের গভীরে লালন করেনঃ
  • পরিবর্তনকারী এজেন্ট হিসেবে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন
  • নিজের প্রতি, সমাজের প্রতি, সর্বোপরি দেশের প্রতি তার ভূমিকা সম্পর্কে যথেষ্ঠ জ্ঞান রাখেন
  • দেশে শান্তি, সম্পৃতি বজায় রাখার নিমিত্তে গঠনমূলক কাজে অংশগ্রহন করেন।
বর্তমানে আমরা যদি বাংলাদেশের দিকে নজর দেই তাহলে দেখবো প্রতিটি ক্ষেত্রে ”রাজনীতি” শব্দটি যেন একটি নিষিদ্ধ শব্দ হিসেবে ব্যবহারিত হচ্ছে। সাধারনভাবে এই মুহুর্তে তরুনদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় ”আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কি?” তিনি বিনা চিন্তায় জবাব দেবেন “আমি রাজনীতিকে পছন্দ করি না!” এবং এটিই বাস্তবতা। তবে পরিবারের কেউ কোন দল বা গোষ্ঠির পক্ষে রাজনীতে সক্রিয় থাকলে তার উত্তর কিছুটা ভিন্ন হবে। এখন এরকম একটি প্রেক্ষপট বিদ্যমান যেখানে রাজনৈতিক সচেতন তরুন চিন্তাও করা যায় না। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা রাজনীতির ব্যাপারে আজকের তরুনদের যে দৃষ্টিভঙ্গি সেটা যদি ১৯৪৮ সালে বিদ্যমান থাকতো তাহলে কি স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম?
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা হলো রাজনীতির সাথে বর্তমানে দেশের কোন সংযোগ নেই। যে কারনে রাজনীতি শব্দটি মনে এলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মিছিল, মিটিং, হরতাল, কাদানে গ্যাস, অযৌত্তিক সমালোচনা ইত্যাদি। ভয় বাসা বাধে মনে। কিন্তু আসলে রাজনীতি মানে কি? ইতিহাস ঘেটে আমার স্বল্প জ্ঞানে যতটুকু বুঝেছি তা হলো রাজনীতি মানেই দেশের উন্নয়নের প্রতি সচেতনতা। আর দেশের উন্নয়নের ব্যাপারে সচেতন তিনিই যিনি দায়িত্বশীল নাগরিক। আমরা দেখতে পাই সকলেই মোটমুটি একটি বাক্যই ব্যবহার করতে পছন্দ করেন যে আমি দেশের জন্য কাজ করছি। যদি রাজনৈতিক সচেতন দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়া না যায় তাহলে দেশের উন্নয়নের ব্যাপারে আপনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে পারবেন না যে আর কি করলে দেশের উন্নতি ঘটবে। প্রশ্ন যদি করা না যায় তাহলে সঠিক উত্তর আসবে না। আর উত্তর না আসা মানে হলো আপনার উদ্দ্যেগে যে কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে তা সামগ্রিক অর্থে দেশের কোন প্রয়োজনে আসবে না।
আমাদের এই মুহুর্তে দরকার মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা যার যার অবস্থানে থেকে আগামীর উন্নত বাংলাদেশের জন্য। আর এ ক্ষেত্রে তরুনদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী।

196total visits,5visits today

Share on social media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 6 =